পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র

পানিতে স্থৈতিক ও গতিয় শক্তি নিহিত থাকে। যখন বাধঁ দিয়ে পানি আটকে দেওয়া হয় এবং প্রাকৃতিক কারণে বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, বরফ গলা পানি, বন্যা প্রভৃতি কারণে পাহাড় থেকে যখন পানির ঢল নামে; তখন বাধের সন্নিকটে পানির উচ্চতা বাড়তে থাকে। তখন পানিতে যে শক্তি সঞ্চিত হয় তাকেই পানির স্থৈতিক শক্তি বলে। পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র

যখন এই পানিকে কোনো সরু ছিদ্রের মধ্যদিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়, তখন এটি প্রচণ্ড বেগে ধাবিত হতে পারে এবং তখন এই পানির ফোয়ারার নিচে যদি কোনো পানি টারবাইন স্থাপন করা হয়, তখন পানির ধাক্কায় টারবাইন ঘুরতে পারে। এই শক্তিকে পানির গতিয় শক্তি বলে। পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পানির এই স্থৈতিক ও গতীয় শক্তি ব্যবহার করেই পানি টারবাইনকে ঘুরানো হয় এবং তৎসংলগ্ন বৈদ্যুতিক জেনারেটরকে ঘুর্ণন গতি প্রদান করে “পানিবিদ্যুৎ” বা বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপাদন করা হয়।

পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কাকে বলে
যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পানির প্রবাহকে টারবাইন ঘুরানোর কাজে লাগিয়ে ঐ টারবাইন শ্যাফটের সাথে কাপলিং করা বিদ্যুৎ জেনারেটরকে ঘুরানোর মাধ্যমে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় তাকে পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বলে।

পানি বিদ্যুৎ প্রকল্পে খরস্রোতা নদীতে আড়া আড়াতি বাধ নির্মাণ করে এর উচ্চচাপ বিশিষ্ট পানির ধাক্কায় পানি টারবাইনকে ঘুর্ণন গতি প্রদান করা হয়। এই টারবাইন ঘুরে যান্ত্রিক শক্তি উৎপন্ন করে। সুতরাং বাধেঁ পানি প্রথমত স্থৈতিক শক্তি থেকে গতীয় শক্তিতে এবং গতীয় শক্তি টারবাইনকে ঘুরিয়ে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। অতঃপর এই টারবাইনের যান্ত্রিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।



পানি বিদ্যুৎ পাওয়ার প্লান্টের তালিকা

  • পানির পরিমাণ অনুসারে ৩ প্রকার। (ক) জলাশয় বা খাল বিশিষ্ট রান আফ রিভার প্ল্যান্টস (খ) জলাশয় বা খাল বিহীন রান আফ রিভার প্ল্যান্টস (গ) স্টোরেজ প্ল্যান্ট (ঘ) পাম্পড স্টোরেজ প্ল্যান্টস
  • পানির উচ্চতা অনুসারে তিন প্রকার। (ক) নিম্ন হেডের প্লান্ট (খ) মধ্যম হেডের প্লান্ট (গ) উচ্চ হেডের প্লান্ট
  • টপোগ্রাফী অনুসারে তিন প্রকার। (ক) নিম্ন ভূমির প্লান্ট (খ) পাহাড়ি এলাকার প্লান্ট (গ) পার্বত্য এলাকার প্লান্ট
  • প্লান্টের ক্যাপাসিটি অনুসারে তিন প্রকার। (ক) অল্প ক্ষমতা সম্পন্ন প্লান্ট (খ) মধ্যম ক্ষমতা সম্পন্ন প্লান্ট (গ) উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন প্লান্ট
  • টারবাইনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে তিন প্রকার। (ক) হাই স্পেসিফিক প্লান্ট (খ) মিডিয়াম স্পেসিফিক প্লান্ট (গ) লো-স্পেসিফিক প্লান্ট।

পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যনীতি

"<yoastmark

পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এমন একপ্রকার বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র যেখানে খরস্রোতা নদীতে বাধঁ সৃষ্টি করে সেই পানি শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন করা হয়। ধাবমান জলস্রোত, জোয়ার ভাটা, পানিপ্রবাহ, সমুদ্রতরঙ্গ ও ঢেউ প্রভৃতির পানি শক্তির ধাক্কায় পানি টারবাইনকে ঘুরানো হয় এবং তদসংলগ্ন বৈদ্যুতিক জেনারেটরকে ঘূর্ণন গতি প্রদান করলে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন হয়।

মূলত খরস্রোতা নদীতে বাধঁ নির্মাণ করে পানির স্থিতি শক্তিকে পানির নালি অথবা পেনস্টোকের মধ্যদিয়ে সরবরাহ করে পানি টারবাইন কে ঘুরানো হয়। যার ফলে পানি শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। সাথে সাথে পানি টারবাইনের সাথে সংযুক্তি বৈদ্যুতিক জেনারেটর চালিত হয়ে যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে। বাধেঁর পানির চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য পেনস্টোক লাইনে স্লুইসগেট, গেট ভালভ, গভর্নর, চেক ভালভ প্রভৃতি ব্যবহার করা হয়।



বাধে পানির নিম্নাংশ হতে পেনস্টোকের লাইন নেওয়া হয় এবং বাধের অপর পার্শ্ব ঢালু করে মাটির তলদেশে অথবা নিম্নভাগ পেনস্টোক এবং টারবাইন সংলগ্ন পাওয়ার হাউজ সন্নিবেশিত করা হয়। পেনস্টোক ক্রমান্বয়ে ঢালু হওয়ায় এবং বাধে পানির উচ্চতা বেশি থাকায় পেনস্টোকের মধ্য দিয়ে প্রচণ্ড বেগে পানি প্রবাহিত হতে পারে। প্লান্ট চলাকালে পেনস্টোকের মধ্য দিয়ে পানির জেট তীব্র বেগে পানি টারবাইনের ব্লেড অথবা বাকেট আকৃতির ভেনের উপর আঘাত করে।

ফলে পানি টারবাইনে প্রচণ্ড বেগে ঘুরতে থাকে। পানি-টারবাইনের শ্যাফটের উপর দিকে বৈদ্যুতিক জেনারেটরের সংযোগ এবং নিচের দিকে একই শ্যাফটের সাথে পাম্পের সংযোগ থাকে। পানি টারবাইনের সাথে জেনারেটর চালিত হয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে থাকে। খরা মৌসুমে পানি সংকট কালে বৈদ্যুতিক শক্তির সাহায্যে জেনারেটরকে মোটর হিসেবে চালিয়ে টারবাইন শ্যাফট চালিত পাম্প ঘুরানো হয়। এই পাম্পের এম্পেলার পতিত পানির আধার হতে পানি সংগ্রহ করে এবং ধাক্কা প্রয়োগে একই পেনস্টোকের লাইনের মাধ্যমে পানিকে বাধের সম্মুখ উচ্চতলের আধারে সরবরাহ করে পানির উচ্চতা বাড়ানো হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here