প্রিয় পাঠক আজকে আমরা ট্রান্সফরমার এর ওপেন সার্কিট টেস্ট বা নো-লোড টেস্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।

ট্রান্সফরমারের বিভিন্ন প্রকার টেস্ট

ট্রান্সফরমারের যে কোন একদিক খোলা রেখে অন্যদিকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরিমাপক যন্ত্রপাতি সংযোগ করে ট্রান্সফরমারের রেটেড স্বাভাবিক পূর্ণ ভোল্টেজ ও ফ্রিকুয়েন্সি প্রয়োগে যে টেস্ট করা হয় তাকে ওপেন সার্কিট টেস্ট বলে। লো ভোল্টেজ সাইডে অ্যামিটার, ভোল্টমিটার এবং ওয়াটমিটার সংযোগ করা হয়। তাছাড়া লো ভোল্টেজ সাইডে আরোপিত ভোল্টেজ ট্রান্সফরমারের রেটেড মানে বজায় রাখার জন্য একটি ভ্যারিয়্যাক বা ভোল্টেজ রেগুলেটরও সংযোগ করা হয়। এ রেটেড সাপ্লাই এর ফলে সার্কিটে সংযুক্ত ভোল্টমিটার রেটেড ভোল্টেজ, অ্যামিটারে নো লোড কারেন্ট এবং ওয়াটমিটারে পাওয়ার লস ধরা পড়ে।

এ নো লোড কারেন্টের পরিমাণ খুবই কম, এর পরিমাণ ফুল লোড কারেন্টের ৩% হতে ৫% হয়ে থাকে। ওপেন সার্কিট টেস্টে ওয়াটমিটার যে পাঠ দেখায় তা কোর লস হিসাবে বিবেচিত হয়। কারণ এ অবস্থায় সেকেন্ডারিতে কোন লোড থাকে না এবং স্বাভাবিক মিউচুয়াল ফ্লাক্স কোরে প্রতিষ্ঠিত হয়। কোর লস মোটামুটিভাবে মিউচুয়াল ফ্লাক্সের বর্গের সমানুপাতিক। প্রাইমারিতে উচ্চমানের ইম্পিডেন্সের কারণে নো-লোড কারেন্ট খুবই কম থাকে বিধায় কপার লসকে উপেক্ষা করা যায়। সুতরাং ওয়াট মিটার রিডিং সম্পূর্ণটাই কোর লস হিসেবে ধরা হয়। এ লসের মধ্যে হিস্টেরেসিস লস ও এডি কারেন্ট লস আছে। এ ধরনের সংযোগে অবশ্য ওয়াটমিটারের নিজস্ব ভোল্টেজ কয়েল এবং ভোল্টমিটারের কয়েলে যে পাওয়ার লস হয় তাও ওয়াটমিটারের রিডিং এ এসে পড়ে।ট্রান্সফরমার ওপেন সার্কিট টেস্ট

এজন্য সঠিক কোর লস পেতে হলে ওয়াটমিটারের প্রাথমিক পাঠ লিপিবদ্ধ করে রাখতে হবে। এরপর চিত্রে “X” চিহ্নিত স্থানকে বিযুক্ত করে পুনরায় ওয়াটমিটার পাঠ নিতে হবে। এবার প্রথম পাঠ হতে দ্বিতীয় পাঠ বিয়োগ করলেই সঠিক কোর লস পাওয়া যাবে। ছোট ছোট ট্রান্সফরমারে এধরনের ত্রুটি বেশি হয়। এজন্য উপরোক্ত পদ্ধতিতে সঠিক কোর লস নির্ণয় করা উচিৎ। ওপেন সার্কিট টেস্টে যে নো লোড কারেন্ট প্রবাহিত হয় তার দুটি কম্পোনেন্ট থাকে যা Iμ এবং Iw অর্থাৎ একটি ম্যাগনেটাইজিং কারেন্ট ও অপরটি ওয়ার্কিং কারেন্ট।

কোর লস Wc=Wi=V¹I০cosθ০
cosθ০=Wi/V¹I০
নো-লোড কারেন্টের দুটি উপাংশ, তা হল
Iμ=I০sinθ০, Iw=I০cosθ০
এবং I০=√(I০sinθ০)²+(I০cosθ০)² বা io²=iw²+iμ²

এ টেস্টের সময় অনেক ক্ষেত্রে সেকেন্ডারি সাইড খোলা না রেখে হাই রেঞ্জের ভোল্টমিটার সংযুক্ত করা হয় এবং এর সাহায্যে ট্রান্সফরমেশন রেশিও বের করা যায়।

ওপেন সার্কিট টেস্ট থেকে প্রাপ্ত তথ্য

এ টেস্ট থেকে নিম্নলিখিত তথ্য পাওয়া যায়

  1. কোর লস (এডি কারেন্ট লস এবং হিস্টেরেসিস লস)
  2. নো লোড কারেন্ট
  3. ম্যাগনেটাইজিং কারেন্ট
  4. ওয়ার্কিং কারেন্ট
  5. কোর লস রেজিস্ট্যান্স
  6. কোর লস রিয়্যাক্ট্যান্স
  7. নো লোড পাওয়ার ফ্যাক্টর
  8. ট্রান্সফরমেশন রেশিও
Open সার্কিট টেস্ট থেকে ওয়াটমিটার শুধু কোর লস নির্দেশ করে

ওপেন সার্কিট টেস্টের সময় হাই ভোল্টেজ সাইড ওপেন থাকে, তাছাড়া ট্রান্সফরমার কয়েল গুলো ইন্ডাকটিভ এবং প্রাইমারি উচ্চমানের ইম্পিডেন্সের কারণে নো লোড কারেন্টের পরিমাণ খুবই কম হয়, রেটেড কারেন্টের ৩% থেকে ৫%। যার ফলে কোর লসের পরিমাণ কোর লসের তুলনায় খুবই কম এবং উপেক্ষা করা চলে। কোরে রেটেড সাপ্লাই ভোল্টেজের জন্য স্বাভাবিক মিউচুয়াল ফ্লাক্স প্রতিষ্ঠা হয়। কোর লস আবার মোটামুটিভাবে মিউচুয়াল ফ্লাক্সের বর্গের সমানুপাতিক। সুতরাং ওয়াটমিটার শুধু কর লস নির্দেশ করে।

Open সার্কিট টেস্টের সময় সতর্কতা

  1. কাজের সুবিদার্থে হাই সাইড খোলা রেখে লো সাইডে লো রেঞ্জের পরিমাপক যন্ত্রপাতি সংযোগ করতে হবে।
  2. লো সাইডে ভেরিয়্যাক বা ভোল্টেজ রেগুলেটরের সাহায্যে ট্রান্সফরমারের রেটেড ভোল্টেজ প্রয়োগ সবসময় ঠিক রাখতে হবে।
  3. খোলা সাইডের টার্মিনাল দ্বয় ভালোভাবে ইনসুলেট করতে হয়। যদি হাই সাইডে ভোল্টমিটার সংযোগ করা হয় তবে সেটা যেন উচ্চ রেঞ্জের হয়।
  4. ওয়াটমিটারের প্রেসার কয়েল এবং ভোল্টমিটার সার্কিটে এমনভাবে সংযোগ করতে হয় যাতে এদের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত কারেন্ট কোন অবস্থায়ই অ্যামিটার ও ওয়াটমিটারের কারেন্ট কয়েলের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত না হয়।
  5. ছোট ছোট ট্রান্সফরমারের ক্ষেত্রে ওয়াট মিটারের নিজস্ব ভোল্টেজ কয়েল এবং সার্কিটে সংযুক্ত ভোল্টমিটারের কয়েলে যে পাওয়ার লস হয় তার জন্য সঠিক পদ্ধতিতে কোর লস নির্ণয় করতে হয়।

প্রিয় পাঠক এই ছিল ট্রান্সফরমার ওপেন সার্কিট টেস্ট বা নো লোড টেস্ট।

Facebook Comments