সহজলভ্য ও কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন আধুনিক জগতে অপরিহার্য। এ লক্ষেই নিউক্লিয়ার পাওয়ার স্টেশনে ভারি পদার্থ যেমন, ইউরেনিয়াম-২৩৫, থোরিয়াম-২৩২, ইত্যাদিকে নিউক্লিয়ার বিভাজন প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো এ ক্ষেত্রে অন্যান্য পাওয়ার স্টেশনের তুলনায় খুবই সামান্য পরিমাণ জ্বালানী লাগে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট

উপরন্তু অন্যানদের চেয়ে অধিক পরিমাণে শক্তি উৎপাদিত হয়। মজার ব্যাপার হলো শুধুমাত্র ১ কেজি ইউরেনিয়াম-২৩৫ এর ফিসন প্রক্রিয়ায় যে পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায় তা মোটামুটিভাবে ৪৫০০ টন উন্নত মানের কয়লা অথবা ১৭০০ টন তেলের খরচের উৎপাদিত শক্তির সমান। নিউক্লিয়ার পাওয়ার শুধু সহজ লভ্যই নয় বরং অন্যান্য উৎস থেকে কম খরচে শক্তি উৎপাদন করা যায়।

শীতলক সার্কিট
পারমাণবিক রিয়্যাক্টর, তাপ বিনিময়কারী, শীতলক পাম্প প্রভৃতি দ্বারা রিয়্যাক্টর সার্কিট কাজ করে।
বাষ্প সার্কিট
তাপ বিনিময়কারী যন্ত্র, টারবাইন, কন্ডেনসার, কন্ডেনসেট পাম্প, ফিডওয়াটার হিটার, বয়লার ফিডওয়াটার পাম্প প্রভৃতি দ্বারা এই সার্কিট কাজ করে।
কন্ডেনসার শীতলীকরণ সার্কিট
এই সার্কিটে কন্ডেনসার, পানি সরবরাহকারী পাম্প, শীতলীকরণ টাওয়ার প্রভৃতি যন্ত্র কাজ করে।
বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি
বৈদ্যুতিক জেনারেটর সহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক নিয়ন্ত্রণ, পরিচালন ও বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহ যন্ত্রাদি।



পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যাবলীঃ
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট

এটি এমন এক প্রকার শক্তিশালী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, যেখানে পারমাণবিক জ্বালানী বা ইউরেনিয়ামকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে বাষ্পের তাপশক্তি উৎপাদন করে।সেই তাপশক্তির ধাক্কায় বাষ্প-টারবাইন ঘুরিয়ে এবং তৎসংলগ্ন জেনারেটরকে চালিত করে উচ্চহারের বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন করা হয়। মূলত এই প্লান্টে ব্যবহৃত পারমাণবিক রিয়্যাক্টর একটি নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক চুল্লি, যেখানে পারমাণবিক জ্বালানির চেইন বিক্রিয়া ঘটিয়ে অধিক তাপ উৎপন্ন করা হয়। U-235 কে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়ার বিভাজনের মাধ্যমে রিয়্যাক্টরের মধ্যে প্রচণ্ড তাপশক্তি উৎপন্ন হয়,

যা রিয়্যাক্টরে ব্যবহৃত শীতলককে উত্তপ্ত করে। এই তাপশক্তি তাপ বিনিময়কারী বা বাষ্প বয়লারে ব্যবহৃত শীতলকে উত্তপ্ত করে। এই তাপশক্তি তাপ বিনিময়কারী বাষ্প বয়লারে ব্যবহৃত শীতলকে উত্তপ্ত করে। এই তাপশক্তি তাপ বিনিময়কারী বা বাষ্প বয়লারে ব্যবহৃত পানিকে তাপ আদান-প্রদান করে বাষ্প প্রস্তুত করতে সাহায্য করে এবং এই তাপ নিজে শীতল হয়ে পাম্পের সাহায্যে রিয়্যাক্টরে প্রবেশ করে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র

বয়লারে উৎপাদিত বাষ্প বাষ্প-টারবাইনকে ধাক্কা দিয়ে ঘূর্ণগতি সৃষ্টি করে। টারবাইন শ্যাফট এবং অল্টারনেটর একই শ্যাফটের সাথে সংযুক্ত থাকে বলে, অল্টারনেটর ঘুরতে থাকলে এটি যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রুপান্তর করে। টারবাইন থেকে বিতাড়িত বাষ্প কন্ডেনসারে ঠান্ডা পানির সরবরাহে পানিতে রূপান্তরিত হয় এবং কন্ডেনসেট পাম্পের সাহায্যে ফিড ওয়াটার হিটারে পাঠানো হয়। সেখানে টারবাইন থেকে আগত ব্লিড বাষ্পের মাধ্যমে ফিডওয়াটার উত্তপ্ত হয়। এতে প্লান্টের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট এর সুবিধা ও অসুবিধা

সুবিধাঃ

  1. জ্বালানীর পরিমাণ খুব কম লাগে।
  2. অন্যান্য পাওয়ার প্লান্টের তুলনায় জায়গার পরিমাণ কম লাগে।
  3. অধিক পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটা খুবই উপযোগী।
  4. যে কোন লোড সেন্টারের কাছে স্থাপন করার সুবিধা আছে।
  5. প্রাথমিক ডিস্ট্রিবিউশন খরচ কম।
  6. নিউক্লিয়ার জ্বালানির প্রাচুর্যতার ধরুন বহু বছর বিদ্যুতের নিশ্চয়তা পাওয়া যায়।
  7. বিশ্বস্ততার সাথে কার্য পরিচালনা করা যায়।

অসুবিধাঃ

  1. নিউক্লিয়ার জ্বালানির দাম বেশি এবং আহরণ জটিল।
  2. অন্যান্য পাওয়ার প্লান্টের তুলনায় মুলধন খরচ বেশি।
  3. প্লান্ট স্থাপন ও পরিচালনার জন্য দক্ষতা দরকার।
  4. বিভাজন ক্রিয়ায় উৎপন্ন বাই-প্রোডাক্ট গুলো রেডিও একটিভ ও বিপদজনক।
  5. রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেশি এবং সুদক্ষ কারিগর ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলী প্রয়োজন।
  6. সব সময় পরিবর্তনশীল লোডের ক্ষেত্রে এটা উপযোগী নয়।