ইনসুলেটর এবং এদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সহজ ভাষায় বিস্তারিত আলোচনা

0
191
ইনসুলেটর এবং এদের বৈশিষ্ট্য

প্রিয় পাঠক আজকে আমরা ইনসুলেটর সম্পর্কে আলোচনা করবো।

ভারহেড লাইনে বহু ধরনের ইনসুলেটরের ব্যবহার প্রচলন আছে। ইনসুলেটরের কাজ হল লাইনের তারগুলিকে ক্রস আর্ম এবং পোল বা টাওয়ার থেকে আলাদা করে রাখা যাতে তারগুলি আর্থের সংস্পর্শে না আসে। ইনসুলেটর ব্যবহার করার জন্যই কোন লিকেজ কারেন্ট সাপোর্ট হয়ে আর্থে যেতে পারেনা। এজন্য ইনসুলেটরগুলি ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কাজেই বলা যায়, ওভারহেড লাইন কন্ডাকটরকে ধরে রাখা এবং টাওয়ারের অন্যান্য ধাতব অংশ যেমন ক্রস আর্ম ইত্যাদি হতে কন্ডাকটরকে বিচ্ছিন্ন রাখার জন্য যে অপরিবাহী বস্তু ব্যবহার করা হয়, তাকে ইনসুলেটর বলে।

বিভিন্ন ধরন এর ইনসুলেটরঃ (ক) শ্যাকল বা রীল বা স্পুল ইনসুলেটর, ( খ) পিন ইনসুলেটর, (গ) সাসপেনশন ইনসুলেটর, (ঘ) স্ট্রেইন ইনসুলেটর, (ঙ) পোস্ট ইনসুলেটর, (চ) স্টে বা গাই ইনসুলেটর

ইনসুলেটরের উপাদান বর্ণনাঃ (ক) পোর্সিলিন বা চীনামাটি, (খ) গ্লাস, (গ) স্টিয়েটাইট, (ঘ) পাইরেক্স,
এদের মধ্যে চীনামাটি ইনসুলেটর অধিক পরিমাণে ব্যবহার করা হয়।

(ক) পোর্সিলিন বা চীনামাটিঃ পোর্সিলিন ইনসুলেটর তৈরিতে অতিরিক্ত উষ্ণতায় ফায়ারিং করে ক্যাওলিন, ফেন্ডস্পার এবং কোয়ার্টজ মিশ্রিত করা হয়। এটি যান্ত্রিকভাবে গ্লাস ইনসুলেটরের চেয়ে বেশ শক্ত এবং লিকেজ, তাপমাত্রার পরিবর্তন, ধুলাবালির আস্তরণ ইত্যাদির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত। তবে অসুবিধা হল যে, এটি গ্লাস ইনসুলেটরের ন্যায় খুব বেশি সমসত্ব হয় না।

(খ) গ্লাসঃ গ্লাস চীনামাটির চেয়ে দামে সস্তা ও সহজে আকৃতি দেওয়া যায়। প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দৃঢ়তা ও পাইন দিয়ে এর ডাই-ইলেক্ট্রিক স্ট্রেংথ ও আপেক্ষিক রোধ বাড়ানো যায়। উচ্চ ডাই-ইলেক্ট্রিক স্ট্রেংথ বিশিষ্ট হওয়ার কারণে সহজ ডিজাইন ও একক ইউনিটের ইনসুলেটর তৈরি করা যায়। এর সমসত্ব পদার্থ এবং চাপ সহনক্ষমতা চীনামাটি ইনসুলেটরের তুলনায় বেশি। গ্লাস স্বচ্ছ বলে অভ্যন্তরীণ ফাটল বা যে কোন দোষনীয় দাগ দেখা দিলে তা সহজে ধরা পরে।

(গ) স্টিয়েটাইটঃ স্টিয়েটাইট প্রকৃতিগতভাবে ম্যাগনেসিয়াম সিলিকেটে পাওয়া যায়। এই ম্যাগনেসিয়াম সিলিকেটে বিভিন্ন অনুপাতে ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড মিশ্রিত থাকে। চীনামাটির তুলনায় এর টেনসাইল শক্তি ও বেন্ডিং স্ট্রেস বেশি। সে কারণে টেনশনযুক্ত টাওয়ারে তীক্ষ্ণ বক্রতায় Insulator হিসাবে বেশ ভালো কাজ করে। লো ভোল্টেজ লাইনে ব্যবহারের জন্য স্টিয়েটাইটের সাথে বিশেষ ধরনের কৃত্রিম পদার্থ মিশিয়ে এই Insulator প্রস্তুত করা হয়।

(ঘ) পাইরেক্সঃ এটা এক বিশেষ ধরনের কাচ। এই পারেক্স দিয়ে এক প্রকার কাচের Insulator তৈরি করা হয়। এগুলি অপেক্ষাকৃত সস্তা। তবে এগুলি সাধারণত ১১ কেভির উপরে ব্যবহার করা হয় না।

ইনসুলেটরের উপাদানের গুণাগুণঃ

  • যান্ত্রিকভাবে শক্ত হওয়া প্রয়োজন যাতে কন্ডাকটরের ওজন ও বাতাসের চাপ সহ্য করতে পারে।
  • উচ্চমানের রোধ সম্পন্ন হওয়া উচিত যাতে লিকেজ কারেন্ট প্রবাহিত হতে না পারে।
  • রিলেটিভ পারমিটিভিটি উচ্চমানের হওয়া উচিত, যাতে ডাই-ইলেক্ট্রিক শক্তি বেশি হয়।
  • ইনসুলেটর পদার্থ ছিদ্রযুক্ত হওয়া উচিত নয়।
  • Insulator অভ্যন্তরীণ দোষমুক্ত হওয়া উচিত, এতে কোন ধরনের ফাটল, আচড়, ভেজাল পদার্থ ইত্যাদি থাকা উচিত নয় কারণ এগুলি থাকলে পারমিটিভিটি নিম্নমানের হয়।
  • পাংচার ভোল্টেজ ও স্পার্ক ওভার ভোল্টেজের অনুপাত উচ্চমানের হওয়া উচিত।
  • তাপমাত্রা পরিবর্তনজনিত কারণে যেন এর কোন প্রতিক্রিয়া না হয়।
  • Insulator তৈরির সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন কোন গ্যাস বা তরল পদার্থ প্রবেশ করতে না পারে।

ইনসুলেটর পরিক্ষার করার বিভিন্ন পদ্ধতিঃ

  1. ফ্লাশ ওভার টেস্ট
  2. পারফরমেন্স টেস্ট
  3. রুটিন টেস্ট
  4. ৫০ সাইকেল ড্রাই ফ্লাশ ওভার টেস্ট
  5. ৫০ সাইকেল ৩০ সেকেন্ডের জন্য সিক্ত টেস্ট
  6. পাংচার ভোল্টেজ টেস্ট
  7. ইম্পালস ফ্রিকুয়েন্সি ফ্লাশ-ওভার টেষ্ট
  8. টেম্পারেচার সাইকেল টেস্ট
  9. ৫০ সাইকেল ফ্লাশ ওভার টেস্ট
  10. পরোসিটি টেস্ট
  11. মেকানিক্যাল স্টেংথ টেস্ট
  12. ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল টেস্ট প্রুফ লোড টেস্ট
  13. করোশন টেস্ট
  14. হাই-ভোল্টেজ টেস্ট
Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য ত্যাগ করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন।
দয়া করে, আপনার নাম এখানে লিখুন