প্রিয় পাঠক আজকে আমরা জানবো কিভাবে সহজে কালার কোড এবং সংখ্যা পদ্ধতি অনুসরণ করে রেজিস্টর ও ক্যাপাসিটর এর মান নির্ণয় করা যায়।

সংখ্যা পদ্ধতিতে রেজিস্টরের মান নির্ণয়ঃ

রেজিস্টরের গায়ে লিখিত ‘অঙ্কমান বা ম্যানুফ্যাকচারিং ডাটা থেকে রেজিস্টরের মান নির্ণয় করা যায়। এক্ষেত্রে ওহমকে Ω কিলােওহমকে KΩ এবং মেগাওহমকে MΩ ইত্যাদি দ্বারা প্রকাশ করা হয়। তবে বর্তমানে Ω এর পরিবর্তে R বা E দ্বারা ওহম বুঝানাে হচ্ছে এবং কিলােওহম, মেগাওহম ইত্যাদি মানকে KΩ, MΩ এর পরিবর্তে শুধুমাত্র K, M ইত্যাদি দ্বারা বুঝানাে হচ্ছে। পূর্বে কোন রেজিস্টরের মান পূর্ণ সংখ্যা বা দশমিকে সরাসরি লেখা হতাে। বর্তমানে এ লেখার রীতি পরিবর্তন করে দশমিকের ব্যবহার তুলে দেয়া হয়েছে। নিচের ছকে বর্তমান লিখন পদ্ধতিতে কতকগুলাে রেজিস্টরের মান উল্লেখ করা হলাে –

কালার কোড রেজিস্টর (Colour Code Resistor)

ছােট আকারের রেজিস্টর বা ক্যাপাসিটরের মান প্রকাশের উদ্দেশ্যে এদের গায়ে বিভিন্ন রঙের কতগুলাে চিহ্ন রিং আকারে প্রদান করা হয়ে থাকে। এ চিহ্নগুলােকে কালার কোড বা কালার ব্যান্ড বলে। আবার যখন কোন রেজিস্টরের
গায়ে কালার কোড দ্বারা এর মান প্রকাশ করা হয় তখন তাকে কালার কোড রেজিস্টর বলে। ছােট ছােট রেজিস্টরের গায়ে এদের মান লিখা সম্ভব হয় না বলে কালার কোড পদ্ধতিতে এদের মান প্রকাশ করা হয়। রেজিস্টরের গায়ে সাধারণত বাদামী বা অন্য কোন হালকা রঙের প্রলেপ দেয়া থাকে।

এ প্রলেপের ওপর রেজিস্টরের যে কোন একধারে সামান্য একটু দূরে পরপর তিনটি রঙের রিং বা ব্যান্ড । (A,B,C) দেয়া থাকে এ তিনটি রং থেকে একটু বেশি দূরে রেজিস্টরের। অন্য ধারে বাদামী, লাল, সােনালী বা রূপালী রঙের আর একটি রিং দেয়া থাকে। এটি হচ্ছে রেজিস্টরের চতুর্থ ব্যান্ড (D) এবং এর সাহায্যে ৪ রেজিস্টরের টলারেন্স নির্ণয় করা হয়। আর যদি চতুর্থ ব্যান্ডে কোন রং না থাকে তবে চতুর্থ ব্যান্ডের জন্য বলা হয় কোন রং নেই বা নােকালার (No Colour) । রেজিস্টরের মান নির্ণয়ের জন্য প্রথমে রংগুলােকে চিহ্নিত করা হয়, পরে চার্ট থেকে ঐ সমস্ত রঙের জন্য নির্ধারিত মান নিয়ে নিম্নলিখিত সূত্র। ব্যবহার করে এর মান নির্ণয় করা যায়।

সূত্রটি নিম্নরূপ :

R = AB x 10ª ওহম।
এখানে, R = রেজিস্ট্যান্স (ওহম)
A = ১ম অংক (1st digit), ১ম ব্যান্ডের রঙের জন্য নির্দিষ্ট অংক মান।
B = ২য় অংক (2nd digit), ২য় ব্যান্ডের রঙের জন্য নির্দিষ্ট অংক মান।
A = 10 এর পাওয়ার (Power of 10), ৩য় ব্যান্ডের রঙের জন্য নির্দিষ্ট অংক মান।
D = টলারেন্স (Tolerance); চতুর্থ ব্যান্ডের রঙের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্ক মান।

কালার কোড রেজিস্টরের বিভিন্ন ব্যান্ডে সাধারণত যে সকল রং ব্যবহার করা হয় তাদের নাম ও মান নিচে দেওয়া হল_

কালার কোড

উপরােক্ত ছকের প্রথম ১০টি রঙের নাম ও মান ধারাবাহিকভাবে মনে রাখার জন্য নিম্নের বাক্যটি মনে রাখা যেতে পারে।
B.B. Roy of Great Britein has a Very Good Wife.
প্রদত্ত বাক্যে ব্যবহৃত শুধুমাত্র বড় হাতের অক্ষরগুলাে দ্বারা ধারাবাহিকভাবে রঙের নাম এবং 0 হতে 9 পর্যন্ত মান ধরা হয়। B(Black) B (Brown) R (Red) O (Orrange Y (Yellow) of Great (Green) Britein (Blue) has a Very (Violet) Good (Grey) Wife (White).
কালার কোড দেখে রেজিস্টরের মান নির্ণয়ের কয়েকটি উদাহরণ নিচে দেখানাে হলাে- কালার কোড

চার রং যুক্ত রেজিস্টরের মান তৃতীয় রঙের সাহায্যে অতি দ্রুত নির্ণয়ের সহজ পদ্ধতি।

(১) 0.12 থেকে 0.992 পর্যন্ত মানযুক্ত সকল রেজিস্টরের তৃতীয় রং সব সময় হবে রূপালী।
(২) 12 থেকে 92 পর্যন্ত মানযুক্ত সকল রেজিস্টরের তৃতীয় রং সব সময় হবে সােনালী ।
(৩) 102 থেকে 992 পর্যন্ত মানযুক্ত সকল রেজিস্টরের তৃতীয় রং সব সময় হবে কালাে।
(৪) 1002 থেকে 9902 পর্যন্ত মানযুক্ত সকল রেজিস্টরের তৃতীয় রং সবসময় হবে বাদামী।
(৫) 10002 থেকে 99002 (9.9K) পর্যন্ত মানযুক্ত সকল রেজিস্টরের তৃতীয় রং সব সময় হবে লাল।
(৬) 10K থেকে 99K পর্যন্ত মানযুক্ত সকল রেজিস্টরের তৃতীয় রং সব সময় হবে কমলা।
(৭) 100K থেকে 99OK পর্যন্ত মানযুক্ত সকল রেজিস্টরের তৃতীয় রং সব সময় হবে হলুদ।
(৮) 100OK(1 M) থেকে 9.9M পর্যন্ত মানযুক্ত সকল রেজিস্টরের তৃতীয় রং সব সময় হবে সবুজ।
(৯) 1OM থেকে 99M পর্যন্ত মানযুক্ত সকল রেজিস্টরের তৃতীয় রং সব সময় হবে নীল।

ক্যাপাসিটরের কালার কোড চার্ট কালার কোড
ক্যাপাসিটর

ক্যাপাসিটের মান নির্ণয় পদ্ধতি 

১। ক্যাপাসিটরের বডিতে যদি তিনটি কালার ব্যান্ড দেওয়া থাকে তবে তা থেকে ক্যাপাসিটর মান জানা যায়।
২। চারটি কালার ব্যান্ড দেওয়া থাকলে মানসহ টলারেন্স জানা যায়।
৩। পাঁচটি ব্যান্ড দেওয়া থাকলে মানসহ টলারেন্স এবং ভােল্টেজ জানা যায়।
৪। ছয়টি ব্যান্ড থেকে তাপমাত্রার সহগ ও জানা যায় –
A ব্যান্ড = ১ম ডিজিট
| B ব্যান্ড = ২য় ডিজিট
C ব্যান্ড = গুণক
D ব্যান্ড = টলারেন্স
E ব্যান্ড = ভােল্টেজ
পিন আপ ও পলিস্টার ক্যাপাসিটরের ক্ষেত্রে কানেকশন লিড দুটির বিপরীত দিক থেকে কালার কোড ব্যান্ডের গণনা শুরু করতে হবে। সিরামিক ক্যাপাসিটরের ক্ষেত্রে যে লিডের বাইরের দিকে জায়গা কম সেদিক থেকে গণণা শুরু করতে হবে। সেদিকের প্রথম রংয়ের সংখ্যাই A পাচ রং-এর ক্ষেত্রে প্রথম রংটা হবে টেম্পারের কো-এফিসিয়েন্ট।

গাণিতিক সমস্যা ও সমাধান

উদাহরণ-১ : কোন রেজিস্টরের ১ম ব্যান্ড বেগুনি, ২য় ব্যান্ড হলুদ, ৩য় ব্যান্ড কালাে ও ৪র্থ ব্যান্ডে কোন রং নেই। এর মান কত হবে?

সমাধান : বেগুনির জন্য কোড = 7 হলুদের জন্য কোড = 4 কালাের জন্য কোড = 0 বা 10° হিসেবে গুণন হবে।
৪র্থ ব্যান্ডে কোন রং নেই। অর্থাৎ টলারেন্স =±20%
∴ R = 74 x 10°± 20%
= 74 ± 20%
∴সর্বোচ্চমান = 74 + 14.8
= ৪৪.৪2 (Ans)
∴সর্বনিম্ন মান = 74 – 14.8
= 59.22 (Ans)

উদাহরণ-২ঃ একটি ক্যাপাসিটরের ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ এবং ৫ম ব্যান্ডের কালার যথাক্রমে বাদামি, সবুজ, কমলা, কালাে এবং লাল হয় তবে ক্যাপাসিটরের মান ও ভােল্টেজ রেটিং কত হবে?

সমাধান : ১ম ডিজিট = A (বাদামী) = 1,
২য় ডিজিট = B (সবুজ) = 5।
গুণক = C (কমলা) = 1000
টলারেন্স D = 20%
= 0.2
ক্যাপাসিটরের মান = 15 x 1000 P.F.
= 15000 P.F.
∴টলারেন্স = 20%
এবং ভােল্টজ রেটি = 250V.