ব্যালাস্ট এর গঠন

2
162
ব্যালাস্ট

হ্যালো ইঞ্জিনিয়ার গণ ভালো আছেন সবাই। আজকে আপনাদের জন্য বিশেষ একটি জিনিশ এর কাজ নিয়ে হাজির হলাম। সেটা হলো ইলেকট্রনিক ব্যালাস্ট বা চোক কয়েল। কি হলো নামটি শোনা মনে হচ্ছে তো। অনেকে শুনেছি আবার কেউ হয়তো দেখেছি। কিন্তু এটা কিভাবে কাজ করে সেটা জানিনা তাইতো।

তাই ব্যালাস্ট কিভাবে কাজ করে সেটা নিয়ে আজকে আলোচনা করবো


১.১) ভূমিকাঃ

ফ্লুরোসেন্ট ল্যাম্প বা ডিসচার্জ ল্যাম্প সিস্টেম পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত বা সাহায্যকারী কম্পোনেন্ট হিসেবে স্টার্টার ও চোক কয়েল বা ব্যালাস্ট প্রয়োজন হয়। এখানে প্রচলিত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ব্যালাস্ট এর পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ব্যালাস্ট সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

 

১.২) ডিসচার্জ ল্যাম্প সার্কিটে ব্যালাস্টের কাজের বর্ণনাঃ

লোহার লেমিনেটেড কোরের উপর তার প্যাচিয়ে চোক কয়েল বা ব্যালাস্ট তৈরি করা হয়। প্যাঁচানো তার সহ লোহার কোরটি একটি ছোট বাক্সের মধ্যে ঢুকানো থাকে। বাক্সের এক প্রান্ত দিয়ে কয়েলের টার্মিনাল বের করা হয়। এই টার্মিনাল এর মাধ্যমে এটিকে টিউব লাইটের সাথে সিরিজে সংযোগ করা হয়।
ডিসচার্জ ল্যাম্প লাইটের Ballast সাধারণত দুটি কাজ করে, প্রথমত টিউব লাইট সার্কিটের সুইচ অন করার সাথে সাথে এতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রচুর ভোল্টেজ উৎপন্ন হয় যা স্টার্টারের দুই ইলেক্ট্রোডের মাঝখানে ফাকা জায়গা দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত হতে বাধ্য করে অর্থাৎ স্টার্টার চালু হয়।
দ্বিতীয়ত, টিউব জ্বলা অবস্থায় এর ভিতর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্যাসের রেজিস্ট্যান্স যখন ক্রমেই কমতে থাকে তখন এর ভিতর দিয়ে কারেন্ট প্রবাহ ক্রমেই বাড়তে থাকে কিন্তু চোক কয়েল কারেন্টের বৃদ্ধিকে বাধা দিয়ে সীমিত রাখে। এতে প্রচুর পরিমাণে ভোল্টেজ ড্রপ হয়। টিউব জ্বলা অবস্থায় এতে মাত্র ১১০ ভোল্ট দরকার হয়। বাকি ভোল্টেজ চোক কয়েলে ড্রপ হয়। ফলে ভোল্টেজ কমে যাওয়ায় ল্যাম্পের ভিতর দিয়ে অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহিত হয় না।


১.৩)ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ব্যালাস্টের অসুবিধাঃ-
১। বেশি ফ্রিকুয়েন্সিতে ব্যবহার করা যায় না।
২। পাওয়ার লস বেশি হয়।
৩। এর আকার বড়।
৪। এর ওজন বেশি।
৫। এর দাম বেশি।
৬। ফ্লিকারিং সমস্যা সৃষ্টি হয়।
৭। কোন প্রকার প্রটেকশন ব্যবস্থা নেই।
৮। Power Fector কারেকশনের প্রয়োজন হয়।

১.৪) ইলেকট্রনিক ব্যালাস্টের সাধারণ ব্লক ডায়াগ্রাম আলোচনা ঃ-

EMI Filter:- emi ফিল্টারের ইনপুটে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হয়। ফ্লুরেসেন্ট ল্যাম্প ব্যবহারের ক্ষেত্রে EMI হতে পারে যা বিভিন্ন রকমের সমস্যার সৃষ্টি করে।
ব্রিজ রেকটিফায়ারঃ- 
EMI মুক্ত ইনপুট এসি ভোল্টেজকে ব্রিজ রেকটিফায়ারের মাধ্যমে ডিসি ভোল্টেজে রূপান্তর করে।
Power Factor Correction:- 
সঠিক মানের পাওয়ার ফ্যাক্টরে ল্যাম্পকে চালানার জন্য পাওয়ার ফ্যাক্টর কারেকশন ইউনিট ব্যবহার করা হয়।
Frequency Inverter:-
ব্রিজ রেকটিফায়ার থেকে প্রাপ্ত ডিসিকে একটি ডিসি হাই ফ্রিকুয়েন্সি ইনভার্টারের মাধ্যমে এসিতে রূপান্তর করা হয়।
Resonant Filter:-
রেজোন্যান্ট ফিল্টার এর মাধ্যমে ইনভারটার থেকে প্রাপ্ত ভোল্টেজকে সঠিকভাবে ফিল্টারিং করে এসিকে আউটপুটে প্রদান করা হয়।
Print Friendly, PDF & Email

2 মন্তব্য

মন্তব্য ত্যাগ করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন।
দয়া করে, আপনার নাম এখানে লিখুন