কন্ট্রোলিং এবং প্রোটেকটিভ ডিভাইস | Controlling and Protective Device

0
40
কন্ট্রোলিং এবং প্রোটেকটিভ ডিভাইস

আজকে আমরা জানবো বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত কন্ট্রোলিং এবং প্রোটেকটিভ ডিভাইস সম্পর্কে।

ব্যবহারিক সকল জিনিসকেই নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষা করা দরকার। তা না হলে ঐ জিনিস ব্যবহার করে ভালো ফল পাওয়া যায়না। যে যন্ত্র বা ডিভাইসের সাহায্যে কোন কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তাকে নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্র বা কন্ট্রোলিং ডিভাইস বলে। একইভাবে বিদ্যুৎশক্তি ব্যবহার করতে হলে বৈদ্যুতিক বর্তনীকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন পড়ে। বৈদ্যুতিক বর্তনীকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সাধারণত বিভিন্ন ধরনের সুইচ ব্যবহার করা হয়। সুইচের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক বর্তনীকে অন অফ করানো হয়। আবার বৈদ্যুতিক বর্তনীতে ব্যবহৃত তার অথবা বৈদ্যুতিক বর্তনীতে যে সব দামি যন্ত্রপাতি লাগানো থাকে, তাদেরকে কোন কারণে সৃষ্ট বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য বৈদ্যুতিক বর্তনীতে নানা ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করা হয় যাকে রক্ষণ যন্ত্র বা প্রোটেকটিভ ডিভাইস বলে।
নিম্নলিখিত কারণে একটি বৈদ্যুতিক সার্কিটে প্রোটেকটিভ ডিভাইস ব্যবহার করা হয়।
(১) শর্ট-সার্কিট, ওভারলোড অথবা অন্য কোন কারণে প্রবাহিত অতিরিক্ত কারেন্ট থেকে সার্কিট এবং তদসংলগ্ন যন্ত্রপাতিকে রক্ষা করা।
(২) আর্থ ফল্ট বা আর্থ লিকেজ কারেন্ট থেকে সার্কিটকে রক্ষা করা।

কন্ট্রোলিং ডিভাইসঃ

কন্ট্রোলিং শব্দের অর্থ হল নিয়ন্ত্রণ করা। আর যে য,,,,,,আবার বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্র বা কন্ট্রোলিং ডিভাইস তাকেই বলা হয় যার মাধ্যমে একটি বৈদ্যুতিক বর্তনীতে কারেন্ট বা ভোল্টেজকে নিয়ন্ত্রণ বা কন্ট্রোল করা হয়। বৈদ্যুতিক বর্তনীকে পরিচালনা করার কাজে অর্থাৎ অন এবং অফ করানোর কাজে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের সুইচ ব্যবহৃত হয়।
সুইচ প্রধানত দুই প্রকার। যথা- (ক) নাইফ সুইচ (Knife Switch) (খ) টাম্বলার সুইচ (Tumbler Switch)
আকার, আকৃতি এবং ব্যবহার অনুসারে নাইফ সুইচকে নিম্নলিখিতভাবে ভাগ করা যায়। যেমন–
(১) কুইক ব্রেক নাইফ সুইচ
(২) স্লো ব্রেক নাইফ সুইচ
(৩) সিঙ্গেল পোল নাইফ সুইচ
(৪) ডাবল পোল নাইফ সুইচ
(৫) ট্রিপল পোল নাইফ সুইচ
(৬) সিঙ্গেল ব্রেক নাইফ সুইচ
(৭) ডাবল ব্রেক নাইফ সুইচ
(৮) আয়রন ক্লেড সুইচ



গঠন ও ব্যবহার অনুযায়ী টাম্বলার সুইচকে আবার নিম্নলিখিতভাবে ভাগ করা যায়। যেমন–
(১) ওয়ান ওয়ে বা (SPST) এস.পি.এস.টি সুইচ
(২) টু ওয়ে বা (SPDT) এস.পি.ডি.টি সুইচ
(৩) ডাবল পোল ডাবল থ্রো (DPDT) সুইচ
(৪) ট্রিপল পোল সিঙ্গেল থ্রো বা টি.পি.এস.টি (TPST) সুইচ
(৫) ইন্টারমিডিয়েট সুইচ
(৬) পুশপুল সুইচ
(৭) পুশ বাটন সুইচ
(৮) বেড সুইচ (Bed Switch)

প্রোটেকটিভ ডিভাইসঃ

শর্ট-সার্কিট ওভারলোড বা অন্য কোন কারণে প্রবাহিত অতিরিক্ত কারেন্ট থেকে সার্কিট বা তদসংলগ্ন যন্ত্রপাতিকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে বৈদ্যুতিক সার্কিটে যে যন্ত্র বা ডিভাইস ব্যবহার করা হয় তাকে প্রোটেকটিভ ডিভাইস বা রক্ষণ যন্ত্র বলে। প্রোটেকটিভ ডিভাইস ব্যবহার না করা হলে, কোন কারণে অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহিত হলে সার্কিট এবং তদসংলগ্ন যন্ত্রপাতি গরম হয়ে পুড়ে যেতে পারে। সাধারণত দুই ধরনের প্রোটেকটিভ বা সেফটি ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। যেমন- ফিউজ ও সার্কিট ব্রেকার।

ফিউজঃ ফিউজ এমন একটি পরিবাহী উপাদান যা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কারেন্ট প্রবাহের ফলে গলে গিয়ে বা পুড়ে গিয়ে সার্কিটের এবং  তদসংলগ্ন যন্তপাতিকে অতিরিক্ত কারেন্টের প্রভাবে পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। ফিউজ পুড়ে গিয়ে সার্কিটের যন্ত্রপাতিসমূহকে সার্কিট থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলে ঐ পথে আর কোন কারেন্ট প্রবাহিত হতে পারেনা।

সার্কিট ব্রেকারঃ সার্কিট ব্রেকার একধরনের সুইচ বিশেষ, যার মাধ্যমে সার্কিটের স্বাভাবিক এবং অস্বাভাবিক সার্কিটকে অন বা অফ করা যায়। সার্কিটে কোন কারণে অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহিত হলে সার্কিট ব্রেকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে অফ হয়ে সার্কিটের ব্রেক বা বিচ্ছিন্ন করতে পারে। কিন্তু ত্রুটি মুক্ত করার পর সার্কিট ব্রেকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্কিটকে পুনঃসংযোগ দিতে পারে না। তখন একে হাতে অন করে দিতে হয়।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য ত্যাগ করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন।
দয়া করে, আপনার নাম এখানে লিখুন