কালার কোড এবং সোল্ডারিং আয়রন

প্রিয় পাঠক আজকে আমরা সোল্ডারিং আয়রন এবং কালার কোড সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর সম্পর্কে জানবো।

১। কালার কোড কী? অথবা, কালার কোড পদ্ধতি কী?

উত্তর : রেজিস্টর বা ক্যাপাসিটর এর মান প্রকাশের উদ্দেশ্য এদের গায়ে বিভিন্ন রঙের কতগুলাে চিহ্ন রিং আকারে প্রদান করা থাকে। এ চিহ্নগুলােকে কালার কোড বা কালার কোড পদ্ধতি বলে।

২। সােল্ডারিং বলতে কী বুঝায়?

উত্তর : সােল্ডারিং শব্দের অভিধানিক অর্থ ঝালাই করা। দুই বা ততােধিক শিক্ষার ধাতব পদার্থকে উত্তপ্ত সােল্ডারিং আয়রন এর সাহায্যে সােল্ডার গলিয়ে সংযােগ করার পদ্ধতিকে সােল্ডারিং বলা হয়।

৩। আধুনিক পদ্ধতিতে ০.90 কে কিভাবে লেখা হয়?

উত্তর :আধুনিক পদ্ধতিতে ০.90 কে OR9 হিসাবে লেখা হয়।

৪। সােল্ডারিংয়ের সময় রেজিন ব্যবহার করা হয় কেন?

উত্তর : সােল্ডারিংয়ের সময় রেজিন ব্যবহার করা হলে সােল্ডার সহজে গলে গিয়ে সংযােগস্থলে ভালভাবে লেগে যায়।

৫। সারফেস মাউন্টেড ডিভাইস কাকে বলে?

উত্তর : যে সকল ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা কম্পােনেন্টের কোন লেগ থাকে না এবং যারা এদের বডি বা সারফেস দ্বারা সার্কিটের সাথে সংযুক্ত হয়, তাদেরকে সারফেস মাউন্টেড ডিভাইস বলে।

৬। সােল্ডারে ব্যবহৃত সীসা ও টিনের অনুপাত কত?

উত্তর : সােল্ডারে ব্যবহৃত সীসা ও টিনের অনুপাত ৪০ ও ৬০।

৭। ভালাে ঝালাই করতে কী কী শর্তপূরণ করতে হয়? অথবা, সােল্ডারিং-এর কয়েকটি মূল নিয়ম লেখ।

উত্তর : ভালাে ঝালাই-এর শর্ত বা নিয়মসমূহ নিম্নরূপ :
(১) ঝালাই-এর পূর্বে ঝালাই-এর স্থান (জায়গা) ভালােভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
(২) ইলেকট্রনিক সার্কিটের ক্ষেত্রে 25 ওয়াট থেকে 40 ওয়াটের সােল্ডারিং আয়রন ব্যবহার করতে হবে।
(৩) সােল্ডারিং ভালোভাবে গরম করে নিতে হবে ।
(৪) সােল্ডারিং বিট এবং সংযােগস্থল রেজিন দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
(৫) রেজিন কোরড ব্যবহার করতে হবে, তা না হলে আলাদাভাবে রেজিন ব্যবহার করতে হবে।
(৬) অধিক পরিমাণ টিনযুক্ত সােল্ডার ব্যবহার করতে হবে; সাধারণত টিনের পরিমাণ 60% এবং সীসার পরিমাণ 40% যুক্ত সােল্ডার ব্যবহার করতে হয় ।
(৭) প্রয়ােজনমত সােন্ডার লাগাতে হবে। খুব কম অথবা বেশি সােল্ডার ব্যবহার করা যাবে না। কনিক্যাল আকারে সােল্ডার লাগাতে হবে।

৮। রেজিস্ট্যান্সের টলারেন্স বলতে কী বুঝায়?

উত্তর : রেজিস্টর প্রস্তুতকারক সংস্থা যখন রেজিস্টার তৈরি করে, তখন তারা রেজিস্টরের সঠিক মান (Value) বজায় রাখতে পারে না। তৈরি হওয়া রেজিস্টারের মান নির্দিষ্ট মানের চেয়ে সব সময় কিছু কম বা বেশি হয়। মানের এই কম-বেশি হওয়াকে টলারেন্স দ্বারা প্রকাশ করা হয়। রেজিস্টরের গায়ের সর্বশেষ ব্যান্ডটি হচ্ছে টলারেন্স ব্যান্ড। টলারেন্স ব্যান্ডে সাধারণত সােনালী ও রুপালী রঙ থাকে। আর যদি এ দুইটির একটিও না থাকে তখন তাকে নাে- কালার (No Cour) টলারেন্স বলা হয়।

৯। PCB কী?

উত্তর : ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রগুলাে মূলত একটি ইলেকট্রনিক সার্কিট দ্বারা গঠিত। আর এই ইলেকট্রনিক্স সার্কিট তৈরি করতে যে বোর্ডের প্রয়ােজন হয় তাকে PCB বলে। এতে কোন ইলেকট্রনিক সার্কিটের লে-আউট বা ওয়্যারিং।ডায়াগ্রাম ও বাের্ডের উপর তরল (Liquid) কপার দ্বারা প্রিন্ট করা হয়।

১০। ইলেকট্রনিক ডিভাইস কাকে বলে?

উত্তর : যে সমস্ত ডিভাইসে কোন ভ্যাকুয়াম গ্যাস বা সেমিকন্ডাক্টর এর মধ্য দিয়ে ইলেকট্রন প্রবাহের ফলে সৃষ্ট কারেন্ট প্রবাহিত হয় তাদেরকে ইলেকট্রনিক ডিভাইস বলে।

১১। সােল্ডার সাধারণত কোন পদার্থের তৈরি হয়?

উত্তর : সােল্ডার সীসা এবং টিন এর মিশ্রণে তৈরি করা হয়। এতে সীসা ও টিনের অনুপাত 4): 60 হয়। এছাড়া অনেক সময় সােল্ডারে রেজিন বা ফ্রান্সের কোর ব্যবহার করা হয় ।

১২। সােল্ডারিং-এর ধাপগুলাে সংক্ষেপে লেখ।

উত্তর : সােল্ডারিং এর ধাপ (আদর্শ সােল্ডারিং-এর ধাপসমূহ) নিম্নরূপ-
(ক) সােল্ডারিং ট্যাগ ও আয়রন টিপ পরিচ্ছন্নকরণ এবং ক্যাবলের (Wire) যে অংশ ঝালাই করা হবে, তার ইনসুলেশন অপসারণ করা।
(খ) দুটি তার যান্ত্রিকভাবে জোড়া দেয়া এবং সােল্ডারিংকরণ।
(গ) তার নির্বাচন ও প্রয়ােজনীয় দৈর্ঘ্য কর্তন।
(ঘ) সােন্ডারিং আয়রন, সােল্ডারিং ট্যাগ এবং লিড নির্বাচন।
(ঙ) সোল্ডারিং পরীক্ষা : সােল্ডারিং করার সময় লক্ষ রাখতে হবে যেন সংযােগস্থলে ড্রাই সোল্ডারিং না হয়।

১৩। সােল্ডারিং এর কাজ লিখ।

উত্তর : সােল্ডারিং সংযােগস্থলকে শক্ত, মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী করে।

১৪। ইলেকট্রনিক কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় কোন রেজিস্টর?

উত্তর : কার্বন কম্পােজিশন রেঞ্জিস্টর।

১৫। প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড কী?

উত্তর : প্রিন্টেড সার্কিট বাের্ড একটি ছিদ্রযুক্ত প্লাস্টিকের বাের্ড, যাতে কোন সার্কিট ডিজাইন করা হয়।

১৬। বাথ এবং ওয়েভ সােল্ডারিং টেকনিক বলতে কী বুঝায়?

উত্তর : অটোমেটিক পদ্ধতিতে যদি পিসি বাের্ডটি এক পথে গলিত (লিকুইড) সােল্ডারে গিয়ে সােল্ডারিং হয়ে পুনরায় পূর্ব পথে ফিরে আসে, তবে তাকে বাথ (Bath) সােল্ডারিং পদ্ধতি এবং যদি পিসি বাের্ডটি এক পথে লিকুইড সােল্ডার পাত্রে গিয়ে অন্য পথে বেরিয়ে আসে, তবে তাকে ওয়েভ সােল্ডারিং পদ্ধতি বলে।

১৭। কোনটি স্বয়ংক্রিয় সােল্ডারিং টেকনিক?

উত্তর : বাথ এবং ওয়েভ সােল্ডারিং টেকনিক স্বয়ংক্রিয় সােল্ডারিং টেকনিক।

১৮। সােল্ডারিং করার পর সংযোগস্থল কিভাবে পরীক্ষা করতে হয়?

উত্তর : সংযােগস্থল ঠাণ্ডা হলে সংযােগস্থলের দু’প্রান্তে সামান্য টান দিয়ে দেখতে হয় সােল্ডারিং ঠিক হয়েছে কি না।

১৯। সােল্ডার কাকে বলে? অথবা, সােল্ডারিং লিড কী?

উত্তর : উত্তপ্ত সােল্ডারিং আয়রনের সাহায্যে যে নরম ধাতু বা সংকর ধাতুকে গলিয়ে গলিত অবস্থায় সংযােগস্থলে প্রয়ােগ করে দুটি ধাতু খণ্ডকে জোড়া দেয়া হয়, তাকে সােল্ডার বা সােল্ডারিং লিড বলে।

২০। ইলেকট্রোলাইটিক ও নন-ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর এর ব্যবহার লিখ।

উত্তর : ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর এসি সাপ্লাই-এ ফিল্টারিং এর কাজে এবং নন-ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর অডিও ফ্রিকুয়েন্সি অ্যামপ্লিফায়ার, পাওয়ার সাপ্লাই এবং টিভি সার্কিটে বহুল ব্যবহার হয়।

২১। রেজিস্টর কি?

উত্তর : কারেন্ট প্রবাহে বাধা প্রদান করার উদ্দেশ্য যে ডিভাইস তৈরি করা হয় তাকে রেজিস্টর বলে।।

২২। ক্যাপাসিটর কি?

উত্তর : যে ইলেক্ট্রনিক কম্পান্যান্ট এর মাধ্যমে চার্জ সঞ্চয় করে রাখা যায় তাকে ক্যাপাসিটর বলে।

২৩। ইন্ডাক্টর কি?

উত্তর : যে ডিভাইস কারেন্টের ফ্লাক্স প্রবাহের যেকোন পরিবর্তনকে বাধা প্রদান করে, তাকে ইন্ডাকটর বলে।

২৪। মাইকা ক্যাপাসিটর কি?

উত্তর : যে ক্যাপাসিটর এ ডাই ইলেকট্রিক হিসাবে মাইক ব্যবহার করা হয় তাকে মাইকা ক্যাপাসিটর বলে।

২৫। নন-ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর কাকে বলে?

উত্তর : যে সকল ক্যাপাসিটর পােলারাইড নস এবং যাতে পজেটিভ ও নেগেটিভ পােলারিটি চিহ্নিত থাকে না, তাকে নন-ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর বলে ।

২৬। ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর কাকে বলে?

উত্তর : যে সকল ক্যাপাসিটর পজেটিভ ও নেগেটিভ পােলারিটি যুক্ত এবং সে ক্যাপাসিটর তৈরিতে ইলেকট্রোলাইট ব্যবহার করা হয় তাকে ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর বলে ।

২৭। Inductance এর ব্যবহার লেখ।
উত্তর : (১) অসিলেটর সার্কিটে।

(২) এম-রিসিভারে।
(৩) এম ট্রান্সমিটারে নিয়ে।
(৪) কাপলার সার্কিট।

২৮। ইলেকট্রনের প্রবাহকে লিমিট করতে পারে এমন ডিভাইসকে কী বলে?

উত্তর : ইলেকট্রনের প্রবাহকে লিমিট করতে পারে এমন ডিভাইসকে রেজিস্টর বলে।

২৯। রেজিস্টরের কারেন্ট প্রবাহের পথে বাধা প্রদান করার ধর্মকে কী বলা হয়?

উত্তর : রেজিস্টরের কারেন্ট প্রবাহের পথে বাধা প্রদান করার ধর্মকে রেজিস্ট্যান্স বলে।

৩০। গঠনপ্রণালি অনুযায়ী ওয়্যার উন্ড রেজিস্টর কয় ধরনের ও কী কী?

উত্তর : গঠনপ্রণালি অনুযায়ী ওয়্যার উল্ড রেজিস্টর তিন ধরনের হয়। যথা :
(১) ট্যাপড় ওয়্যার উল্ড রেজিস্টর,
(২) অ্যাডজাস্টেবল ওয়্যার উন্ড রেজিস্টর এবং
(৩) ফিক্সড ওয়্যার উন্দু রেজিস্টর।

৩১। সােল্ডারিং-এর প্রয়ােজনীয় কী?

উত্তর : সংযােগস্থলকে শক্ত, মজবুত এবং স্থায়ী জন্যই বৈদ্যুতিক সংযােগে সােল্ডারিং করা হয়। সােল্ডারিং না করা হলে সংযােগস্থল ঢিলা থাকে। ফলে স্পর্কিং হয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সােল্ডারিং করা
হলে সংযােগস্থলে অবিচ্ছিন্নতা বৃদ্ধি পায় এবং কন্ডাকটিভিটি বাড়ে।

৩২। রজন (Resin) কী? সােল্ডারিংয়ের সময় এটি ব্যবহার করা হয় কেন?

উত্তর : রজন অ্যাম্বার (amber) জাতীয় গাছ হতে নি:সৃত এক ধরনের জমানাে রস। সােল্ডারিং করার সময় সােল্ডারের সাথে এটি ব্যবহার করা হয়।
সােল্ডারিং আয়রন টিপ কম্পােনেন্ট লিড এবং সংযােগস্থলে কোন প্রকার অক্সাইড কোটিং বা ময়লা থাকলে রজন ব্যবহারের ফলে তা দূর হয়ে যায়। এছাড়া রজন গলিত সােল্ডারকে সম্পূর্ণ জয়েন্টে সমানভাবে প্রবাহিত (flow) হতে সাহায্য করে। ফলে সংযােগ স্থলের যে কোন সুক্ষ্ম জায়গা পর্যন্ত সােল্ডার পৌছাতে সক্ষম হয়।

৩৩। ডি সােল্ডারিং টেকনিক কী? অথবা, ডি সােল্ডারিং বলতে কী বুঝায়?

উত্তর : যে পদ্ধতিতে সংযােগস্থল থেকে পুরাতন সােল্ডারকে দূর করা হয়, তাকে ডিসােল্ডারিং টেকনিক বলে । এ পদ্ধতিতে একটি চোষক যন্ত্র ব্যবহার করা হয় যা সংযােগস্থল থেকে উত্তপ্ত সােল্ডারকে চুষে নিয়ে সংযােগস্থলকে পরিস্কার করে দেয়। এটি অনেকটা ইঞ্জেকশন সিরিজের মত কাজ করে ।।

৩৪। পি.সি.বি. তে সােল্ডারিং করার সময় কী কী বিষয়ের উপর লক্ষ্য রাখতে হবে।।

উত্তর : নিচে পি.সি.বি. তে সােল্ডারিং করার সময় যে বিষয়ের উপর লক্ষ্য রাখতে হয় সেগুলাে নিম্নরূপ :
(১) তাপমাত্রা যাতে বেড়ে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
(২) 25 ওয়াট এর বেশি রেটিং সােল্ডারিং ব্যবহার করা যাবে না।।
(৩) অতিরিক্ত সােল্ডারিং করা যাবে না। এতে পাথ শর্ট হওয়ার ভয় থাকে।

৩৫। ড্রাই সােল্ডার বলতে কী বুঝায়?

উত্তর : সােল্ডারিং করার সময় সংযােগস্থলে সােল্ডার না লেগে উপর দিকে সােন্ডার গলে লেগে থাকে। এক্ষেত্রে QCB বাের্ডের সারমােস তলে কপারের প্রলেপ এর সাথে সােল্ডার না লেগে কম্পােনেন্ট এর লিডে লেগে থাকে; যা কার্যত মজবুত হয় না এবং সােন্ডারের নিচে ফাক (গ্যাপ) থাকে যাতে বায় চলাচল করতে পারে। এরূপ সােল্ডারিংকে ড্রাই সােল্ডারিং বলা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here