পাওয়ার প্লান্ট কি | পাওয়ার প্লান্ট কাকে বলে | পাওয়ার প্লান্ট সম্পর্কে বিস্তারিত

প্রিয় পাঠক আজকে আমরা পাওয়ার প্লান্ট সম্পর্কে মৌলিক কিছু বিষয় জানবো যেমন, পাওয়ার প্লান্ট এর কার্যপ্রনালী, পাওয়ার প্লান্ট এর গুরুত্ব, পাওয়ার প্লান্ট এর ব্যবহার, পাওয়ার প্লান্টের প্রকারভেদ ইত্যাদি।

পাওয়ার প্লান্টের কার্যপ্রণালীঃ

পাওয়ার প্লান্ট হলাে এমন একটি কেন্দ্র বা প্রতিষ্ঠান যেখানে যান্ত্রিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত বিদ্যুৎ শক্তিকে সুবিধামত স্টেপ আপ ও স্টেপ ডাউন করে প্রয়ােজনীয় কাজ করার জন্য নিকটে
বা দূর-দূরান্তে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। পাওয়ার স্টেশনে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিগুলাে হচ্ছে জেনারেটর, ট্রান্সফরমার, সুইচ গিয়ার, কন্ট্রোল গিয়ার ইত্যাদি। চিত্রে একটি পাওয়ার প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যপ্রণালী দেখানাে হয়েছে।

প্রথমত জেনারেটরের প্রাইম মুভারকে ঘুরানাের ব্যবস্থা করতে হয়। এই প্রাইমমুভারকে ঘুরানাের বিভিন্ন ব্যবস্থা হিসেবে এনার্জি বা শক্তি ব্যবহার করতে হয়। তা প্রাকতিক শক্তি পানি শক্তি, জ্বালানি শক্তি, নিউক্লিয়ার শক্তি, সৌর শক্তি ইত্যাদি হতে পারে। ট্রান্সমিশন ভােল্টেজ এমনভাবে পছন্দ করতে হয় যাতে সর্বোচ্চ দক্ষতা, উন্নত রেগুলেশন এবং সর্বোপরি প্ল্যান্টের ইকনমিক দিকে গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। স্টেপ আপ ট্রান্সফরমারের সাহায্যে জেনারেটরের উৎপাদিত ভােল্টেজকে সাধারণত 132 কেভিতে রূপান্তর করা হয়।




রিসিভিং সাব-স্টেশনে এই 132 কেভি ভােল্টেজকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমারের সাহায্যে 33 কেভিতে রূপান্তর করে ফিডারের সাহায্যে, পরবর্তী। ডিস্ট্রিবিউশন সাব-স্টেশনে প্রেরণ করে। কোন গ্রাহককে ফিডার থেকে সরাসরি সাপ্লাই দেয়া হয় না। ডিস্ট্রিবিউশন সাব-স্টেশনের পরবর্তী ধাপ হচ্ছে 33 কেভি ভােল্টেজকে 11 কেভি ভােল্টেজে রূপান্তর করা। তা করা হয় স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে। এর পর এই 11 কেভি লাইন থেকে ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে ডিস্ট্রিবিউশন ভাল্টেজ 0.4 কেভি এবং 230 ভােল্ট করা হয়। গ্রাহকবৃন্দ শিল্প কলকারখানায় ডিস্ট্রিবিউটরের বিভিন্ন ট্যাপিং পয়েন্ট থেকে সার্ভিস মেইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে থাকে।

পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রকারভেদ

নিম্নে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের প্রকারভেদ দেওয়া হলাে :
(ক) জ্বালানির উপর ভিত্তি করে ছয় ভাগে ভাগ করা যায়, যথা :

  1. বাষ্প বিদ্যুৎ কেন্দ্র (Steam Power Plant)
  2. ডিজেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র (Diesel Power Plant)
  3. গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎ কেন্দ্র (Gas Power Plant)
  4. পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (Nuclear Power Plant)
  5. পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র (Hydro-Electric Power Plant)
  6. সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র (Solar Power Plant)।

(খ) লােডের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে দুভাগে ভাগ করা হয়, যথা :

  1. বেস্ লােড পাওয়ার প্ল্যান্ট (Base Load Power Plant)
  2. পিক লােড পাওয়ার প্ল্যান্ট (Peack Load Power Plant)

(গ) স্থানের উপর ভিত্তি করে দুভাগে ভাগ করা হয়। যথা :

  1. কেন্দ্রীয় পাওয়ার প্ল্যান্ট (Central Power Plant)
  2. পৃথকীকৃত পাওয়ার প্ল্যান্ট (Isolated Power Plant)

(ঘ) সার্ভিস প্রদানের উপর ভিত্তি করে দুভাগে ভাগ করা হয়, যথা :

  1. স্টেশনারি (Stationary)
  2. লােকোমােটিভ (Locomotive)।

পাওয়ার প্লান্টের গুরুত্ব

সহজলভ্য এবং কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন কোন একটি দেশের উন্নতির প্রধান চাবিকাঠি। পূরাকালে বিদ্যুৎ উৎপাদন পদ্ধতি আবিষ্কার না হওয়াতে তখনকার অধিবাসীগণ বিদ্যুৎ শক্তির গুরুত্ব বুঝতে পারে নি। আধুনিক যুগে যে দেশ বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদনে যত বেশি উন্নত, সে দেশ তত বেশি উন্নত। সে আলােকে বিদ্যুৎ শক্তির গুরুত্ব নিম্নরূপ :

১। বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহারের প্রসারতায় মানুষের কষ্ট এবং শ্রমের পরিমাণ দিন দিন লাঘব হচ্ছে।

২। শিল্প কলকারখানা, আবাসিক এলাকায় ব্যবহার ছাড়াও, কৃষি, শিল্প, কুঠির শিল্প এবং সামরিক ক্ষেত্রে বিদ্যুতের অবদান অনস্বীকার্য। ৩। কৃষি কাজে ইরিগেশনে বিদ্যুতের ভূমিকা ও বর্তমান আধুনিক সামরিক ক্ষেত্রে বিদ্যুতের যে কি চাহিদা তা সর্বজন বিদিত।

৪। আধুনিক প্রযুক্ত বিজ্ঞান বিভিন্ন ইলেকট্রিক সাজ-সরঞ্জাম, চিকিৎসা বিজ্ঞান অর্থাৎ বর্তমান জগতের যে কোন ক্ষেত্রেই বিদ্যুতের ব্যবহার অপরিসীম।

বাংলাদেশ অবশ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে পিছনে পড়ে আছে, তার কারণ হচ্ছে শক্তি উৎসের অপ্রতুলতা। এই সমস্ত সমস্যা কাটিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়াতে থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি দিন দিন কমবে, সে সঙ্গে শিল্প, বাণিজ্য, কৃষি ক্ষেত্র, কুটির শিল্প, প্রকৌশল ক্ষেত্র, চিকিৎসা শাস্ত্র ইত্যাদির প্রভূত অগ্রগতি হবে। কাজেই আধুনিক যুগে দেশের তথা সমগ্র বিশ্বের জীবন যাত্রার মানের অগ্রগতি ও প্রসারে পাওয়ার প্ল্যান্টের গুরুত্ব ও ব্যবহার সহজেই অনুমেয়।

পাওয়ার প্লান্টের ব্যবহার 

শিল্প কলকারখানা, আবাসিক এলাকায় ব্যবহার ছাড়াও, কৃষি, শিল্প, কুটির শিল্প এবং সামরিক ক্ষেত্রে বিদ্যুতের অবদান অনস্বীকার্য। কৃষিকাজে বা ইরিগেশনে বিদ্যুতের ভূমিকা ও বর্তমানে আধুনিক সামরিক ক্ষেত্রে বিদ্যুতের যে কি চাহিদা তা সর্বজনবিদিত। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি বিজ্ঞান বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রিক সাজ-সরঞ্জাম, চিকিৎসা বিজ্ঞান অর্থাৎ বর্তমান জগতের যে কোন ক্ষেত্রেই বিদ্যুতের ব্যবহার অপরিসীম।

বিদ্যুৎ শক্তির ব্যবহারের গুরুত্বের উদাহরণঃ

বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ কতটা উন্নত তা বিচার করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক মাথা পিছু বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ হয়েছে 11550 কিলােওয়াট ঘণ্টা।অপরদিকে বাংলাদেশে মাথাপিছু ব্যবহারের পরিমাণ হচ্ছে 62 কিলােওয়াট ঘণ্টা। আমাদের
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ হচ্ছে 218 কিলােওয়াট ঘণ্টা, পাকিস্তানে 214 কিলােওয়াট ঘণ্টা এবং শ্রীলংকায় 127 কিলােওয়াট ঘণ্টা। খাদ্যে ও বস্ত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে হলে আমাদের দেশে সেবাকার্যে ও তাঁতশিল্পে বিদ্যুৎ ব্যবহার ব্যাপক হওয়া দরকার। দেশকে উন্নতির উচ্চ সােপানে পৌছানাের জন্য
শিল্প কারখানা স্থাপনের ব্যাপক পরিকল্পনা থাকা দরকার।

জাতীয় সমৃদ্ধিতে পাওয়ার প্লান্টের ভূমিকাঃ

আধুনিক যুগে যে দেশে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদনে যত বেশি উন্নত, সে দেশ তত বেশি উন্নত। তাই
জাতীয় সমৃদ্ধিতে পাওয়ার প্লান্টের ভূমিকা অনেক। কারণ বর্তমান যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে বৈদ্যুতিক শক্তির দান অপরিসীম। যেখানে বৈদ্যুতিক শক্তির ব্যবহার সেখানে অর্থনৈতিক উন্নতিও বেশি। প্লান্টের গুরুত্বের কথা বলতে গেলে প্রথমে বলতে হয় যে, বর্তমান সভ্যতার মানুষ যে বৈদ্যুতিক শক্তির ব্যবহার ছাড়া চলতে পারে এমন কথা চিন্তাও করতে পারে না। শহরের এলাকায় যদি কয়েক মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে তখন প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার উপক্রম হয়। আবাসিক এলাকার বহুতল বিশিষ্ট ভবনে কক্ষগুলােকে আলােকিত করার জন্য,

নিচের তলা হতে উপরের পানি উঠানাের জন্য, ফ্যান চালানাে জন্য, লিফটের জন্য এবং আরাে এ বহুবিধ কাজের জন্য বৈদ্যুতিক শক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। শিল্প কারখানা পরিচালনার জন্য, লিফটের জন্য এবং আরও এ বহুবিধ কাজের জন্য বৈদ্যুতিক শক্তির ব্যবহার অপরিহার্য । শিল্প কারখানা পরিচালনার জন্য, বাণিজ্যিক যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য, সেচ কার্যের জন্যও বিদেশী তাঁত বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার অথ্যাবশ্যক।

গ্রামে বিদ্যুতায়নের জন্যও প্রচুর পরিমাণে বৈদ্যুতিক শক্তির প্রয়ােজন। পাওয়ার প্লান্ট বা শক্তি কেন্দ্র স্থাপন ছাড়া উপরের উল্লিখিত স্থানগুলােতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব নয়। অতএব দেশের চাহিদা অনুযায়ী বৈদ্যুতিক শক্তির সরবরাহের জন্য পাওয়ার প্লান্টের গুরুত্ব অপরিসীম। শক্তি কেন্দ্র বা পাওয়ার প্লান্ট ব্যতিরেকে জাতীয় সমৃদ্ধি সম্ভবপর নয়। যে দেশে বৈদ্যুতিক শক্তির ব্যবহার বেশি সে দেশকে তত বেশি সমৃদ্ধশালী মনে করা হয়। অতএব নতুন নতুন শক্তি কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে দেশের বৈদ্যুতিক চাহিদা বৃদ্ধি করতে পারলে জাতীয় সমৃদ্ধি সম্ভবপর নয়।

Facebook Comments
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টপাওয়ার প্লান্ট কাকে বলেপাওয়ার প্লান্ট কিপাওয়ার প্লান্টের ব্যবহার
মন্তব্য (3)
মন্তব্য লিখুন
  • Rajo

    Very good

  • Md Shahrul islam

    I salute u brother

    • Admin

      ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।