বৈদ্যুতিক সার্কিটের কোন দোষ বা ত্রুটির কারণে কারেন্ট কাক্ষিত পথে প্রবাহিত না হয়ে অন্য পথে প্রবাহিত হওয়াকে বৈদ্যুতিক লাইন বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ক্রটি বা বৈদ্যুতিক ফল্ট বলে। পাওয়ার সিস্টেমে অধিকাংশ ফল সাধারণত লাইনের শর্ট সার্কিট জনিত। হঠাৎ করে লাইনের বা কোন হকুইপমেন্টের ক্ষয়ক্ষতি, বজ্রপাতজনিত ইনসুলেশন ফেইলর ইত্যাদির কারণে ফন্ট সংঘটিত হয়ে থাকে। ফল্টের ফলে যন্ত্রপাতি, লাইন এবং লাইনে সংযুক্ত সাজ-সরঞ্জাম এর মারাত্মক ক্ষতি হয়ে থাকে। সিস্টেমের ফল্ট পয়েন্টের।ভােল্টেজ এবং ফল্ট পর্যন্ত মােট ইম্পিড্যান্স বা রিয়াক্টেন্সের উপর ফল কারেন্ট এবং পাওয়ারের মান নির্ভর করে।

Electrical ত্রুটির সংজ্ঞা (Define Electrical Faults)

বৈদ্যুতিক লাইন বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে ক্রটি বলতে বৈদ্যুতিক সার্কিটের কোনাে খুঁত বা দোষ, যার কারণে কারেন্ট কাঙ্ক্ষিত পথে প্রবাহিত না হয়ে অন্য পথে এবং কাঙ্ক্ষিত মানের চেয়ে অনেক বেশি মানের কারেন্ট প্রবাহিত হওয়াকে বুঝায়।
অথবা, যখন দুই বা ততােধিক পরিবাহী স্বাভাবিক ভােল্টেজ পার্থক্যে কাজ করার সময় যদি একত্রে সংস্পর্শে আসে, তখন ফল্ট সংঘটিত হয়েছে বলা হয়।

Electrical পাওয়ার সিস্টেমে বিভিন্ন প্রকার ত্রুটি (Name the Different Types of Faults in Electrical Power System)

বৈদ্যুতিক পাওয়ার সিস্টেমে যে সকল ত্রুটি সংঘটিত হয়, তাদের মধ্যে শর্ট সার্কিট ক্রটিই অন্যতম । শর্ট সার্কিট ফল্ট প্রধানত দুই প্রকার, যথা- ১। সিমেট্রিক্যাল ফল্ট (Symmetrical Fault) ২। আনসিমেট্রিক্যাল ফল্ট (Un symmetrical Fault)

বৈদ্যুতিক পাওয়ার সিস্টেমে ফল্টের কারণ আলােচনা (Discuss the Causes of Faults in Electrical Power System)

ফল্টের কারণগুলাে নিম্নরূপ :
১। ইনসুলেশন ফেইলুর।
২। লাইনের আকস্মিক ক্ষয়ক্ষতি

৩। লাইটনিং সার্জ

৪। ভােল্টেজ ড্রপ
৫। আনব্যালেন্স এবং স্ট্যাবিলার পতন ইত্যাদি নিচে ফল্টের কারণগুলাের বর্ণনা করা হলাে-
১। ইনসুলেশন ফেইলুর : সুইচিং সার্জ (Switching Surge) বা বজ্রপাতজনিত (Lightning Stroke) কারণে উচ্চমাত্রার ভােল্টেজ বা ওভার ভােল্টেজ উৎপন্ন হয়। এই উচ্চ মাত্রার ভােল্টজ সিস্টেমের যন্ত্রপাতি ও লাইনের ইনসুলেশন দুর্বল করে দেয়। তাছাড়া ওভারহেড লাইনের ইনসুলেটরের ইনসুলেশন মাত্রারিক্ত গরম বা মাত্রাতিরিক্ত ঠাণ্ডাজনিত পীড়ন এবং মচকানাের জন্য নষ্ট হয়ে যায়। এসব কারণে কোন বৈদ্যুতিক সিস্টেমে পূর্বনির্ধারিত ইনসুলেশন শক্তির অবক্ষয় ঘটে এবং এক সময় শর্ট সার্কিটের মত মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে।

২। লাইনের আকস্মিক ক্ষয়ক্ষতি : উচ্ছ ভােল্টেজ ট্রান্সমিশন লাইন ঝড়াে হাওয়ার দরুন ছিড়ে গিয়ে বা গাছপালা পড়ে কন্ডাকটর এবং আর্থের মধ্যে অথবা কন্ডাক্টরগুলাের মধ্যে শর্ট সার্কিট হতে পারে।

৩। লাইটনিং সার্জ : বজ্র বিদ্যুৎপূর্ণ ঝড়-বৃষ্টিতে ট্রান্সমিশন লাইনে বজ্র পড়লে লাইনের ভােল্টেজ হঠাৎ বৃদ্ধি পায়, ফলে সিস্টেমে সংযুক্ত ইকুইপমেন্ট নষ্ট হতে পারে।

৪। ভােটেজ ড্রপ : অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ফিডার, বাসবার ও লাইনে ভােল্টেজ ড্রপ হলে তা সিস্টেমের জন্য ক্ষতিকর হয়।

৫। আনব্যালেন্স এবং স্ট্যাবিলিটির পতন ইত্যাদিঃ অল্টারনেটরে আর্থ ফল্ট বা ইন্টার-টার্ন ফন্টের দরুণ অথবা হঠাৎ লােডের ব্যাপক পরিবর্তনে এ ধরনের ত্রুটি হতে পারে। ফল্ট কারেন্ট বা শর্ট সার্কিট কারেন্টের মান জানা থাকলে নিম্নলিখিত সুবিধাগুলাে পাওয়া যায়-

(ক) অতি সহজে সঠিক রেটিং বিশিষ্ট সার্কিট ব্রেকার নির্বাচন করা যায়।
(খ) প্রটেক্টিভ রিলের আকার এবং ক্ষমতা নির্ধারণ করা যায়।
(গ) বিদ্যুৎ সীমিতকরণ রিয়ারের রিয়াক্টান্সের মান নিরূপন করা যায়।

বৈদ্যুতিক পাওয়ার সিস্টেমে বিভিন্ন প্রকার ত্রুটি (Desctibe Different Types of Faults in Electrical Power System)

শর্ট সার্কিট ফল্ট প্রধানত দুই প্রকার, যথা :
১। সিমেট্রিক্যাল ফল্ট (Symmetrical Fault)।
২। আনসিমেট্রিক্যাল ফল্ট (Unsymmetrical Fault)।
১। সিমেট্রিক্যাল ফল্ট (Symmetrical Fault) সিস্টেমে যে ফল্টের কারণে তিন ফেজের প্রতিটি ফেজে সমপরিমাণ ফল্ট কারেন্ট প্রবাহিত হয় এবং প্রতি ফেজেই ফল্ট কারেন্টের মধ্যে কৌণিক দূরত্ব (Phase Displacement) 120° হয়ে থাকে, সে ফল্টকে সিমেট্রিক্যাল ফল্ট বলে। প্রতি ফেজের ফল্ট কারেন্ট জানার জন্য যেকোনাে একটি ফেজের ফল্ট কারেন্ট বের করলেই চলে।
উদাহরণস্বরূপ,
(i) তিনটি ফেজ একত্রে শর্ট সার্কিট হওয়া (L-LL) এবং
(ii) তিন ফেজ একত্রে আর্থের সাথে শর্ট সার্কিট হওয় (L-L-L-G)
এ দুই প্রকার ফন্ট সিমেট্রিক্যাল ফল্ট। পাওয়ার সিস্টেমে Syrnmetrical ফল গুলাে Most Severe ফল্ট।

২। আনসিমেট্রিক্যাল ফন্ট (Unsymmetrical Fault) সিস্টেমে যে ফল্টের কারণে তিন ফেজের প্রতিটি ফেজে সমপরিমাণ কারেন্ট প্রবাহিত না হয়ে অসম পরিমাণ কারেন্ট প্রবাহিত হয় অথবা যে ফল্টের কারণে অসম ফল্ট কারেন্ট অসম কৌণিক দূরত্বে প্রবাহিত হয় (Urequal Fault currents in the lines with unequal phase displacement), তাকে আনসিমেট্রিক্যাল ফল্ট বলে। আনসিমেট্রিক্যাল ফল্ট নিম্নরূপ :
১। সিঙ্গেল লাইন টু গ্রাউন্ড ফল্ট (L-G)। ২। লাইন টু লাইন ফল্ট (L-L)। ৩। ডাবল লাইন টু গ্রাউন্ড ফল্ট (L-L-G)

Facebook Comments