MCB এর গঠন

0
87
mcb এর গঠন

প্রিয় পাঠক আজকে আমরা সার্কিট ব্রেকার (MCB) সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।

মিনিয়েচার সার্কিট ব্রেকার এর সংক্ষিপ্ত রূপ এম.সি.বি. (MCB)। এটি কম ভোল্টেজের বাড়িঘর, শিল্প-কারখানা এবং অফিস আদালতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে এটি ফিউজ ও সুইচের পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে, কেননা এতে এইচ.আর.সি. ফিউজ এবং একটি সুইচের কার্যক্রম একত্রে পাওয়া যায়। স্বাভাবিক অবস্থায় এটি সুইচের ন্যায় কাজ করে কিন্তু অতিরিক্ত লোড বা শর্ট সার্কিট সংগঠিত হলে অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহের দরুন এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রিপ করে বর্তনীকে সরবরাহ হতে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

সার্কিট ব্রেকার এর গঠন

এর ট্রিপিং মেকানিজম তাপীয় চুম্বকীয় অনুভুতি সম্পূর্ণ ডিভাইসের দ্বারা পরিচালিত হয়। মিনিয়েচার সার্কিট ব্রেকার লোহার দন্ডের উপর একটি জড়ানো কয়েল থাকে এবং একটি বাই মেটালিক স্ট্রিপ দ্বারা গঠিত একটি থার্মাল ম্যাগনেটিক প্রোটেকটিভ ইউনিট থাকে এবং একটি হাতল বা নব লাগানো থাকে যার মাধ্যমে স্বাভাবিক অবস্থায় সার্কিটের অন অফ করানো যায়। যখন ব্রেকারের মধ্যদিয়ে স্বাভাবিক এর চেয়ে বেশি কারেন্ট প্রবাহিত হয় তখন বাই মেটালিক পাতটি উত্তপ্ত হয় এবং একদিকে বেকে যায়।

ফলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় যার মাধ্যমে সার্কিট রক্ষা পায়। আবার যখন বাই মেটালিক পাতটি তাড়াতাড়ি উত্তপ্ত হয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ব্যর্থ হয় তখন সলিনয়েডের মধ্য দিয়ে অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহের কারণে একটি শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়। ট্রিপ লিভারকে আকর্ষণ করে। ফলে ব্রেকারটি খুলে যায় এবং সার্কিটকে রক্ষা করে। এ ধরনের ব্রেকার সাধারণত সিঙ্গেল পোল হিসেবেই তৈরি হয়। তবে তিনটি সিঙ্গেল পোল ব্রেকার একত্রে বসিয়ে মাল্টিপোল ব্রেকার তৈরি করা যায়।


এটি সাধারণত ৫, ১০, ১৫, ২০ ও ৩০ অ্যাম্পিয়ার রেটিং হয়ে থাকে। মিনিয়েচার সার্কিট ব্রেকার (MCB) সাধারণত বাড়িঘর, অফিস আদালত, বৈদ্যুতিক অ্যাপ্লায়েন্স, বৈদ্যুতিক মোটর এবং বড় বড় প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন কার সার্কিট ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।

রিনিউয়্যাবল ফিউজের গঠন

রিনিউয়্যাবল ফিউজের তিনটি প্রধান অংশ থাকে। যথা ফিউজ তার, ফিউজ তারের বাহক, তলদেশ বা বেস।

ফিউজ তারঃ সীসা, টিন, সীসা ও টিন মিশ্রিত সংকর ধাতু, কালাই করা তামা এবং অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি ধাতু দ্বারা ফিউজ তৈরি করা হয়। যেসব সার্কিটে কারেন্ট ১০ অ্যাম্পিয়ারের কম সেখানে সীসা, টিন কিংবা সীসা ও টিন মিশ্রত সংকর ধাতু নির্মিত ফিউজ তার ব্যবহার করা যেতে পারে। সার্কিটের কারেন্ট ১০ অ্যাম্পিয়ার অপেক্ষা বেশি হলে তামার ফিউজ তারই ব্যবহার করা উচিত। কারণ এতে গলিত ধাতুর পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম হয়।

ফিউজ তারের বাহকঃ এটি সাধারণত চিনামাটির তৈরি হয়। এর দুই মাথায় দুটি তামা বা পিতলের কন্টাক্ট থাকে যাতে ফিউজ তার বাধা হয়। ফিউজ তার লাগাবার সময় বাহকটিকে হাত দিয়ে খুলে নেওয়া যায়। এটি অপরিবাহী পদার্থের তৈরি বলে লাইন চালু অবস্থায়ও ফিউজ তার নতুন করে লাগানো যায়।

তলদেশ বা বেসঃ ফিউজের বেসটিও সাধারণত চীনামাটি দ্বারা তৈরি করা হয়। এর দুই মাথায় দুটি স্ক্রু লাগিয়ে দেয়ালে বোর্ডের স্থায়ীভাবে একে দেওয়া হয়। এর দুই মাথায় দুটি স্থায়ী কন্টাক্ট টার্মিনাল থাকে যার সাহায্যে একে লাইনের তারের সাথে সংযুক্ত করা হয়। এ ধরনের ফিউজ আংশিক ঢাকা বা সম্পূর্ণ ঢাকা হতে পারে। তবে সম্পূর্ণ ঢাকা ফিউজই নিরাপদ।

Print Friendly, PDF & Email
আগের বিদ্যুৎ বিডিরক্ষণ যন্ত্র
পরের বিদ্যুৎ বিডিআর্থিং এর প্রয়োজনীয়তা
♥রঞ্জন কুমার বর্মণ♥ ইলেক্ট্রিসিটি বিডি এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ২০১৮ সাল থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স শিক্ষাটাকে আরো সহজ করার জন্য অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়ে আসছেন। তিনি পেশায় একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার।

মন্তব্য ত্যাগ করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন।
দয়া করে, আপনার নাম এখানে লিখুন