স্টিম পাওয়ার প্ল্যান্ট

যান্ত্রিক শক্তি উৎপাদনের জন্য বাস্প একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বাষ্পের সুবিধা হলো এটা সহজে পানি থেকে উৎপন্ন হয় এবং পরিবেশে পানির সহজলভ্যতাও বেশি এবং এই পানি পাওয়ার প্ল্যান্টের অন্যান্য উপাদানের সাথে বিক্রিয়া বা প্রতিক্রিয়া করে না। এই পানি পাওয়ার প্ল্যান্টের নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় স্থির থাকতে পারে। ড্রাইভ স্টিম ইঞ্জিন ও স্টিম টারবাইন চালনা করার জন্য স্টিম ব্যবহৃত হয়। স্টিম বা বাষ্প পাওয়ার প্ল্যান্ট

যে স্থানে কয়লার প্রাপ্যতা সহজলভ্য নয় সেখানে স্টিম টার্বাইন খুবই উপযোগী।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান প্রক্রিয়ার মধ্যে থার্মাল ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার জেনারেশন মেথড অন্যতম। থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য প্রেসারের রেঞ্জ ১০ কেজি/সেমি থেকে সুপার ক্রিটিক্যাল প্রেসার এবং তাপমাত্রা ২৫০ সেন্টিগ্রেড থেকে ৬৫০ সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত পরিবর্তিত হতে পারে।

বয়লার কাকে বলে
একটি চাপযুক্ত আবদ্ধ পাত্র যার ভিতর পানি বা কোন তরল পদার্থকে প্রত্যক্ষ তাপে উত্তপ্ত করে বাষ্পে রূপান্তরিত করা হয় আর ঐ বাষ্পকে বহিঃস্থ কোন প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয় তাকে বয়লার বলে।



বয়লার সম্পর্কে কিছু আলোচনা

বয়লারের বদ্ধ প্রোকোস্টে পানিকে চুল্লির অগ্নিতাপে বাষ্প উৎপাদন করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে উৎপন্ন বাষ্পে ০.৫% থেকে ৫% আর্দ্রতা থাকে। সুপারহিটার ও রিহিটারের মাধ্যমে এই অধিক উত্তপ্ত করে পূর্ণ-বাষ্পে পরিণত করা হয়। বয়লারে যে পানি ব্যবহার করা হয়, তা অবশ্যই ময়লাহীন ও ক্ষারক মুক্ত হতে হয়। এ কারণে বয়লারে প্রেরিত পানিকে রাসায়নিক উপায়ে পরিষ্কার করা হয় এবং সেই পরিষ্কৃত পানিকে বয়লারে ফিডওয়াটার পানি হিসেবে প্রয়োগ করা হয়। বয়লারে প্রেরিত পানিতে ময়লা ও ক্ষারীয় উপাদান থাকলে তা বয়লার ড্রাম এবং টিউবের মধ্যে ময়লার আস্তরণ পড়ে। তা বয়লারের তাপীয় ক্ষেত্র কমিয়ে দেয় এবং বয়লারকে ধংসের দিকে নিয়ে যায়। আবার বয়লার থেকে উৎপন্ন বাষ্পকে বাষ্প টারবাইন ও বাষ্প ইঞ্জিনে ব্যবহার করলে তা আদ্রতার কারণে যন্ত্রাদিতে মরিচা ধরার সাহায্য করে।

স্টিম বা বাষ্প পাওয়ার প্লান্ট কাকে বলে
যে প্রকল্পে জালানি হতে প্রাপ্ত তাপ শক্তির সাহায্যে বয়লারে পানিকে উত্তপ্ত করে স্টিম উৎপন্ন করা হয়, উক্ত স্টিমের সাহায্যে বৈদ্যুতিক জেনারেটর-এ সংযুক্ত টারবাইনকে ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন করা হয় তাকে স্টিম পাওয়ার প্লান্ট বলে।



বিভিন্ন প্রকার স্টিম জেনারেটর বা বয়লার প্রকারভেদ

  1. পানি ও ফ্লু গ্যাসের প্রবাহ অনুসারে (ক) ফায়ার টিউব বয়লার (খ) ওয়াটার টিউব বয়লার।
  2. ফার্নেস ও চুল্লির অবস্থা অনুসারে (ক) অভ্যন্তরীণ কম্বাসশন বয়লার (খ) বাহ্যিক কম্বাসশন বয়লার।
  3. প্রধান অক্ষের অনুযায়ী (ক) খাড়া বয়লার (গ) অনুভূমিক বয়লার (গ) হেলানো বয়লার।
  4. বয়লারের অবস্থা অনুসারে (ক) স্থায়ী বয়লার (খ) ভ্রাম্যমাণ বয়লার।
  5. বাষ্পের চাপ অনুসারে তিন প্রকার (ক) নিম্ন চাপ বয়লার (খ) মধ্যম চাপ বয়লার (গ) উচ্চ চাপ বয়লার।
  6. পানি সরবরাহ অনুযায়ী দুই প্রকার (ক) স্বাভাবিক সরবরাহ (খ) কৃত্রিম সরবরাহ।
  7. ড্রামের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে প্রধানত দুই প্রকার (ক) একক ড্রাম বিশিষ্ট (খ) দুই বা অধিক ড্রাম বিশিষ্ট।

স্টিম বা বাষ্প পাওয়ার প্ল্যান্ট এর কার্যনীতি

বাষ্প বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল কার্যকরী উপাদান জলীয় বাষ্প। যে কোন বয়লারের মাধ্যমেই হোক, কাঁচামাল হিসেবে পানিকে ব্যবহার করা হয়। এই পানি বয়লারে বাষ্পীভূত হয়ে স্টিম হয়ে স্টিম টারবাইনে যায় ( স্টিম টারবাইন এমন এক প্রকার ডিভাইস, যা বাষ্প শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে)। টারবাইনকে চালনা করার পর উক্ত স্টিম ( অনাবশ্যক বা পরিত্যক্ত ) এগজস্ট স্টিম হিসেবে বাতাসে ছেড়ে দেওয়া হয়। আবার কোন কোন বাষ্প বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পুনরায় সেই স্টিমকে শীতলীকরণের মাধ্যমে ঘনীভূত করা হয় এবং রি-হীট করে টারবাইনে প্রেরণ করা হয়। মূলত বাষ্প বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যনীতি বুঝাতে, যে প্রক্রিয়ায় এই স্টিম উৎপাদন করা হয়, প্রয়োজন শেষে সেটাকে পুনরায় ব্যবহার করা হয় এবং এই প্রক্রিয়াটা কতকগুলো থার্মোডাইনামিক সাইকেল এর মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।

2 COMMENTS

  1. যে স্থানে কয়লার প্রাপ্যতা সহজলভ্য নয় সেখানে স্টিম টার্বাইন খুবই উপযোগী… উপযোগী নয় কেন…
    আর কেোনটা উপযোগী….???

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here