ক্যাপাসিটর কাকে বলে

ক্যাপাসিটর কাকে বলে কতপ্রকার কিভাবে কাজ করে এই প্রশ্নটি অহরহ শোনা যায়। আমরা আজকে এই প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করবো।

ক্যাপাসিটর (Capacitor) : ক্যাপাসিটর শব্দের অর্থ হলাে ধারক। ধাতু বা যে কোন পরিবাহী পদার্থের দু’টি পাত (plate) কে পাশাপাশি সমান্তরালভাবে স্থাপন করে তাদের মাঝখানে একটি ইনসুলেটর বা অপরিবাহী পদার্থ রেখে ঐ পাত দুটিকে পৃথক করা হলে একটি ক্যাপাসিটর গঠিত হয়। একে কন্ডেন্সারও বলা হয়। ক্যাপাসিটরের পরিবাহী পাত দুটিকে বলা হয় প্লেট বা ইলেট্রোড এবং মাঝখানের অপরিবাহী।
পদার্থকে বলা হয় ডাই-ইলেকট্রিক (Dielectric)।

ক্যাপাসিটর কাকে বলে বা কি
যে বস্তু কোন কিছু ধরে রাখতে পারে তাকে ধারক বলে। ক্যাপাসিটর চার্জকে ধরে রাখতে পারে বলে এর নাম ধারক বা ক্যাপাসিটর।

ক্যাপাসিটর প্রধানত দু’প্রকার। যথা-
(১) ফিক্সড ক্যাপাসিটর (Fixed capacitor)
(২) ভ্যারিয়েবল ক্যাপাসিটর (Variable capacitor)

(১) ফিক্সড ক্যাপাসিটর :

যে সকল ক্যাপাসিটরের মান স্থির থাকে, পরিবর্তন করা যায় না, তাকে স্থির ধারক বা ফিক্সড ক্যাপাসিটর বলে। ধারণ ক্ষমতা, আকৃতি এবং ব্যবহৃত ডাই-ইলেকট্রিকের ওপর ভিত্তি করে একে ৬ ভাগে।
ভাগ করা যায়। যথা :

(ক) পেপার ক্যাপসিটর (Paper capacitor)
(খ) মাইকা ক্যাপাসিটর (Mica capacitor)
(গ) সিরামিক ক্যাপাসিটর (Ceramic capacitor)
(ঘ) পলিয়েস্টার ক্যাপাসিটর (Polyester capacitor)
(ঙ) স্ট্রিলােফ্লেক্স ক্যাপাসিটর (Striloflex capacitor)

(চ) ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর (Electrolytic capacitor)

(২) ভ্যারিয়েবল ক্যাপাসিটর :

যে ক্যাপাসিটরের মান পরিবর্তন করা যায় তাকে পরিবর্তনশীল ধারক বা ভ্যারিয়েবল ক্যাপাসিটর বলে। একে দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
(ক) এয়ার টিউন্ড (Air tuned) বা এয়ার স্পেসও (Air spaced)

(খ) মাইকা টিউভ (Mica tuned)
পােলারিটি অনুসারে ক্যাপাসিটরকে আবার দু’ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

১। পােলারাইজড ক্যাপাসিটর : এতে পজেটিভ ও নেগেটিভ পােলারিটি চিহ্নিত করা থাকে।

২। নন-পােলারাইজড ক্যাপাসিটর : এতে পজেটিভ ও নেগেটিভ পােলারিটি চিহ্নিত করা থাকে না।

বিভিন্ন ধরনের ক্যাপাসিটর সম্পর্কে বর্ণনা 

ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটার :

এই ক্যাপাসিটর হচ্ছে পজেটিভ ও নেগেটিভ পােলারিটি যুক্ত একটি পােলারাইজড ক্যাপাসিটর। এ ধরনের ক্যাপাসিটর তৈরিতে ইলেকট্রোলাইট ব্যবহার করা হয় বলে এদেরকে
ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর বলা হয়। যে সকল সার্কিটে ডিসি অথবা পালসেটিং ডিসি প্রবাহিত হয় কেবলমাত্র ঐ সকল সার্কিটে ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর ব্যবহৃত হয়। অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ সঞ্চয় করে রাখার জন্য ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর ব্যবহার করা হয়। ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটরের কতগুলাে বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
যা নিচে উল্লেখ করা হলাে- ইলেক্ট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর

ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটরের বৈশিষ্ট্য
১। এটি এক ধরনের পােলারাইজড ক্যাপাসিটর।
২। এর প্লেট দু’টি পজেটিভ এবং নেগেটিভ ইলেকট্রোড হিসেবে চিহ্নিত থাকে।
৩। এটি সাধারণত ডিসিতে ব্যবহৃত হয়।
৪। এ ধরনের ক্যাপাসিটরের ক্যাপাসিট্যান্সের মান সাধারণত এক মাইক্রো ফ্যারাড বা তার চেয়ে বেশি হয়।
৫। এরা আকারে খুব ছােট হয়।

ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটরের গঠন ও কার্যনীতি

দু’টি অ্যালুমিনিয়াম (AL) প্লেটের মাঝখানে কোন উপযুক্ত ইলেকট্রোলাইট অর্থাৎ তড়িৎ রিশ্লেষ্য অথবা কোন তরল পরিবাহী (সাধারণত অ্যামােনিয়া, বরিক এসিড এবং পানির সংমিশ্রণ) রেখে এদের মধ্যে ডাইরেকট কারেন্ট (ডিসি)
পাঠালে ডিসি সাের্সের পজেটিভ টার্মিনালের সাথে যুক্ত অ্যালুমিনিয়াম প্লেটটির ওপর অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড এর একটা পাতলা স্তর পড়ে। এ স্তরটাই হচ্ছে বিদ্যুৎ অপরিবাহী (Insulator) এবং এটাই দুই প্লেটের মাঝখানে ডাই-ইলেকট্রিকের কাজ করে। এ ডাই ইলেকট্রিকের স্তরটিকে ঠিক রাখার জন্য ডিসি সাের্সের সাথে সংযুক্ত প্লেটটিতে
পজেটিভ (+) চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করা থাকে। ক্যাপাসিটর কাকেে বলে

এ অবস্থায় এ সমস্ত ব্যবস্থাটিকে একটা অ্যালুমিনিয়াম ক্যাপসুলের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হয় এবং এ ক্যাপসুলের সাথে অ্যালুমিনিয়ামের একটা টার্মিনাল যুক্ত থাকে যা ক্যাপাসিটরের নেগেটিভ
টার্মিনাল হিসেবে কাজ করে। ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটরের দু’টি প্লেটের একটি পজেটিভ হিসেবে এবং একটি নেগেটিভ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সার্কিটে কানেকশনের সময় খেয়াল রাখতে হয় যাতে পজেটিভ টার্মিনাল সার্কিটের পজেটিভ টার্মিনালের সাথে সংযুক্ত করা হয়। অন্যথায় অক্সাইড স্তরটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ক্যাপাসিটর নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটরের প্রকারভেদ
ইলেকট্রোলাইট ক্যাপাসিটর মূলত দু’ধনের হয়। যথা-
১। ওয়েট টাইপ (Wet type)
২।, ড্রাই টাইপ (Dry type)।
ওয়েট টাইপ : এ ধরনের ক্যাপাসিটরের একটি ইলেকট্রোড অ্যালুমিনিয়ামের এবং অন্যটি ইলেকট্রোলাইটিক সলিউশন, সাধারণত অ্যামােনিয়া, বরিক এসিড এবং পানির সংমিশ্রণ।

ড্রাই টাইপ : এ ধরনের ক্যাপাসিটরের উভয় প্লেট অ্যালুমিনিয়ামের লম্বা ফালি দিয়ে তৈরি এবং এগুলাে ইলেকট্রোলাইট দ্বারা সম্পৃক্ত বিশেষ কাগজ দ্বারা পৃথক করা থাকে। পরে এগুলােকে একত্রে গুটিয়ে দৃঢ়ভাবে বাধা হয়।

নন-ইলেকট্রালাইটিক ক্যাপাসিটর :

যে সকল ক্যাপাসিটর পােলারাইজড নয় এবং যাতে পজেটিভ ও নেগেটিভ। পােলারিটি চিহ্নিত থাকে না, তাকে নন-ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর বলে। দুটো ধাতব পাতের মাঝখানে একটি অপরিবাহী মাধ্যম, যেমন- পেপার, মাইকা, সিরামিক বা পলিয়েস্টার রেখে। একে একটা প্লাস্টিক বা ধাতুর ক্যাপসুলের মধ্যে আবদ্ধ করে নন ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর তৈরি করা হয়। এতে ব্যবহৃত অপরিবাহী মাধ্যমটিই এর ডাই-ইলেকট্রিকের কাজ করে এবং এ অপরিবাহী মাধ্যমের নামানুসারেই। ক্যাপাসিটরের নামকরণ হয়ে থাকে। যেমন- পেপার ক্যাপাসিটর, সিরামিক ক্যাপাসিটর, মাইকা ক্যাপাসিটর, পলিয়েস্টার ক্যাপাসিটর, স্টিলােফ্লেক্স ক্যাপাসিটর ইত্যাদি। এ ধরনের ক্যাপাসিটরের মান কয়েকশত পিকোফ্যারাডের মধ্যেই সীমিত থাকে।

পেপার ক্যাপাসিটর (Paper Capacitor)

এটি একটি বহুল ব্যবহৃত ক্যাপাসিটর। এতে ডাই-ইলেকট্রিক হিসেবে পেপার অর্থাৎ কাগজ ব্যবহৃত হয়, যার জন্য। এর নাম পেপার ক্যাপাসিটর।।
হাই এবং লাে উভয় ভােল্টেজ যুক্ত সার্কিটেই পেপার ক্যাপাসিটর ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত পাওয়ার সাপ্লাই এবং অ্যামপ্লিফায়ারে কাপলিং ও বাইপাস ক্যাপাসিটর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পেপার ক্যাপাসিটর

মাইকা ক্যাপাসিটর

এ ধরনের ক্যাপাসিটরে ডাই-ইলেকট্রিক হিসেবে মাইকা ব্যবহার করা হয়। সাধারণত এদের গায়ে এদের ভ্যালু এবং ভােল্টেজ রেটিং লেখা থাকে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এদের গায়ে রেজিস্টরের মত কালার কোড দেয়া থাকে, যা থেকে এদের মান নির্ণয় করতে হয়। এটি সাধারণত হাই ফ্রিকুয়েন্সিতে গ্রাহক এবং প্রেরক যন্ত্রের আরএফ (R-F) সার্কিটে ব্যবহৃত হয়। ক্যাপাসিটর কাকে বলে। মাইকা ক্যাপাসিটর

সিরামিক ক্যাপাসিটর

সিরামিক ক্যাপাসিটরে ডাই-ইলেকট্রিক হিসেবে সিরামিক ব্যবহৃত হয়। সিরামিকের ডাই -ইলেকট্রিক খুব বেশি। তাই তাপমাত্রা এবং ভােল্টেজের পরিবর্তন সত্ত্বেও এ ক্যাপাসিটরের স্থিতিশীলতা ঠিক থাকে। এদের মান সাধারণত 1
পিকোফ্যারাড থেকে 105 পিকোফ্যারাড পর্যন্ত হয় এবং এদের ওয়ার্কিং ভােল্টেজ 500 ভােল্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এ ধরনের ক্যাপাসিটর শর্ট ওয়েভ সার্কিটের জন্য বিশেষ উপযােগী। এটি টিউনিং সার্কিটে, বাইপাস সার্কিটে এবং কাপালিং করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

সিরামিক ক্যাপাসিটর
ক্যাপাসিটর কাকে বলে

পলিয়েস্টার ক্যাপাসিটর

এ ধরনের ক্যাপাসিটরে পলিয়েস্টার ফয়েল ব্যবহৃত হয়। এর বাইরের দিকটা এক বিশেষ ধরনের ইনসুলেশন ও পানি। নিরােধক ল্যাকারের দ্বারা ঢাকা থাকে। এদের মান সাধারণত 10 পিকোফ্যারাড হতে 10 পিকো ফ্যারাড পর্যন্ত হয়।
এবং এদের ওয়ার্কিং ভােল্টেজ 500 ভােল্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এ ধরনের ক্যাপাসিটর স্থিতিশীল, আদ্রতা প্রতিরােধক, আকারে ছােট এবং দামে সপ্তা বলে এটি সার্কিটের বিভিন্ন জায়গাতে ব্যবহৃত হয়। তবে কাপলিং এবং বাইপাস সার্কিটে বেশি ব্যবহৃত হয়। ক্যাপাসিটর কাকে বলে পলিয়েস্টার ক্যাপাসিটর

স্ট্রিলােফ্লেক্স ক্যাপাসিটর

স্ট্রিলােফ্লেক্স হচ্ছে ছােট আকারের একটা স্বচ্ছ ক্যাপাসিটর । এর লস অনেক কম এবং ফ্রিকুয়েন্সি ক্যরেকটারিস্টিক অনেক বেশি। এদের ওয়ার্কিং ভােল্টেজ 125 ভােল্ট থেকে 250 ভােল্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এদের ভ্যালু ওয়ার্কিং ভােল্টেজ এবং টলারেন্স গায়ে লেখা থাকে। এ ধরনের ক্যাপাসিটর সাধারণত টিউনিং অসিলেটর এবং ফ্রিকুয়েন্সি ডিটারমিনিং সার্কিটে বেশি ব্যবহৃত হয়।

মাইকা টিউন্ড ক্যাপাসিটর

এ ধরনের ক্যাপাসিটর ট্রিমার ক্যাপাসিটর নামে পরিচিত। এদের ভ্যালু খুব কম হয়। সাধারণত 4 পিকো ফ্যারাড থেকে 70 পিকোফ্যারাডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এ ধরনের ক্যাপাসিটরের মান পরিবর্তনশীল। তবে এগুলাের সাহায্যে খুব কম ভ্যালু ভ্যারিয়েশন করা সম্ভব হয়। রেডিওর টিউনিং সার্কিটে এটি ব্যবহৃত হয়।

এয়ার স্পেসড ক্যাপাসিটর

এয়ার স্পেসড ক্যাপাসিটর এক ধরনের নন-ইলেকট্রোলাইটিক ক্যাপাসিটর। এ ক্যাপাসিটরে এর প্লেট দুটির মাঝখানে ডাই-ইলেকট্রিক হিসেবে বাতাস ব্যবহার করা হয়। যে ক্যাপাসিটরের প্লেট দু’টির মাঝখানে ডাই-ইলেকট্রিক হিসেবে বাতাস ব্যবহার করা হয় তাকে এয়ার স্পেসড় ক্যাপাসিটর বলে। এ ধরনের ক্যাপাসিটরের ক্যাপাসিট্যান্স মান
অনেক কম অর্থাৎ ০.০luf এর মধ্যে সীমিত থাকে। রেডিওতে সঠিক স্টেশন ধরার কাজে এয়ার টিউন্ড ক্যাপাসিটর ব্যবহার করা হয়।

এয়ার স্পেসড ক্যাপাসিটর এয়ার স্পেসড ক্যাপাসিটরে দুটি সারিতে অনেকগুলাে ধাতব প্লেট কিছুটা ফাক ফাক করে সমান্তরালভাবে বসানাে
থাকে। এক সারির প্লেটগুলাে স্থির থাকে। একে স্ট্যাটর (stator) প্লেট বলে। অন্য (দ্বিতীয় সারির প্লেটগুলাে স্ট্যাটর প্লেটগুলাের মধ্যের ফাঁকা জায়গা দিয়ে ভেতরে ও বাইরে যাতায়াত করতে পারে। দ্বিতীয় সারির প্লেটগুলােকে বলা হয় রােটর (Rotor), প্লেট (E ও F)। রােটর প্লেট যখন স্ট্যাটর প্লেটের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করে তখন দুই। সারির প্লেটের মধ্যে কোন স্পর্শ লাগে না। স্ট্যাটর ও রােটর প্লেটের মধ্যে বাতাস ডাই-ইলেকট্রিক হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ উভয় প্লেটকে বাতাস পৃথক করে রাখে। ঘােরানাের সুবিধার জন্য রােটর প্লেটগুলাে একটি শ্যাফট এর সাথে যুক্ত থাকে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here