সেন্ট্রিফিউগ্যাল পাম্প

প্রিয় পাঠক আমরা গত কয়েকদিনে সিঙ্গেল অ্যাকটিং পাম্প, রেসিপ্রোকেটিং পাম্প এবং সেন্ট্রিফিউগ্যাল পাম্প সম্পর্কে জেনেছি। আর আজকে আমরা ক্যাচিং অনুসারে যে সেন্ট্রিফিউগ্যাল পাম্পকে দুইভাগে (ভলিউট পাম্প ও ডিফিউজার বা টারবাইন পাম্প) ভাগ করা হয়েছে। সেই দুই ভাগের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে জানবো।

ভলিউট পাম্প (Volute Pump): ভলিউট পাম্পে স্পাইরাল আকৃতির ক্যাসিং থাকে। এই ধরনের ক্যাসিংকে ভলিউট ক্যাসিং বলে। এছাড়া ইম্পেলার, শ্যাফট, সাকশন পাইপ ও ডেলিভারি নিয়ে এই পাম্প গঠিত। শ্যাফটের এক প্রান্ত ভলিউট ক্যাসিং এর মধ্যে থাকে যা ইম্পেলারের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং অপর প্রান্ত কাপলিং এর মাধ্যমে ইঞ্জিন বা প্রাইম মুভারের সাথে যুক্ত থাকে।




ডিফিউজার বা টারবাইন পাম্পঃ এই পাম্পের রিয়্যাকশন টারবাইন এর মতো ক্যাসিং এ গাইড ভেন ডিফিউজার রিং এর উপর বসানো থাকে। এছাড়া ইম্পেলার, শ্যাফট, ডিফিউজার, ফ্যাশন পাইপ ও ডেলিভারি পাইপ নিয়ে গঠিত। ডিফিউজার রিং এর গাইড ভেনগুলো ফিক্সড থাকে। গাইড ভেনগুলো গ্রাজুয়ালি এনলারজড প্যাসেজ সৃষ্টি করে যার মধ্য দিয়ে তরল প্রবাহিত হয়।

বিভিন্ন প্রকার সেন্ট্রিফিউগ্যাল পাম্পের অপারেশনঃ 

ভলিউট পাম্পঃ প্রথম স্টেপে সাকশন পাইপ এবং ইম্পেলার তরল দ্বারা পূর্ণ করতে হয়। যাতে সমস্ত বাতাস এসব অংশ হতে দূরীভূত হয়। এই প্রসেসকে প্রাইমিং বলে। অতঃপর ইঞ্জিন এর সাহায্যে পাম্পের ইম্পেলারকে ঘুরালে তরল সেন্ট্রিফিউগ্যাল ফোর্সের সৃষ্টি হয়। ফলে ইম্পেলারের আউটলেট হতে ডেলিভারি পাইপ পর্যন্ত এরিয়া অব ফ্লো গ্রাজুয়ালি বৃদ্ধি পায়। এভাবে কাইনেটিক এনার্জি প্রেসার এনার্জিতে কনভার্ট হয় এবং তরল প্রয়োজনীয় উচ্চতায় পৌঁছে যায়।

ডিফিউজার বা টারবাইন পাম্পঃ ভলিউট পাম্পের মতোই এই পাম্পেও প্রাইসিং করার পর ইম্পেলারকে ঘুরিয়ে সেন্ট্রিফিউগ্যাল ফোর্স উৎপন্ন করা হয়। ইম্পেলার হতে তরল গাইড ভেনের মধ্যবর্তী প্যাসেজ দিয়ে প্রবাহিত হয়। প্যাসেজ এর ক্ষেত্রফল গ্রাজুয়ালি বৃদ্ধি করা থাকে। ভেলোসিটি অব ফ্লো কমে যায় এবং কাইনেটিক এনার্জি প্রেসার এনার্জিতে কনভার্ট হয়। ফলে তরল প্রয়োজনীয় উচ্চতায় উঠে যায়।



সেন্ট্রিফিউগ্যাল পাম্পের ক্যাভিটেশনের অর্থ

সেন্ট্রিফিউগ্যাল পাম্পের সাকশন সাইডে প্রেসার তরলের ভেপার প্রেসারের চেয়ে কম হলে ভেপার বাবল ফর্ম করে যা অধিক প্রেসারের স্থানে প্রবাহিত হলে হটাৎ কলাপস করে এবং পাম্পের পারফরমেন্স ইফেক্ট করে। একে ক্যাভিটেশন বলে। ক্যাভিটেশন প্রতিরোধে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো লক্ষণীয়—

  1. সাকশন হেড যথাসম্ভব কম রাখতে হবে।
  2. তরলের তাপমাত্রা কম হতে হবে।
  3. উচ্চ হেডের জন্য নিম্ন গতির পাম্প এবং নিম্ন গতির ইম্পেলার ব্যবহার করতে হবে।
  4. নিম্ন হেডের জন্য অধিক গতির পাম্প এবং অধিক গতির ইম্পেলার ব্যবহার করতে হবে।

সেন্ট্রিফিউগ্যাল পাম্পের ইফিসিয়েন্সি

নিম্নলিখিত ইফিসিয়েন্সি পাওয়া যায়।

  1. ম্যানোমেট্রিক ইফিসিয়েন্সিঃ এটি পাম্প কর্তৃক প্রকৃত প্রাপ্ত পাওয়ার এবং ইম্পেলারে সরবরাহকৃত পাওয়ারের অনুপাত।
  2. ভলিউমেট্রিক ইফিসিয়েন্সিঃ এটি পাম্প হতে ডিসচার্জ এবং ইম্পেলারের ভেতর দিয়ে ডিসচার্জের অনুপাত।
  3. মেকানিক্যাল ইফিসিয়েন্সিঃ এটি ইম্পেলারে প্রাপ্ত পাওয়ার এবং প্রাইম মুভার কর্তৃক শ্যাফটে সরবরাহ পাওয়ারের অনুপাত।
  4. ওভারল ইফিসিয়েন্সিঃ এটি পাম্প হতে প্রাপ্ত আউটপুট পাওয়ার এবং প্রাইমমুভার কর্তৃক শ্যাফটে সরবরাহকৃত পাওয়ারের অনুপাত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here