গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্লান্ট

এটি এমন এক প্রকার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, যেখানে কম্বাস্টারের মধ্যে বাতাস ও জ্বালানির মিশ্রণে দহন ঘটিয়ে অধিক তাপ ও ছাপযুক্ত বিস্ফোরক গ্যাস উৎপন্ন করা হয়। এই গ্যাসের ধাক্কায় বাষ্প- টারবাইনকে ঘূর্ণনগতি প্রদান করা হয় এবং তৎসংলগ্ন জেনারেটর এতে ঘূর্ণনগতি প্রাপ্ত হয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন করে। গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্লান্ট

গ্যাস টারবাইনের প্রধান অংশগুলো হচ্ছেঃ

  • গ্যাস টারবাইন (Gas Turbine)
  • এয়ার কমপ্রেসর (Air Compressor)
  • কমবাস্টার বা কমবাসশন চেম্বার (Combustar or Combustion Chamber)
  • রি-জেনারেটর (Re-Genaretor)
  • ইন্টার কুলার (Inter Cooler)
  • অল্টারনেটর বা জেনারেটর (Alternetor or Generator).
  • স্টাটিং মোটর (Starting Motor).
গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্লান্ট কাকে বলে
যে পাওয়ার প্লান্টে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রাইম মুভার হিসেবে গ্যাস টারবাইনকে ব্যবহার করা হয় তাকে গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্লান্ট বলে।



নিম্নে এদের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হলোঃ

গ্যাস টারবাইনঃ গ্যাস টারবাইন ইমপালস এবং রিয়্যাকশন উভয় প্রকারের হতে পারে। স্টিম পাওয়ার প্লান্টের মত গ্যাস টারবাইনে স্টেজের সংখ্যা বেশি থাকে না এবং প্রেশার ড্রপও কম হয়। টারবাইন হতে নির্গত গ্যাসের তাপমাত্রা প্রায় ৯০০º ফারেনহাইট হয়।

এয়ার কমপ্রেসরঃ এখানে রোটারি ধরনের এয়ার কমপ্রেসর ব্যবহৃত হয়। কমপ্রেসরের স্থির ব্লেডগুলো ঘূণীয়মান ব্লেডগুলো দ্বারা ধাক্কা প্রাপ্ত হয়। ফলে বাতাসের চাপ বৃদ্ধি পায়, এটা সাধারণত সেন্ট্রিফিউগ্যাল টাইপ এবং এক্সিয়াল টাইপের হয়।

কমবাস্টারঃ কমপ্রেসর হতে উচ্চ চাপ যুক্ত বাতাসকে কমবাস্টারে পাঠানো হয়। দহন প্রকোষ্ঠে জ্বালানি এবং বাতাসের মিশ্রণ ঘটে এবং দহন ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কমপ্রেসর হতে বাতাস এসে দহন প্রকোষ্ঠ কর্তৃক সরবরাহকৃত জালানির সাথে মিশ্রিত হয়ে দহন কার্য শুরু হয়।

রি-জেনারেটরঃ এটা এমন একটি মাধ্যম যা টারবাইনের নির্গত গ্যাস হতে তাপ পুনরুদ্ধার করে নির্গত গ্যাসকে বায়ুমন্ডলে ছেড়ে দেয়ার পূর্বে রি-জেনারেটরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করানো হয়। এতে কতগুলো নল আছে। কমপ্রেসর হতে কমবাস্টার অভিমুখী সংকুচিত বাতাস উষ্ণ নলগুলোর ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

ইন্টার কুলারঃ এক স্তর বিশিষ্ট গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্লান্টে ইন্টারকুলার প্রয়োজন হয় না। এটা সাধারণত বহু স্তর বিশিষ্ট গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্লান্ট এ ব্যবহৃত হয়। এর কাজ হচ্ছে প্রাথমিক এয়ার কমপ্রেসরে সৃষ্ট বাতাসের তাপকে আংশিক কমানোর মাধ্যমে দ্বিতীয় স্তরে সুষ্ঠু সংকোচনে সহায়তা করা। এটা ড্রামের মধ্যে স্থাপিত কতগুলো নল দ্বারা গঠিত।




অল্টারনেটর বা জেনারেটরঃ গ্যাস টারবাইন অল্টারনেটর এর সাথে কাপলিং করা থাকে। অল্টারনেটর যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে। অল্টারনেটর হতে জেনারেটিং ভোল্টেজ ট্রান্সফরমার এর মাধ্যমে উচ্চ ভোল্টেজে পরিণত করে ট্রান্সমিশন লাইনে সংযোগ করে দেওয়া হয়।

স্টাটিং মোটরঃ টারবাইনকে চালু করার পূর্বে কমপ্রেসরটি চালু করতে হয়। এজন্য টারবাইন শ্যাফটের সাথে একটি স্টার্টিং মোটর সংযুক্ত থাকে। মোটরটি ব্যাটারি দ্বারা পরিচালিত হয়। ইউনিট একবার চালু হলে টারবাইনটি কমপ্রেসরটিকে চালাতে থাকে এবং চালু অবস্থায় আর মোটরের প্রয়োজন হয় না।

গ্যাস টারবাইনকে নিম্নলিখিতভাবে ভাগ করা যায়

  • সাইকেল অনুযায়ী (ক) ওপেন বা মুক্ত সাইকেল (খ) ক্লোজড বা বন্ধ সাইকেল
  • শ্যাফটের সংখ্যা অনুযায়ী (ক) একক শ্যাফট (খ) বহু শ্যাফট
  • জ্বালানী অনুযায়ী (ক) তরল জ্বালানী (খ) গ্যাস জ্বালানী (গ) সলিড জ্বালানী
  • লোড অনুযায়ী (ক) পিক লোড প্লান্ট (খ) বেস লোড প্লান্ট
  • ব্যবহার অনুযায়ী (ক) এয়ার ক্রাফট (খ) মেরিন (গ) লোকোমোটিভ (ঘ) ট্রান্সপোর্ট

গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্লান্টের সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ

সুবিধাঃ

  1. এই প্লান্ট স্থাপনের লে আউট অন্যান্য প্লান্ট অপেক্ষা সহজতর।
  2. এই কেন্দ্র স্থাপন করা সহজতর, কারণ এটি স্থাপনে অধিক শ্রম ও সময়ের প্রয়োজন হয় না।
  3. এলাকা নির্বাচনের তেমন কোন প্রয়োজন নেই।
  4. এই প্লান্ট পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অন্যান্য প্লান্টের তুলনায় অনেক কম।
  5. যে কোনো ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে সুবিধাজনক।
  6. এই কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ কার্য রিমোটের মাধ্যমে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

অসুবিধাঃ

  1. খোলা গ্যাস টারবাইনে প্রচুর গ্যাস অপচয় হয়।
  2. প্রাথমিক অবস্থায় সাহায্যকারী শক্তিশালী বৈদ্যুতিক মোটর এর প্রয়োজন হয়।
  3. বাতাস সংকোচন যন্ত্র চালনার জন্য উৎপাদিত শক্তির শতকরা ৪০ ভাগ ব্যয় হয়।
  4. তাপীয় দক্ষতা কম।
  5. এর নির্গমন তাপমাত্রা বেশি।
  6. আলাদা স্টার্টিং সিস্টেমের দরকার হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here