পলিফেজ পাওয়ার সিস্টেম সম্পর্কে ধারনা | থ্রি ফেজ পাওয়ার

0
57
পলিফেজ পাওয়ার সিস্টেম

ইতঃপূর্বে আমাদের জানা আছে যে, জেনারেটরে একটি চুম্বকক্ষেত্র এবং আর্মেচার বিদ্যমান। ম্যাগনেটিক ফিল্ড স্থির চুম্বকক্ষেত্রের সৃষ্টি করে ফলে উক্ত ফিল্ডের মধ্যে অবস্থিত আর্মেচার কয়েলে ভোল্টেজ উৎপন্ন হয়। তবে একটির সাপেক্ষে অপরটির অবশ্যই আপেক্ষিক গতি থাকতে হবে। “যে জেনারেটরের আর্মেচারে একটিমাত্র কয়েল বা ওয়াইন্ডিং থাকে যাতে একসেট সাইনুসয়ডাল ভোল্টেজ উৎপন্ন হয় তাকে একফেজ এ.সি জেনারেটর বলে। আর যে জেনারেটরে একের অধিক কয়েল বা ওয়াইন্ডিং থাকে, যাতে একাধিক সেট সাইনুসয়ডাল ভোল্টেজ উৎপন্ন হয় তাকে পলিফেজ অল্টারনেটর বলে। পলিফেজ পাওয়ার সিস্টেম




তবে পলিফেজ অল্টারনেটরের ওয়াইন্ডিং গুলো পরস্পর একটি নির্দিষ্ট কৌণিক দূরত্বে অবস্থান করে। একে পলিফেজ সিস্টেমের ফেজ ডিফারেন্স বলে। পলিফেজ অল্টারনেটরে যে ভোল্টেজ গুলোর সৃষ্টি হয় তাকে পলিফেজ ভোল্টেজ বলে। পলিফেজ ভোল্টেজ গুলোর ফ্রিকুয়েন্সি, অল্টারনেটরের সিনক্রোনাস গতিবেগ এবং পোল সংখ্যার সাথে সম্পর্কযুক্ত। সুতরাং ফ্রিকুয়েন্সি f= PNs/120 বা Ns=120f/P.

আমেরিকাতে এই ফ্রিকুয়েন্সি ৬০ হার্জ, কিন্তু ইউরোপ সহ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে পাওয়ার সিস্টেমের বাণিজ্যিক ফ্রিকুয়েন্সি ৫০ হার্জ। বাংলাদেশের ফ্রিকুয়েন্সি ৫০ হার্জ। জেনারেটরে বা অল্টারনেটরের জেনারেশন পাওয়ার ট্রান্সমিশন এবং ডিস্ট্রিবিউশন এর নিমিত্তে যে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠে তাকে পাওয়ার সিস্টেম বলে।

পলিফেজ এ.সি. সিস্টেম

যে পাওয়ার সিস্টেম দুই বা ততোধিক একই প্রকার ফেজের সমন্বয়ে গঠিত তাকে পলিফেজ সিস্টেম বলে। যাতে ভোল্টেজ তরঙ্গগুলোর সর্বোচ্চ মান একই সময় অনুষ্ঠিত হয় না। তবে পলিফেজ ভোল্টেজ গুলোর ফ্রিকুয়েন্সি একই হয়। পলিফেজ সিস্টেমের ভোল্টেজ গুলোর পরস্পরের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ফেজ পার্থক্য বিদ্যমান। সাধারণত ফেজ গুলোর মধ্যে ফেজ ডিফারেন্স ৩৬০/n সূত্র দ্বারা নির্ধারণ করা হয়। এখানে n হলো ফেজ সংখ্যা। যেমন- তিনফেজ পদ্ধতিতে ফেজ ডিফারেন্স (৩৬০/৩) = ১২০º হয়, ছয় ফেজ পদ্ধতিতে ফেজ ডিফারেন্স (৩৬০/৬) = ৬০º হয়।



তবে দুই ফেজ পদ্ধতির ভোল্টেজ বা কয়েল দুটির মধ্যে ফেজ ডিফারেন্স ৯০º নেওয়া হয় কারণ ১৮০º ফেজ ডিফারেন্স নেওয়া হলে কয়েলের লব্দি ভোল্টেজ শূন্য হয়ে যায়। পলিফেজ সিস্টেমের মধ্যে দুই ফেজ, তিন ফেজ ও ছয় ফেজ এবং বারো ফেজ পদ্ধতি ব্যবহার দেখা যায়। তবে এদের মধ্যে তিন ফেজ পদ্ধতির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। ৩-φ ইন্ডাকশন মোটর, ৩-φ সিনক্রোনাস মোটর, ৩-φ জেনারেটর ইত্যাদিতে এবং পাওয়ার সিস্টেমের এনার্জি জেনারেশন ট্রান্সমিশন ডিস্ট্রিবিউশন এ তিনফেজ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

পলিফেজ পাওয়ার সিস্টেমের ভেক্টর ডায়াগ্রাম

সিঙ্গেল ফেজ পাওয়ার সিস্টেমের তুলনায় তিন ফেজ পাওয়ার সিস্টেমের সুবিধা

  • একই পরিমাণ পাওয়ার আউটপুটের জন্য এক ফেজ মেশিনের (জেনারেটর, ট্রান্সফরমার ইত্যাদি) তুলনায় তিন ফেজ মেশিনের আকার-আকৃতি ছোট হয়।
  • একই দূরত্বে একই ভোল্টেজে একই পরিমাণ পাওয়ার প্রেরণের জন্য এক ফেজ সিস্টেমের তুলনায় ৩ ফেজ সিস্টেম পরিবাহীর পদার্থের পরিমাণ কম লাগে।
  • এক ফেজের তুলনায় তিন ফেজ পদ্ধতিতে সোর্স থেকে লোড পর্যন্ত ভোল্টেজ ড্রপ কম। ফলে রেগুলেশন ভালো হয়।
  • থ্রি-ফেজ ইন্ডাকশন মোটর নিজে নিজে চালু হয়ে থাকে। কিন্তু ১ ফেজ মোটর সেল্ফ স্টার্টিং নয়।
  • এক ফেজ মেশিন যেমন, অল্টারনেটর, মোটরের তুলনায় থ্রি-ফেজ মেশিন গুলো অধিক মসৃণভাবে চলে।
  • অতিমাত্রায় আর্মেচার রিয়্যাকশনের কারণে একফেজ অল্টারনেটর সিনক্রোনাইজ করা কঠিন অথচ থ্রি-ফেজ অল্টারনেটর সিনক্রোনাইজ করা অপেক্ষাকৃত সহজ।
  • তিন ফেজ চার তার এসি স্টার সংযোগ পদ্ধতিতে যে কোনো লাইন এবং নিউট্রালের মধ্যে ১ ফেজ লোড ব্যবহার করে চালানো যায়। অর্থাৎ থ্রি-ফেজ পদ্ধতিতে এক ফেজ লোড চালু করা যায়। কিন্তু ১ ফেজ পদ্ধতিতে তিন ফেজ লোড চালু করা যায় না।
  • যেহেতু এক ফেজ মেশিনের তুলনায় থ্রি ফেজ মেশিন ছোট হয়, তাই এর দাম কম পড়ে এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচও কম।
  • পলিফেজ রেক্টিফায়ারের ফেজ সংখ্যা যত বেশি হয় তত ভালো কাজ করে।
  • থ্রি ফেজ পদ্ধতিতে একই সাথে থ্রি-ফেজ লোড ও এক ফেজ লোড পরিচালনা করা যায়।
Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য ত্যাগ করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন।
দয়া করে, আপনার নাম এখানে লিখুন