প্রিয় পাঠক আজকে আমরা ইলেকট্রিক্যাল সার্কিটের একেবারে শুরুর দিকের কিছু প্যারামিটার সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। যে বিষয় গুলো হয়তো কেউ জানি আবার কেউ হয়তো জানিনা। যারা জানিনা তাদের জন্যই আজকে আমার এই আর্টিকেল শেয়ার করলাম। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক সার্কিট প্যারামিটার সম্পর্কে।

বৈদ্যুতিক সার্কিটে যে সকল উপাদান ব্যবহার করা হয় তাদেরকে সার্কিট প্যারামিটার বলে। প্রত্যেকটি Circuit প্যারামিটার এর নির্দিষ্ট কাজ রয়েছে। যেমন, হিটারের রেজিস্ট্যান্স এর জন্য তাপ উৎপন্ন হয়, মোটরে ইন্ডাক্ট্যান্সের জন্য ঘূর্ণন শক্তি উৎপন্ন হয় ও ক্যাপাসিটর ইলেকট্রিক চার্জ সঞ্চয় করে। এসি সার্কিটে ক্যাপাসিটর পাওয়ার ফ্যাক্টর উন্নয়নের কাজ করে। উৎস অনুসারে ইলেক্ট্রিক সার্কিট দুই প্রকার। যথাঃ- (ক) ডিসি সার্কাস (খ) এসি সার্কিট। বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রিক সার্কিটে ৩ টি প্যারামিটার ব্যবহার করা হয় যথাঃ

আরো জানুন>>>তার বিহীন বিদ্যুৎ সম্পর্কে

  1. রেজিস্ট্যান্স- বাল্ব, হিটার
  2. ইন্ডাক্ট্যান্স- মোটর, ইন্ডাক্টর
  3. ক্যাপাসিট্যান্স- সিনক্রোনাস কনডেনসার।

এসিতে রেজিস্ট্যান্স, ইন্ডাক্ট্যান্স এবং ক্যাপাসিট্যান্স ব্যবহৃত হয়। উক্ত ধরনের Circuit প্যারামিটার এর মধ্যে ডিসিতে রেজিস্ট্যান্স তবে এসিতে রেজিস্ট্যান্স, ইন্ডাকট্যান্স এবং ক্যাপাসিট্যান্স জনিত সম্মিলিত বাধাকে ইম্পিডেন্স বলে। সুতরাং ইম্পিডেন্সকেও সার্কিট প্যারামিটার হিসাবে বিবেচনা করা যায়।


সার্কিট প্যারামিটার বর্ণনাঃ

রেজিস্ট্যান্সঃ কোন পরিবাহী পদার্থের যে ধর্মের ফলে এর ভিতর দিয়ে প্রবাহিত কারেন্ট বাধা পায় তাকে রেজিস্ট্যান্স বলে। একে সাধারণত “R” দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এর মান পদার্থের দৈর্ঘ্য, ক্ষেত্রফল ও পদার্থের গুণাগুণের উপর নির্ভরশীল।

ইন্ডাকট্যান্সঃ কোন কয়েলের এমনই একটি বৈশিষ্ট্য বা ধর্ম যা এর মধ্যদিয়ে কারেন্ট বা ফ্লাক্সের যেকোন ধরনের পরিবর্তনে বাধা প্রদান করে। একে “L” দ্বারা প্রকাশ করা হয়। ইন্ডাকট্যান্স দুই প্রকার যথাঃ- (ক) সেল্ফ ইন্ডাকট্যান্স (খ) মিউচুয়াল ইন্ডাকট্যান্স।

ক্যাপাসিট্যান্সঃ দুটি পরিবাহী পদার্থকে কোন অপরিবাহী পদার্থ দ্বারা পৃথক করে এতে সরবরাহ দিলে এটি চার্জ সঞ্চয় করতে পারে। উক্ত পরিবাহী ও অপরিবাহী পদার্থের সমন্বয়ে যে সার্কিট প্যারামিটার তৈরি হয় তাকে ক্যাপাসিটর বলে। ক্যাপাসিটর এর চার্জ সঞ্চয় করে রাখার বৈশিষ্ট্য বা ধর্মকে ক্যাপাসিট্যান্স বলে। একে “C” দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

আসলে উক্ত তিনটি যন্ত্রাংশ হচ্ছে প্যারামিটার। আমরা সচরাচর এই তিনটি যন্ত্রাংশ চোখে দেখি আবার ব্যবহারও করে থাকি। প্রায় ৯০% সার্কিট বোর্ডে এই তিনটি যন্ত্রাংশ উপস্থিত থাকে।

Previous articleব্যালাস্ট এর গঠন
Next articleঅল্টারনেটর এর মূলনীতি
♥রঞ্জন কুমার বর্মণ♥ ইলেক্ট্রিসিটি বিডি এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ২০১৮ সাল থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স শিক্ষাটাকে আরো সহজ করার জন্য অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়ে আসছেন। তিনি পেশায় একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here