রেকটিফায়ার কি

প্রিয় পাঠক আজকে আমরা রেকটিফায়ার কি বা কাকে বলে, এর প্রকারভেদ, গঠনপ্রণালী, কার্যপ্রণালী ও পরস্পরের মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে জানবো।

হাফ ওয়েভ রেকটিফায়ার (Half Wave Rectifier)

যে সার্কিটের মাধ্যমে-এর ইনপুটে এসি সাপ্লাইয়ের হাফ সাইকেলকে ডিসি কারেন্টে রূপান্তর করে সে সাকিটকে হাফ ওয়েভ রেকটিফায়ার বা হাফওয়েভ রেকটিফায়ার সার্কিট বলে।

গঠন প্রণালি (Construction)

নিচের (ক) চিত্রে একটি হাফ-ওয়েভ রেকটিফায়ার সার্কিট এবং (খ) চিত্রে এর ইনপুট এবং আউটপুট ওয়েভের আকৃতি দেখানাে হয়েছে। রেকটিফায়ার সার্কিটে একটি স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে লাইন ভােল্টেজের মান কমিয়ে ডায়ােডের উপযােগী কম মানের এসি সাপ্লাই প্রয়ােগ করা হয়। কারণ ইলেকট্রনিক্স
ডিভাইস যেমন- ডায়ােড, ট্রানজিস্টর ও অন্যান্য সেমি-কন্ডাকটর ডিভাইস ইত্যাদি অপেক্ষাকৃত কম ভােল্টেজে নিরাপদ। চিত্রে লােড হিসেবে একটি রেজিস্টর (R.) ব্যবহার করা হয়েছে। হাফ ওয়েভ রেকটিফায়ার

কার্যপ্রণালি (working Procedure)

ধরা যাক, ডায়ােডটি আইডিয়াল। ইনপুট এসি সিগনালের পজেটিভ হাফ-সাইকেলে ডায়ােড ফরােয়ার্ড বায়াস প্রাপ্ত হবে এবং এর মধ্য দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত হবে। ফলে লােড রেজিস্টরের আড়াআড়িতে ভােল্টেজ ড্রপ হবে এবং
রেকটিফায়ারের আউটপুটে ভােল্টেজ পাওয়া যাবে, যা ইনপুট সিগনালের পজেটিভ হাফ সাইকেলের অনুরূপ হবে ।

আবার নেগেটিভ হাফ সাইকেলে ডায়ােড রিভার্স বায়াস প্রাপ্ত হবে। ডায়ােডটি যদি আইডিয়াল হয় তবে এ অবস্থায় এর মধ্য দিয়ে কোন কারেন্ট প্রবাহিত হবে না। ফলে লােড রেজিস্টরের আড়াআড়িতে কোন ভােল্টেজ ড্রপ হবে না।
এবং রেকটিফায়ার আউটপুট ভােল্টেজ শূন্য হবে।
অতএব, দেখা যায় ইনপুট সিগনালের অর্ধেক অংশেই কেবলমাত্র আউটপুট ভােল্টেজ পাওয়া যায়, তাই একে হাফ ওয়েভ রেকটিফায়ার বলা হয়। তবে এ রেকটিফায়ারের আউটপুটে যে ভােল্টেজ পাওয়া যায় তা পুরােপুরি একমুখী

বা খাটি ডিসি নয়। এতে কিছুটা ভোল থাকে। রেকটিফায়ারের আউটপুটে প্রাপ্ত ভোল্টেজ ওয়েভ (চিত্র-খ) লক্ষ্য করলে দেখা যায় ইনপুট সিগনালের পজেটিভ হাসাইকেলে এটি সর্বোচ্চ আবার নেগেটিভ হাফ সাইকেলে শূন্য। কিন্তু খাটি ডিসি সব সময়ই একমুখী অর্থাৎ কখনাে দিক পরিবর্তন করে না। রেকটিফায়ারের আউটপুটে প্রাপ্ত এ-
ডিসিতে কিছুটা এসির প্রবণতা বা এসি উপাদান থেকে যায় । এ এসি উপাদানকে রিপল (Ripple) বলে। আর রিপল মিশ্রিত এ ডিসিকে পালসেটিং বা অবিশুদ্ধ ডিসি বলে। রেকটিফায়ারের আউটপুটে ফিল্টার সার্কিট ব্যবহার করে পালসেটিং ডিসিকে খাটি ডিসিতে পরিণত করা যায়।

সেন্টার ট্যাপড ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ার (Center Tapped Full Wave Rectifier)

যে সাকিট-এর মাধ্যমে এর ইনপুটের ফুল ওয়েভ Ac supply কে ডিসি কারেন্টে রূপান্তর করে তাকে ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ার সার্কিট বলে। এ সার্কিট তৈরির সময় ট্রান্সফরমারের সেকেন্ডারির সেন্টার পয়েন্টে একটি ট্যাপিং করে লােড রেজিস্টরকে সংযােগ করা হয় । এজন্যে এ সার্কিটকে সেন্টার টেপ ফুল ওয়েভ সার্কিট বলা হয় ।

গঠন প্রণালি (Construction)

উপরের ক-চিত্রে একটি সেন্টার ট্যাপ ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ার সার্কিট এবং খ-চিত্রে এর ইনপুট এবং আউটপুট ওয়েভের আকৃতি দেখানাে হয়েছে। এতে একটি সেন্টার ট্যাপ ট্রান্সফরমার, দু’টি ডায়ােড D1 ও D2 এবং লোড হিসেবে একটি রেজিস্টর R ব্যবহার করা হয়েছে। সেন্টার ট্যাপ ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ার সাকিট প্রকত পক্ষে দু’টি হাফ ওয়েভ রেকটিফায়ারের সমতুল্য সার্কিট । ট্রান্সফরমার সেকেন্ডারি সেন্টার ট্যাপের কারণে উভয় ডায়ােড প্রতি সাইকেলে সমান ভােল্টেজ প্রাপ্ত হয়। সেন্টার ট্যাপ রেকটিফায়ার

কার্যপ্রণালি [Working Procedure)

ইনপুট এসি সিগনালের পজেটিভ হাফ সাইকেলে ডায়ােড D এবং নেগেটিভ হাফ সাইকেলে ডায়ােড D» ফরােয়ার্ড বায়াস প্রাপ্ত হয়। পজেটিভ হাফ সাইকেলে D, যখন ফরােয়ার্ড বায়াস প্রাপ্ত হয় D; তখন রিভার্স বায়াস (নেগেটিভ হাফ সাইকেল) প্রাপ্ত হয়। এ অবস্থায় D; এর মধ্য দিয়ে কারেন্ট
প্রবাহিত হয়, যা লােড রেজিস্টরে তীর (-) চিহ্নিত দিকে প্রবাহিত হয় এবং রেকটিফায়ারের আউটপুটে ভােল্টেজ পাওয়া যায়। আবার নেগেটিভ হাফ সাইকেলে D যখন রিভার্স বায়াস প্রাপ্ত হয় D তখন ফরােয়ার্ড বায়াস (পজেটিভ
হাফ সাইকেল) প্রাপ্ত হয়। ফলে D; এর মধ্য দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত হয়, যা লােভ রেজিস্টরে পূর্বের ন্যায় একই দিকে প্রবাহিত হয় এবং রেকটিফায়ারের আউটপুটে ভােল্টেজ পাওয়া যায়।

অতএব, দেখা যায় ইনপুটে প্রয়ােগকৃত এসি সিগনালের উভয় অর্ধ সাইকেলেই লােড রেজিস্টরের মধ্য দিয়ে একই দিকে কারেন্ট প্রবাহিত হয় এবং আউটপুটে ভােল্টজ পাওয়া যায়। তাই একে ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ার বলে। এতে যে ডিসি পাওয়া যায় তাও পালসেটিং ডিসি। তবে হাফ ওয়েভ রেকটিফায়ারের তুলনায় বিশুদ্ধ।

ফুল ওয়েভ ব্রিজ রেকটিফায়ার) (Full Wave Bridge Rectifier)

সেন্টার ট্যাপ ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ারের মত ব্রিজ রেকটিফায়ারও একটি ফুল ওয়েভ রেক্টিফায়ার। তবে এতে সেন্টার ট্যাপ ট্রান্সফরমারের প্রয়ােজন পড়ে না। তাই আকারে তুলনামূলকভাবে ছােট এবং খরচও কিছুটা কম পরে।

গঠন প্রণালি (Construction)

উপরের চিত্রে একটি ব্রিজ রেকটিফায়ার সার্কিট (চিত্র-ক) এবং এর ইনপুট ও আউটপুট ওয়েভ ফরম (চিত্র-খ) ১ দেখানাে হয়েছে। ব্রিজ রেকটিফায়ারে একটি স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়। এতে চারটি ডায়োড D1, D2, D3 এবং D4 ব্যবহার করা হয়েছে। লোড হিসেবে রেজিস্টর RL ব্যবহার করা হয়েছে এবং এ লােড রেজিস্টর RL এর আড়াআড়িতে আউটপুট গ্রহণ করা হয়। ফুল ওয়েভ ব্রিজ রেকটিফায়ার

কার্যপ্রণালি (Working Procedure)

ইনপুট সিগনালের পজেটিভ হাফ সাইকেলে যখন D2 এবং D4 ফরােয়ার্ড বায়াস প্রাপ্ত হয় তখন D1 এবং D3 রিভার্স বায়াস (নেগেটিভ হাফ সাইকেল) প্রাপ্ত হয়। এ অবস্থায়  D2, D4 এবং লােড রেজিস্টরের (R) মধ্য দিয়ে তীর (→) চিহ্নিত দিকে কারেন্ট প্রবাহিত হয়। আবার নেগেটিভ হাফ সাইকেলে D2, D4 যখন রিভার্স বায়াস প্রাপ্ত হয়, D1, D3 তখন ফরােয়ার্ড বায়াস (পজেটিভ হাফ সাইকেল) প্রাপ্ত হয়। এ অবস্থায় D1, D3 এবং RL এর মধ্য দিয়ে তীর (→) চিহ্নিত দিকে কারেন্ট প্রবাহিত হয়। অতএব, দেখা যায় এতে ইনপুট সিগনালের উভয় অর্ধ সাইকেলেই লােড রেজিস্টর R এর মধ্য দিয়ে একই দিকে কারেন্ট প্রবাহিত হয় এবং আউটপুটে ভোল্টেজ পাওয়া যায়। তাই একে ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ার বলে। এ আউটপুটেও সামান্য পালসেটিং ডিসি পাওয়া যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here