অল্টারনেটর এর গঠন | Structure of Alternator

0
4733

প্রিয় পাঠক আজকে আমরা অল্টারনেটর এর গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।

অল্টারনেটর এর গঠন ব্যাখ্যা

আদর্শগত ভাবে ডিসি এবং এসি জেনারেটর একই, কারণ উভয়েই অল্টারনেটিং ই.এম.এফ উৎপন্ন করে। ডিসি জেনারেটরে অল্টারনেটিং ভোল্টেজ কম্যুটেটর এবং ব্রাশের মাধ্যমে রেকটিফাইড অর্থাৎ ডিসি ভোল্টেজে রূপান্তরিত হয়। কিন্তু এসি জেনারেটরে রেকটিফায়ার দরকার হয় না। বরং উৎপন্ন এসি ইলেক্ট্রিক এনার্জিই লোডে সরবরাহ হয়। এসি জেনারেটরকে অল্টারনেটর বলা হয়। অল্টারনেটর এর প্রধানত দুটি অংশ। ফিল্ড এবং আর্মেচার। ছোট ছোট অল্টারনেটরে ফিল্ড স্থির রেখে আর্মেচার ঘুরানো হয়

আবার বড় বড় অল্টারনেটরে আর্মেচার স্থির রেখে ফিল্ড ঘুরানো হয়। সুতরাং ফিল্ডকে রোটর এবং আর্মেচারকে স্টেটর বলে। অল্টারনেটর এর যে অংশ স্থির চুম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে তাকে ফিল্ড বলে। আর যে অংশ ভোল্টেজ উৎপন্ন করে তাকে আর্মেচার বলে। ফিল্ড বা আর্মেচারের যে কোনটি স্থির রেখে অপরটি ঘুরানো হয়। তবে বড় বড় অল্টারনেটর এর ক্ষেত্রে আর্মেচার স্থির রেখে ফিল্ড ঘুরানো হয়। এইজন্য ফিল্ডকে রোটর এবং আর্মেচারকে স্টেটর বলে।

অল্টারনেটরের প্রধান অংশের তালিকা

অল্টারনেটরে প্রধানত দুটি অংশ, ফিল্ড এবং আর্মেচার। ছোট ছোট অল্টারনেটরে ফিল্ড স্থির রেখে আর্মেচার ঘুরানো হয়। আবার বড় বড় অল্টারনেটরে আর্মেচার স্থির রেখে ফিল্ড ঘুরানো হয়। সুতরাং ফিল্ডকে রোটর এবং আর্মেচারকে স্টেটর বলে। তাই অল্টারনেটর এর প্রধানত দুটি অংশ। যথাঃ-

  1. স্টেটর বা আর্মেচার (ক) স্টেটর ফ্রেম (খ) স্টেটর কোর (গ) স্টেটর কয়েল।
  2. রোটর বা ফিল্ড (ক) স্যালিয়েন্ট পোল (খ) নন-স্যালিয়েন্ট পোল (গ) রোটর বা পোল কয়েল।
  3. এক্সাইটারঃ অল্টারনেটর এক্সাইটার ছাড়া ভোল্টেজ উৎপাদন করতে পারে না। তাই এক্সাইটারকেও অল্টারনেটরের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

স্থির আর্মেচারের সুবিধাঃ

অল্টারনেটরের আর্মেচারকে স্থির রেখে ফিল্ড ঘুরানোর সুবিধাগুলো নিম্নে প্রদত্ত হল-

  1. থ্রি-ফেজ অল্টারনেটরের ফিল্ড ঘুরন্ত হলে, ঘূর্ণায়মান ফিল্ডে ডিসি সরবরাহ দেওয়ার জন্য দুটি স্লিপ রিং হলেই চলে। অথচ আর্মেচার ঘুরন্ত হলে তিনটি স্লিপ রিং ও কার্বন ব্রাশের মাধ্যমে এসি ভোল্টেজ লোডে প্রেরণ করা হয়।
  2. বর্তমানে অল্টারনেটরের সাহায্যে ৩৩ কেভি পর্যন্ত ভোল্টেজ উৎপন্ন করা যায়। আর্মেচার ঘুরন্ত হলে উক্ত উচ্চ ভোল্টেজ স্লিপ রিং ও কার্বন ব্রাশের মাধ্যমে লোডে প্রেরণ করা খুবই কঠিন এবং বিপদজনক। অথচ ফিল্ডের ভোল্টেজ সর্বোচ্চ ৬০০ ভোল্ট পর্যন্ত।
  3. স্থির আর্মেচারের কন্ডাকটরগুলো সহজেই উচ্চ ভোল্টেজের জন্য ইনসুলেট করা যায়।
  4. হাই ভোল্টেজ উৎপন্ন করার জন্য আর্মেচারের পরিবাহীগুলো এত বেশি হয়, যে আর্মেচারের আকার আয়তন এবং ওজন বেশি হয় ফলে ঘুরন্ত আর্মেচারের জন্য অতিশক্তিশালী প্রাইমমুভারের প্রয়োজন এবং স্থাপনের জন্য ফাউন্ডেশন ও খুব মজবুত হতে হয়।
  5. আর্মেচারকে না ঘুরিয়ে ফিল্ডকে ঘুরালে সেন্ট্রিফিউগাল বলের কারণে ক্ষতির সম্ভাবনা কম থাকে।
  6. স্থির আর্মেচারকে সহজেই ঠাণ্ডা রাখা যায়।
  7. আর্মেচার স্থির হলে স্লট বা খাজের মুখ চওড়া করে এবং খাজের গভীরতা বাড়িয়ে বেশি কন্ডাকটর বসানো যায়।

স্টেটর ফ্রেম ও স্টেটর কোরের বর্ণনা

স্টেটর ফ্রেমঃ

ডিসি জেনারেটরের বডি বা ফ্রেমে পোল সংযোজন থাকে এবং এই ফ্রেমের দ্বারা ম্যাগনেটিক সার্কিট তৈরি করা হয়। ফলে ডিসি জেনারেটরের ফ্রেম খুব মজবুত হয়। আর অল্টারনেটরের ফ্রেম আর্মেচার বা স্টেটরের স্ট্যাম্পিং ও ওয়াইন্ডিং ধারণ করে। আবার কম গতি সম্পন্ন অল্টারনেটরের ব্যাস খুব বেশি হয় ফলে ফ্রেমে গর্ত করে সহজেই ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে কুলিং বা ঠাণ্ডা করা যায়।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য ত্যাগ করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন।
দয়া করে, আপনার নাম এখানে লিখুন