ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন প্রশ্ন ও উত্তর আজকের পর্ব-১

0
158
ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন

প্রিয় পাঠক আজকে আমরা ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন লাইনের ২৫ টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর সম্পর্কে জানবো। যা চাকরী পরিক্ষায় এবং ভাইবাতে প্রশ্ন করা হয়।

(১) ট্রান্সমিশন সিস্টেম কি?

উত্তরঃ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে উচ্চ পাওয়ার পরিবহণের জন্য উচ্চ ভোল্টেজের বিশাল লাইন গড়ে তোলা হয়, তাকে ট্রান্সমিশন সিস্টেম বা ট্রান্সমিশন লাইন বলে।

(২) ডিস্ট্রিবিউশন লাইন কাকে বলে?

উত্তরঃ গ্রাহক পর্যায়ে অর্থাৎ দোকানপাঠ, বাড়িঘর, শিল্প কারখানা প্রভৃতি স্থানে বৈদ্যুতিক পাওয়ার পৌছে দেওয়া বা বিতরণের জন্য যে সার্কিট বা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়, তাকে ডিস্ট্রিবিউশন লাইন বা বিতরণ লাইন বলে।

(৩) বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলোর জেনারেটিং ভোল্টেজ কত?

উত্তরঃ জেনারেটিং ভোল্টেজ (ক) ৬.৫ কেভি (খ) ১০.৫ কেভি (গ) ১১ কেভি (ঘ) ১৫.৭৫ কেভি

(৪) বাংলাদেশে কোথায় ১৫.৭৫ কেভি উৎপন্ন হয়?

উত্তরঃ বাংলাদেশে ঘোড়াশাল ২১০ মেগাওয়াট ইউনিটে জেনারেটিং ভোল্টেজ ১৫.৭৫ কেভি উৎপন্ন হয়।

(৫) ফ্রিকুয়েন্সি উঠানামা কত মানের থাকা উচিত?

উত্তরঃ ফ্রিকুয়েন্সির উঠানামা সর্বোচ্চ ২.৫% এর মধ্যে থাকা উচিত।

(৬) বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পরিবহণ ও বিতরণ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত স্ট্যান্ডার্ড ভোল্টেজ কত?

উত্তরঃ পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ভোল্টেজ; প্রাইমারি পরিবহন ভোল্টেজের ক্ষেত্রে ১৩২ কেভি, ২৩০ কেভি ও সেকেন্ডারি পরিবহণ ভোল্টেজের ক্ষেত্রে ৬৬ কেভি, ৩৩ কেভি
এবং বিতরণ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ভোল্টেজ ; প্রাইমারি বিতরণ ভোল্টেজের ক্ষেত্রে ৩.৩ কেভি ৬.৬ কেভি, ১১ কেভি আর সেকেন্ডারি বিতরণ ভোল্টেজের ক্ষেত্রে ৪০০/২৩০ কেভি

(৭) বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ট্রান্সমিশন ভোল্টেজ কত?

উত্তরঃ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ট্রান্সমিশন ভোল্টেজ ৪০০ কেভি।

(৮) ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম কাকে বলে?

উৎপাদন কেন্দ্র হতে গ্রাহক পর্যায় পর্যন্ত বিদ্যুৎ পৌঁছাতে পরিবাহী তারের যে এক বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠে, সেই নেটওয়ার্ককে বলা হয় ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম।

(৯) ফিডার লাইন কি?

ফিডার হল উচ্চ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র হতে নিম্ন চাপের বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের মধ্যে সংযুক্ত বৈদ্যুতিক লাইন।

(১০) সর্বোচ্চ মিতব্যয়ী ট্রান্সমিশন ভোল্টেজের সূত্রটি লিখ।

উত্তরঃ সর্বোচ্চ মিতব্যয়ী ট্রান্সমিশন ভোল্টেজ= ৫.৫x

(১১) গ্রীড সিস্টেম কি?

উত্তরঃ এটি এক প্রকার আন্তঃবিদ্যুৎ পরিবহণ ব্যবস্থা, যার সাহায্যে সহজে প্রয়োজন অনুসারে বিদ্যুৎ পরিবহণ ও বিতরণ করা যায়।

(১২) কেলভিনের সূত্রে শক্তি পরিবহণের মোট খরচকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?

উত্তরঃ এই সূত্রে শক্তি পরিবহণের মোট খরচকে দুটি ভাগে ভাগ করা করা যায় ; (ক) মূলধনের উপর বার্ষিক চার্জ (খ) বার্ষিক শক্তির অপচয় জনিত খরচ।

(১৩) তিন ফেজ তিন তার পদ্ধতিতে কয় ধরণের সংযোগ দেওয়া যায়?

উত্তরঃ দুই ধরনের সংযোগ দেওয়া যায়, যথাঃ (ক) স্টার সংযোগ (খ) ডেল্টা সংযোগ

(১৪) ডিস্ট্রিবিউটর কতপ্রকার?

সরবরাহের উপর ভিত্তি করে ডিস্ট্রিবিউটর প্রধানত দুই প্রকার, যথা; (ক) এসি ডিস্ট্রিবিউটর (খ) ডিসি ডিস্ট্রিবিউটর

(১৫) ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশনের জন্য সর্বাপেক্ষা ভালো পদ্ধতি কি?

সর্বাপেক্ষা ভালো পদ্ধতি হলো উৎপাদন ও বিতরণের জন্য এসি ব্যবস্থা এবং ট্রান্সমিশনের জন্য ডিসি সিস্টেম ব্যবহার করা।

(১৬) জেনারেটিং স্টেশন কাকে বলে?

যেখানে তিন ফেজ অল্টারনেটর গুলো প্যারালাল সংযোগ অবস্থায় ইলেক্ট্রিক পাওয়ার উৎপন্ন করে, তাকে জেনারেটিং স্টেশন বলে।

(১৭) প্রাইমারি ট্রান্সমিশন কাকে বলে?

যে পদ্ধতিতে ইলেক্ট্রিক পাওয়ার ১৩২ কেভি তিন ফেজ তিন তার সিস্টেমে উৎপত্তিস্থল হতে শহরের শেষ সীমায় প্রেরণ করা হয়, তাকে প্রাইমারি ট্রান্সমিশন বলে।

(১৮) সেকেন্ডারি ট্রান্সমিশন কাকে বলে?

যে পদ্ধতিত্র রিসিভিং স্টেশনে আগত প্রাইমারি ট্রান্সমিশন লাইন হতে ইলেক্ট্রিক পাওয়ার ৩৩ কেভি তিন ফেজ তিন তার ওভারহেড সিস্টেমে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত সাব স্টেশনে প্রেরণ করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি ট্রান্সমিশন বলে।

(১৯) প্রাইমারি ডিস্ট্রিবিউশন কাকে বলে?

সেকেন্ডারি ট্রান্সমিশন লাইনের শেষ সীমায় অবস্থিত সাব-স্টেশনের যেখানে ভোল্টেজ ৩৩কেভি থেকে কমিয়ে ১১কেভি তিন ফেজ তিন তার পদ্ধতিতে শহরের রাস্তা বরাবর ওভারহেড লাইন যোগে প্রেরণ করা হয়, তাকে প্রাইমারি ডিস্ট্রিবিউশন বলে।

(২০) সেকেন্ডারি ডিস্ট্রিবিউশন কাকে বলে?

যে পদ্ধতিতে ১১ কেভি প্রাইমারি ডিস্ট্রিবিউশন লাইন হতে শহরের বিভিন্ন লোকালয়ে বা এলাকায় অবস্থিত ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার মারফত ভোল্টেজকে কমিয়ে ৪০০/২৩০ ভোল্ট তিন ফেজ চার তার সিস্টেমে বিভিন্ন গ্রাহককে সরবরাহ দেওয়ার জন্য নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি ডিস্ট্রিবিউশন বলে।

(২১) ফিডার কাকে বলে?

বিভিন্ন জনবহুল এলাকা, শিল্পাঞ্চল বা আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য উচ্চ ভোল্টেজ উপকেন্দ্র বা গ্রীড উপকেন্দ্র হতে বিভিন্ন লোড সেন্টারে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রদানের নিমিত্তে যে বৈদ্যুতিক লাইন নির্মিত হয়, তাকে ফিডার বলে।

(২২) ফিডার লাইনের বৈশিষ্ট্য কি?

ফিডার লাইনের বৈশিষ্ট্য হল; (ক) ফিডারে কোন ট্যাপিং পয়েন্ট থাকে না (খ) কারেন্ট ডেনসিটি সর্বত্র সমান থাকে (গ) কারেন্ট ক্যাপাসিটির উপর ভিত্তি করে ফিডার ডিজাইন করা হয় (ঘ) ভোল্টেজ ড্রপকে তত গুরুত্ব দেয়া হয় না।

(২৩) ডিস্ট্রিবিউটরের বৈশিষ্ট্য কি?

ডিস্ট্রিবিউরের বৈশিষ্ট্য হল; (ক) এতে ট্যাপিং পয়েন্ট থাকে (খ) কারেন্ট ডেনসিটি সর্বত্র সমান নয় (গ) লাইনের উভয় প্রান্তে ভোল্টেজ প্রায়শই অসমান থাকে (ঘ) লাইনের ভোল্টেজ ড্রপ হয়।

(২৪) ওভারহেড লাইনে কপারের তুলনা করার ক্ষেত্রে কি কি বিষয় বিবেচনা করা হয়?

কপার সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে যে সকল বিষয় বিবেচনা করা হয় তা হল; (ক) উভয় সিস্টেমে পরিবহণকৃত পাওয়ার সমান (খ) ট্রান্সমিশন লাইনের দূরত্ব সমান (গ) অপচয় সমান (ঘ) সর্বোচ্চ ভোল্টেজ সমান।

(২৫) ট্রান্সমিশন ভোল্টেজ বৃদ্ধি পেলে কি কি সুবিধা হয়?

ট্রান্সমিশন ভোল্টেজ বৃদ্ধি পেলে নিম্নোক্ত সুবিধা পাওয়া যায় (ক) পরিবাহীর আয়তন কম লাগে (খ) দক্ষতা বৃদ্ধি পায় (গ) ভোল্টেজ ড্রপ কম হয় এবং (ঘ) সর্বোপরি ভোল্টেজ রেগুলেশন ভালো হয়।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য ত্যাগ করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন।
দয়া করে, আপনার নাম এখানে লিখুন