পাওয়ার প্লান্ট জব প্রশ্ন

প্রিয় পাঠক এর আগে আমরা পাওয়ার প্লান্ট জব প্রশ্ন ১ম পর্ব পড়েছি। যারা পড়েননি তাদের জন্য পাওয়ার প্লান্ট জব প্রশ্ন ১ম পর্ব। দেখে আশার অনুরোধ রইল। আজকে আমরা আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর সম্পর্কে জানবো।

১। ইঞ্জিনে ফ্লাইহুইল কেন ব্যবহার করা হয়?

উত্তর : ইঞ্জিনে হাইহুইল ব্যবহার করা হয় কারণ ফাইলইল, ইঞ্জিন পাওয়ার স্টোকের সময় উৎপন্ন শক্তি সঞ্চালনের মাধ্যমে বাকী তিন ষ্টোককে পরিচালিত করে ইঞ্জিনকে স্থির গতিতে চলতে সাহায্য করে।

২। ডিজেলের তাপীয় মান কত?

উত্তর : ডিজেলের উচ্চতর তাপীয় মান 46000 ki / kg এবং নিম্নতর তাপীয় মান 43.2500 kj/kg।।

৩। ডিজেল ইঞ্জিনে কানেকটিং রডের কাজ কী?

উত্তর : কানেকটিং রড পিস্টনের রেসিপ্রোকেটিং বা এদিক-সেদিক ঘূর্ণনগতিকে ক্র্যাঙ্কশ্যাফটের মাধ্যমে চক্রাকার ঘূর্ণনগতিতে পরিণত করতে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করে।

৪। ইনজেকটরের কাজ কী?

উত্তর : ডিজেল ইঞ্জিনের কপ্রেশন স্ট্রোকের শেষে সিলিন্ডারের মধ্যে ডিজেল জ্বালানি স্প্রে করে দহন ঘটানোই ইনজেক্টরের কাজ।

৫। ডিজেল ইঞ্জিনে সুপার চার্জার কী?

উত্তর : অদিক ক্ষমতাসম্পন্ন একাধিক সিলিন্ডার বিশিষ্ট ডিজেল ইঞ্জিনে সাকশন স্টোকে সিলিন্ডারে অধিক পরিমাণ বাতাস জোরপূর্বক প্রবেশ করানাে হয় তাকে সুপার চার্জার বলে।

৬। ডিজেল ইঞ্জিনে পিস্টন রিং এর কাজ কী?

উত্তর : পিস্টন রিং এর কাজ ইঞ্জিন সিলিন্ডারের চার্জ লিকেড়া প্রতিহত করা এবং সিলিন্ডারের মাথায় লুৰ অয়েল উঠাকে বন্ধ করা।

৭। IHP এবং BHP এর পূর্ণ অর্থ লেখ।

উত্তর : IHP এর পূর্ণ অর্থ Indicating Horse Power BHP এর পূর্ণ অর্থ Breaking Horse Pover

৮। আইসি ইঞ্জিন বলতে কী বুঝায়?

উত্তর : যে ইঞ্জিনের জ্বালানির দহনক্রিয় ইঞ্জিন সিলিন্ডারের মধ্যে সংঘটিত হয়, তাকে আই, সি, ইঞ্জিন বলে । যেমন- ডিজেল ইঞ্জিন।

৯। লুব্রিকেটিং সিস্টেম কাকে বলে?

উত্তর : যে পদ্ধতিতে ইঞ্জিনের বিভিন্ন ঘূর্ণায়মান অংশসমূহকে পিচ্ছিল করে ঘর্ষণ হ্রাসের মাধ্যমে সহজ গতি নিশ্চিত করে তাকে লুব্রিকেটিং সিস্টেম বলে।

১০। ইঞ্জিনের ভালভ কত প্রকার ও কী কী?

উত্তর : ইঞ্জিনের ভালভ দুই প্রকার। যথা : (ক) ইনটেক ভালভ ও (খ) এগজস্ট ভালভ।

১১। গভার্নিং কী?

উত্তর : পরিবর্তনশীল চাহিদার সাথে ইঞ্জিনের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করাকে গভার্নিং বলে ।

১২। কম্প্রেশন রেশিও বলতে কী বুঝায়?

উত্তর : ইঞ্জিন সিলিন্ডারের অভ্যন্তরের মোট ভলিউম ও ক্লিয়ারেন্স ভলিউম এর অনুপাতকে কমপ্রেশন রেশিও বলা হয়।

১৩। সুপার চার্জারের কাজ কী?

উত্তর : ইঞ্জিন সিলিন্ডারে পর্যাপ্ত বাতাস সরবরাহকরাই সুপার চার্জারের কাজ।

১৪। এয়ার ক্লিনারের কাজ কী?

উত্তর : ইঞ্জিন সিলিন্ডারে প্রবেশের পূর্বে বাতাসকে পরিষ্কার করার জন্য এয়ার ক্লিনার ব্যবহার করা হয় ।

১৫। ডিজেল ইঞ্জিনকে সি. আই. ইঞ্জিন বলা হয় কেন?

উত্তর : সংকুচিত বাতাসের তাপে ডিজেল ইঞ্জিনের জ্বালানির প্রজ্জ্বলন ঘটে বলে ডিজেল ইঞ্জিনকে কম্প্রেশন ইগনিশ ইঞ্জিন বা C.I. ইঞ্জিন বলা হয় ।

১৬। গ্যাস টারবাইন প্লান্টে জ্বালানি হিসেবে সাধারণত কী কী গ্যাস ব্যবহার করা হয়?

উত্তর : গ্যাস টারবাইন প্রান্টে জ্বালানি হিসেবে হাইস্পিড ডিজেল, ন্যাপথা, প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি ব্যবহার করা হচ্ছে।

১৭। ইন্টার কুলারের কাজ কী? অথবা, গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্লান্টের এয়ার কুলারের কাজ কী?

উত্তর : এর কাজ হচ্ছে প্রাথমিক এয়ার কমপ্রেসরে সৃষ্ট বাতাসের তাপকে আংশিক কমানাের মাধ্যমে দ্বিতীয় স্তরে সুষ্ঠ সংকোচনে সহায়তা করা।

১৮। গ্যাস টারবাইন প্ল্যান্টে স্টার্টিং মােটর কেন ব্যবহার করা হয়?

উত্তর : গ্যাস টারবাইন প্ল্যান্টে স্টার্টিং মােটরের কাজ হল টারবাইনকে চালু করার পূর্বে কপ্রেসরটিকে চালু করা।

১৯। কী কী যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে সাধারণ গ্যাস টারবাইনের দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায়?

উত্তর : নিম্নলিখিত যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে সাধারণ গ্যাস টারবাইনের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হয়। যথা : (ক) রি-জেনারেটর (খ) ইন্টারকুলার (গ) রি-হিটার।

২০। ক্লোজড় গ্যাস টারবাইন সাইকেল কী?

উত্তর : যে সাইকেলে টারবাইনের এ্যাগজস্ট (Exhust) গ্যাস বায়ুমণ্ডলে নিক্ষিপ্ত না করে পুনরায় ঠাণ্ডা করত কার্যকারী মাধ্যম (Working medium) হিসেবে কমপ্রেসরে ব্যবহার করা হয়, তাকে ক্লোজড সাইকেল গ্যাস টারবাইন বলে।

২১। গ্যাস টারবাইন কেন্দ্রে কমবাসশন চেম্বারে বাতাস ও জ্বালানির অনুপাত কত থাকে?

উত্তর : এতে বাতাস ও জ্বালানির অনুপাত 60 ও 1 হয়ে থাকে।

২২। “কবাস্টার বা কমবাসশন” চেম্বার কি?

উত্তর : এটা একটি দহন প্রকোষ্ঠ যেখানে জ্বালানি এবং বাতাসের মিশ্রণ ঘটে এবং দহন ক্রিয়া সম্পন্ন হয় ।

২৩। গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্ল্যান্টে কমপ্রেসারের কাজ কী?

উত্তর : গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্ল্যান্টে কমপ্রেসারের স্থির ব্লেডগুলাে ঘূর্ণিয়মান ব্লেডগুলাে দ্বারা ধাক্কা প্রধানের ফলে বাতাসের চাপ বৃদ্ধি পায়।

২৪। গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্ল্যান্ট কাকে বলে?

উত্তর : যে পাওয়ার প্ল্যান্ট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রাইমমুভার হিসাবে গ্যাস টারবাইনকে ব্যবহার করা হয় তাকে গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্ল্যান্ট বলে।

২৫। ক্লোজড সাইকেল গ্যাস টারবাইনকে প্যাকেজ কেন্দ্র বলা হয় কেন? অথবা, প্যাকেজ প্লান্ট কাকে বলে?

উত্তর : এই ধরনের কেন্দ্রে বাতাস সংকোচন যন্ত্র, গ্যাস টারবাইন এবং বৈদ্যুতিক জেনারেটর একই শ্যাফটের সঙ্গে ঘুরতে থাকে বলে এই ধরনের কেন্দ্রকে প্যাকেজ কেন্দ্র বলে।

২৬। গ্যাস টারবাইন প্ল্যান্টের প্রধান অংশগুলাে কী কী?

উত্তর : প্রধান অংশগুলাে হলাে : (ক) এয়ার কমপ্রেসর (খ) কমবাস্টার বা কমবাসশন চেম্বার, (গ) গ্যাস টারবাইন (ঘ) রি-জেনারেটর (ঙ) জেনারেটর (চ) স্টাটিং মােটর (ছ) ইন্টারকুলার

২৭। গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্ল্যান্টের কার্যনীতি সংক্ষেপে বর্ণনা কর।

উত্তর : এই টারবাইনে বাহির হতে বাতাস কমপ্রেসরের মাধ্যমে ভিতরে আনা হয় এবং উচচ প্রেসারেও তাপমাত্রায় কমবাসশন চেম্বারে প্রজ্জ্বলনের জন্য ডিসচার্জ করা হয়, বাতাসের একটি অংশ প্রজ্জ্বলন রড ফুয়েরে প্রেরণ করা হয়
যাতে এই কমবাসশন প্রডাক্টস (3000°F) কিছুটা ঠাণ্ডা (1350°F) হতে পারে। অতঃপর এই আংশিক ঠাণ্ডাকৃত ফুয়েল টারবাইনে প্রেরণ করা হয় । এই ফুয়েল টারবাইন ব্লেডের কোন ক্ষতি করে।টারবাইনে এই গ্যাস বর্ধিত হয়ে টারবাইন তথা ভেনারেটরের রােটরকে ঘূর্ণন গতি প্রদান করে। সর্বশেষে এই গ্যাস বাহিরের বায়ুমণ্ডলে প্রায় 1000°F তাপমাত্রায় নির্গত হয়ে যায়। টারবাইনে গ্যাসের বৃদ্ধির ফলে যে পাওয়ার সৃষ্টি হয় তা কমপ্রেসর জেনারেটর এবং এর অক্সিলারিডা চালনার জন্য যথেষ্ট হয়ে থাকে।

২৮। রি-জেনারেটর কী?

উত্তর : রি-জেনারেটর গ্যাস টারবাইন প্ল্যান্টের এমন একটি মাধ্যম বা টারবাইনের নির্গত গ্যাস হতে তাপ পুনরুদ্ধার করে নির্গত গ্যাসকে বায়ুমন্ডলে ছেড়ে দেয়ার পূর্বে রি-জেনারেটরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করানাে হয় ।

২৯। একটি সাধারণ গ্যাস টারবাইন প্ল্যান্ট কী কী অংশের সমন্বয়ে গঠিত লিখ।

উত্তর : যে সকল অংশের সমন্বয়ে গঠিত সেগুলাে হলো : (ক) নন-কনডেন্সিং টারবাইন (খ) কমপ্রেসর (গ) কমবাসশন চেম্বার (ঘ) জেনারেটর (ঙ) বিভিন্ন অক্সিলারিজ।

৩০। গ্যাস টারবাইনকে কী কী ভাগে ভাগ করা যায়?

উত্তর : নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা যায়, যথা : (ক) লােড ভেদে (খ) ব্যবহার ভেদে (গ) সাইকেল অনুযায়ী (ঘ) শ্যাফটের সংখ্যা অনুযায়ী (ঙ) জ্বালানি ভেদে।

৩১। ওপেন সাইকেল গ্যাস টারবাইন কাকে বলে?

উত্তর : যে গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বায়ুমন্ডল থেকে বাতাস নিরবচ্ছিন্নভাবে কমপ্রেসরে প্রবেশ করে এবং গ্যাস টারবাইন থেকে নির্গত এগজস্ট বা নিঃশেষিত গ্যাস বায়ুমন্ডলে ক্রমাগতভাবে ডিসচার্জ হতে থাকে তাকে ওপেন সাইকেল গ্যাস টারবাইন বলে।

রেফারেন্সঃ জেনারেশন অব ইলেক্ট্রিক্যাল এনার্জি পাওয়ার প্লান্ট জব প্রশ্ন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here