প্রিয় পাঠক অল্টারনেটর সম্পর্কে ইতিপূর্বে আমরা জেনেছি, অল্টারনেটর এর গঠন, অল্টারনেটর এর মূলনীতি, অল্টারনেটর প্যারালাল অপারেশন, অল্টারনেটর এর ই.এম.এফ সংযোগ ইত্যাদি ইত্যাদি। আজকে আমরা জানবো অল্টারনেটরের উপর লোডের প্রভাব অর্থাৎ অল্টারনেটর লোড শূন্য অবস্থায় কি আচরণ এবং লোডযুক্ত অবস্থায় কি আচরণ করে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।

অল্টারনেটরের লোড শূন্য অবস্থা


Alternator কে যদি কোন লোডের সাথে যুক্ত না করে প্রাইম মুভারের সাহায্যে সিনক্রোনাস গতিতে চালানো হয়, তাহলে অল্টারনেটরটি লোড শূন্য অবস্থায় রয়েছে বলা হয়। এ অবস্থায় নির্দিষ্ট ফিল্ড এক্সাইটেশনের জন্য লোড প্রান্তে একটি খোলা বর্তনী Voltage পাওয়া যায়। একে Open Circuit বা নো-লোড Voltage বলা হয়। Alternator যতক্ষণ Load শূন্য থাকে ততক্ষণ নো-লোড ভোল্টেজ Eg এর সমান হয়। কিন্তু লোড সংযোগের সাথে লোড প্রান্তে পূর্বাপেক্ষা কম Voltage পাওয়া যায়। লোড শূন্য অবস্থায় মেশিনে প্রধানত তিন ধরনের শক্তির অপচয় হয়ে থাকে। ঘর্ষণজনিত শক্তির অপচয়, এডি কারেন্ট জনিত শক্তির অপচয়, হিসটেরেসিস জনিত শক্তির অপচয়।

>>আরো জানুন>>ট্রান্সমিশন লাইনে ওভার ভোল্টেজের কারণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে

লোডযুক্ত অবস্থায় অল্টারনেটর


Alternator এর আর্মেচার টার্মিনাল খোলা রেখে তার ফিল্ড বা রোটরে এক্সাইটারের সাহায্যে DC Supply দিয়ে রোটরকে Synchronous গতিতে ঘুরালে আর্মেচার ভোল্টেজ উৎপন্ন হয়। রোটরে রেটেড এক্সাইটেশন ভোল্টেজ প্রয়োগ করলে অল্টারনেটররের আর্মেচার বা স্টেটর টার্মিনালে রেটেড ভোল্টেজ পাওয়া যায়। যেহেতু আর্মেচার টার্মিনাল খোলা সেহেতু আর্মেচার দিয়ে কোন কারেন্ট প্রবাহিত হবে না। অল্টারনেটর এর এই অবস্থাকে নো লোড অবস্থা বলে। কোন নো-লোড অল্টারনেটরের আর্মেচারের সাথে যখন লোডযুক্ত করা হয় তখন উক্ত অল্টারনেটরকে লোডযুক্ত অল্টারনেটর বলে। লোড যুক্ত অল্টারনেটরের আর্মেচার দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত হয়। এই আর্মেচার কারেন্ট প্রবাহের জন্য এতে তিন ধরনের Voltage ড্রপ হয় ফলে আর্মেচারের টার্মিনাল Voltage পরিবর্তন হয়ে যায়, Voltage ড্রপ গুলো হল– (ক) আর্মেচার রেজিস্টিভ ড্রপ, (খ) আর্মেচার লিকেজ রিয়্যাক্ট্যান্স ড্রপ, (গ) আর্মেচার রিয়্যাকশন রিয়্যাক্ট্যান্স ড্রপ।

অল্টারনেটরের উপর রেজিস্ট্যান্স এবং লিকেজ রিয়্যাকট্যান্সের প্রভাব


অল্টারনেটরের আর্মেচার কয়েলের রেজিস্ট্যান্সকে আর্মেচার রেজিস্ট্যান্স Ra বলে। প্রতি ফেজের আর্মেচার রেজিস্ট্যান্স Ra এর মধ্য দিয়ে ia কারেন্ট প্রবাহিত হওয়ায় তাতে রেজিস্টিভ ড্রপ হবে iaRa যা কারেন্টের সাথে ইনফেজে থাকে Ra এর মান খুব কম হওয়ায় রেজিস্টিভ ড্রপ iaRa নগণ্য হয়। রেজিস্টিভ ড্রপের জন্য অল্টারনেটরের টার্মিনাল Voltage কমে যায়। আবার রোধের জন্য কপারলস হয় যা দক্ষতা কমায়।

আর্মেচার লিকেজ রিয়্যাকট্যান্সঃ অল্টারনেটরের আর্মেচার দিয়ে যখন Current প্রবাহিত হয় তখন তাতে ফ্লাক্সের সৃষ্টি হয়। এই আর্মেচার ফ্লাক্সের একটি অংশ বাতাসের মাধ্যমে আর্মেচার বা আর্মেচার কন্ডাক্টরের মাধ্যমেই সম্পূর্ণ পথ তৈরি করে। এই ফ্লাক্সকে আর্মেচার লিকেজ ফ্লাক্স বলে। লিকেজ ফ্লাক্সের কারণে আর্মেচারে একটি Voltage উৎপন্ন হয় যা লেঞ্জের সূত্রানুসারে মূল ভোল্টেজের বিরুদ্ধাচরণ করে বা মূল ভোল্টেজকে বাধা দেয়। একে আর্মেচার লিকেজ রিয়্যাকট্যান্স ই.এম.এফ বলে। এই ভোল্টেজের কারণে আর্মেচারে উৎপন্ন ভোল্টেজের পরিমাণ কমে যায় এই জন্য এই ভোল্টেজকে আর্মেচার লিকেজ রিয়্যাকট্যান্স ড্রপ বলে। আর্মেচার লিকেজ ফ্লাক্সের কারণে সেলফ ইন্ডাকট্যান্সের সৃষ্টি হয়। এই সেলফ ইন্ডাকট্যান্স জনিত বাধাকে লিকেজ রিয়্যাকট্যান্স বলে।

প্রিয় পাঠক এই ছিল মূলত অল্টারনেটর এর উপর লোডের প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা। পরবর্তী আর্টিকেল থাকবে অল্টারনেটরের ই.এম.এফ এর উপর আর্মেচারের রিয়্যাকশনের প্রভাব সম্পর্কে।

Facebook Comments