Electricity
Electricity

ভূমিকা (Introduction)

প্রাত্যহিক জীবনের ঘটনা প্রবাহ হতে আমরা দেখতে পাই, বিশেষ করে শীতকালে সেলুলয়েডের তৈরি কলম মাথায় কিছুক্ষণ ঘষলে তা ছােট কাগজের টুকরােকে আকর্ষণ করে। এ ঘটনা নতুন নয়। খ্রিষ্টের জন্মের ছয়শত বছর পূর্বে  গ্রিক দার্শনিক থালেস (Thales : 640 – 54৪ B.C.) সর্বপ্রথম পর্যবেক্ষণ করেন যে, অ্যাম্বারকে (পাইন গাছের শক্ত আঠা) রেশমি কাপড় দিয়ে ঘষলে এগুলাে ছােট ছােট কাগজের টুকরােকে আকর্ষণ করতে সক্ষম। অ্যাম্বার (Armber) এর গ্রিক নাম ইলেকট্রন (Electron) হতে ইলেকট্রিসিটি (Electricity) বা ‘তড়িৎ / বিদ্যুৎ’ শব্দের উদ্ভব হয়েছে।

গ্রিক পণ্ডিতদের পর আর কেউ এ বিষয়ে তেমন কোন আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে জানা যায়।
পরবর্তীকালে ষােড়শ শতাব্দীতে চিকিৎসক ডা. উইলিয়াম গিলবার্ট (1540 -1603) এ সম্বন্ধে বিস্তারিত অনুসন্ধান করেন। তিনি দেখতে পান যে, শুধু অ্যাম্বারই নয় আরাে অনেক পদার্থের মধ্যে ঐ গুণ বিদ্যমান । প্রকৃতপক্ষে প্রত্যেক বস্তুই ঘর্ষণের ফলে অন্য হালকা বস্তুকে কম-বেশি আকর্ষণের ক্ষমতা অর্জন করে। তবে কোন কোন বস্তুতে এ আকর্ষণ ক্ষমতা অনেক বেশি দেখা যায় আর কিছু বস্তুতে এর পরিমাণ অনেক কম, প্রায় নেই বললেই চলে।

ডা. গিলবার্ট এ ঘটনাকে তড়িতাহিতকরণ (Electrification) বলে অভিহিত করেন। সুতরাং বলা যেতে পারে, ঘর্ষণের দরুন প্রত্যেক বস্তু অন্য বস্তুকে আকর্ষণের কম-বেশি ক্ষমতা অর্জন করে। এ ঘটনাকে তড়িতাহিতকরণ বলে। রেশম দ্বারা ঘষলে যে সকল বস্তু (যেমন,অ্যাম্বার) অন্যান্য বস্তুকে আকর্ষণের ক্ষমতা রাখে, তাদের বলা হয় তড়িতাহিত (Electrified) বন্ধু । আর যে অজানা রহস্যময় কারণের প্রভাবে বস্তুতে এ গুণ পরিলক্ষিত হয়, তাকে বিদ্যুৎ (Electricity) বলে । ঘর্ষণে উৎপন্ন বিদ্যুৎকে ঘর্ষণ বিদ্যুৎ বা স্থির বিদ্যুৎ (Static Electricity) বলে।

ইলেকট্রিসিটির অর্থ ও তার বর্ণনা। (State the Meaning of Electricity)

খ্রিস্টপূর্ব 600 অব্দে গ্রিক দার্শনিক থালেস লক্ষ্য করেন যে, অ্যাম্বারকে রেশমি কাপড় দ্বারা ঘর্ষণ করলে এর মধ্যে একটি অদৃশ্য শক্তির উদ্ভব হয় এবং অ্যাম্বার আকর্ষণ ক্ষমতা লাভ করে। ফলে এটি ছােট ছােট কাগজের টুকরা আকর্ষণ করতে পারে। এই অদৃশ্য শক্তিকে বিদ্যুৎ বা তড়িৎ (Electricity) বলে। এখানে অ্যাম্বার ও রেশমি
কাপড়ের ঘর্ষণের ফলে রেশমি কাপড় হতে এক ধরনের ক্ষুদ্র কণিকা অ্যাম্বারে স্থানান্তরিত হয়, ফলে রেশমি কাপড় পজেটিভ ও অ্যাম্বার নেগেটিভ চার্জ প্রাপ্ত হয়। সুতরাং অ্যাম্বার ছােট ছােট কাগজের টুকরাকে আকর্ষণ করে। উল্লেখিত ক্ষুদ্র কণিকাকে ইলেকট্রন (Electron) বলে ।
বিদ্যুৎ শব্দটি গ্রিক শব্দ Electron হতে উদ্ভব হয়েছে।

“ইলেকট্রনের যেকোন ধরনের চলাচলকে (Movement) ইলেকট্রিসিটি বা বিদ্যুৎ বলে।” ইলেকট্রিসিটি বা বিদ্যুতের সংজ্ঞা : “বিদ্যুৎ এমন এক প্রকার শক্তি যাকে খুব অল্প সময়ে বা তাৎক্ষণিকভাবে তাপ, আলাে, যান্ত্রিকশক্তি, গতিশক্তিতে রূপান্তরিত করা যায় এবং যা দ্বারা অনেক বাস্তব কাজ সম্পন্ন করা যায়।

Electricity ইলেক্ট্রিসিটির প্রকারভেদ 

এ বিদ্যুৎ মূলত দুই প্রকার। যথা :
(১) স্থির বিদ্যুৎ (Static Electricity) ও
(২) চল বিদ্যুৎ (Current Electricity)।

(১) স্থির বিদ্যুৎ (static Electricity) :

বৈদ্যুতিক চার্জ যখন উৎপত্তিস্থলেই আবদ্ধ থাকে, চলাচল করতে পারে না তাকে স্থির বিদ্যুৎ বলে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই স্থির বিদ্যুৎ ঘর্ষণের ফলে উৎপত্তি হয়। যেমন, ক্যাপাসিটর প্লেটে সঞ্চিত চার্জ স্থির বিদ্যুৎ। একটি কাচদণ্ডকে রেশমি কাপড় দ্বারা ঘষলে কাচদণ্ড হতে। ইলেকট্রন রেশমি কাপড়ে চলে যায়। ফলে কাচদণ্ড পজেটিভ চার্জ এবং রেশমি কাপড় নেগেটিভ চার্জ প্রাপ্ত হয়।

আবার একটি ইবােনাইট দণ্ডকে এক খণ্ড ফ্লানেল কাপড় বা বিড়ালের চামড়া দ্বারা ঘর্ষণ করলে ইবােনাইট দণ্ড এ নেগেটিভ চার্জ এবং ফ্লানেল কাপড় পজেটিভ চার্জ প্রাপ্ত হয়। শীতকালে গাটাপার্চার বা প্লাস্টিকের চিরুনি দ্বারা । চুল আঁচড়ালেও উভয়েই চার্জ প্রাপ্ত হয়। উপরােক্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে এক বস্তু হতে ইলেকট্রন অন্য বস্তুতে স্থানান্তরিত হয় ফলে বস্তুগুলাে চার্জ প্রাপ্ত হয়। অর্থাৎ প্রতিটি বস্তুতে স্থির বিদ্যুতের উৎপত্তি হয়েছে।

(২) চল বিদ্যুৎ (Current Electricity) :

কোনাে পরিবাহী বা কোনাে পথ দিয়ে ইলেকট্রনের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহকে (Continuous flow) চল বিদ্যুৎ বলে । আজ এই মানব সভ্যতার চরম উন্নতির যুগে বিদ্যুতের অবদান সর্বাধিক বললে মনে হয় অত্যুক্তি হবে না। তাই আজ আধুনিক যুগকে বিদ্যুতের যুগও বলা চলে। জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে চল বিদ্যুতের ব্যবহার অপরিহার্য। বাড়ি-ঘর, অফিস-আদালত, কল-কারখানা
আলােকিতকরণের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক বাতি, সংবাদ আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে টেলিগ্রাফ, টেলিফোন, রেডিও, টেলিভিশন: আমােদ-প্রমােদের জন্য মাইক, সিনেমা, থিয়েটার, টেলিভিশন; যাতায়াতের জন্য ট্রেন, ট্রাম ইত্যাদির সবকিছুই চল বিদ্যুৎ ছাড়া চলতে পারে না। তাই যদিও বিদ্যুৎ দুই প্রকার। বিদ্যুৎ বলতে চল বিদ্যুৎকেই বুঝায়।

Electricity
এসি কারেন্ট ডিসি কারেন্ট

চল বিদ্যুৎ দুই প্রকার। যথা-
(ক) একমুখী প্রবাহ (Direct Current বা, D.C) ও
(খ) পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating Currect বা, A.C)

(ক) ডি.সি, কারেন্ট (Direct Current বা D.c.) : সময়ের সাথে যে কারেন্টের মান ও দিক।কোনােটিই পরিবর্তিত হয় না তাকে ডাইরেক্ট কারেন্ট বা ডি. সি. বলে। নিচের চিত্র (ক) তে ডি.সি, কারেন্টের গ্রাফ চিত্র দেখানাে হলে

(খ) পরিবর্তী কারেন্ট (Alternating Current বা A.C) : সময়ের সাথে যে কারেন্টের মান ও দিক উভয়টির পরিবর্তন হয় তাকে এ.সি বা অল্টারনেটিং কারেন্ট বলে। নিচের চিত্র (খ)-তে
অল্টারনেটিং কারেন্টের গ্রাফ চিত্র দেখানাে হলাে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here