শরীরে কর্মক্ষমতা যতদিন থাকে; ততদিনই তো চাকরি করে যেতে হয়। বরং এটাই স্বাভাবিক। যদিও মাঝে মাঝে ক্লান্তি এসে যায়। ফলে বলা যায়, সফলতার সঙ্গে দীর্ঘদিন চাকরি করা একটি চ্যালেঞ্জের বিষয়। তাই দীর্ঘদিন ভালোভাবে চাকরি করতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। আসুন জেনে নেই নিয়মগুলো সম্পর্কে-

ইতিবাচক থাকুন:

বেশিরভাগ চাকরিজীবীর একধরনের মানসিক অস্বস্তি থাকে। এছাড়া প্রতিদিনের রুটিন ওয়ার্কও একঘেয়ে হয়ে যেতে পারে। এসব বিষয় থেকে মুক্ত থাকতে ইতিবাচক থাকতে হবে। কাজ থেকে আনন্দ খুঁজে নিতে শিখুন। যে পদ্ধতিতে আরাম খুঁজে পাবেন, সেটি প্রতিদিন ব্যবহার করুন। নির্দিষ্ট সময় পরপর নতুন পদ্ধতি খুঁজে নিন।

প্রতিদিন শিখুন:

প্রায়ই চাকরিজীবীরা নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করেন না। এ মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসুন। কাজকে সহজ করার জন্য প্রতিদিন কিছু একটা শেখার চেষ্টা করুন। কাজের ফাঁকে নিজের কাজ বিষয়ে কিছু জানার চেষ্টা করুন। টেকনিক্যাল জ্ঞান বাড়ানোর জন্য প্রযুক্তি বিষয়ে খোঁজখবর নিন। যত শিখবেন; ততই বৈচিত্রপূর্ণভাবে কাজ করতে পারবেন।

ভালো চর্চা করুন:

প্রত্যেকেই তার মতো করে সৃষ্টিশীল। চাকরি শুরুর আগে সৃষ্টিশীল যা করতেন, চাকরির ফাঁকে ফাঁকে সেগুলোর চর্চা অব্যাহত রাখুন। যেমন- গান করতে পারলে অবসরে গান করুন, লেখালেখি করতে পারলে তার চর্চা করুন। অবসর সময় খুঁজে বের করুন।


পরিবারকে সময় দিন:

নিজের পরিবারকে সময় দিন। ব্যাচেলর হলে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে মিশুন, আড্ডা দিন, ঘুরতে যান। পরিবার থেকে দূরে থাকলে অবশ্যই নিয়ম করে তাদের সঙ্গে কথা বলুন। দেখবেন বেশ ফুরফুরে লাগবে।

অফিস ও ব্যক্তিজীবন আলাদা:

অফিস এবং ব্যক্তিগত জীবনকে এক করবেন না। মনে রাখবেন, অফিসে আপনি কাজ করতে যান। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে আপনার যা কিছু, সেটা একান্তই আপনার। এখানে আপনি যা করেন, ভালোবেসে করেন। কাজেই অফিসের কাজকে যতদূর সম্ভব অফিসে রেখে যান। এতে মানসিক শান্তি পাবেন।

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার:

সোশ্যাল মিডিয়া এখন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু এটি আপনার কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশ নষ্ট করে। এখান থেকে যে তথ্য পান, তার কতটুকু কাজে লাগে? তাই এটি ব্যবহারে সচেতন থাকুন। তাই অফিসের সময় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার না করা ভালো। অফিসে শুধু যোগাযোগ বা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করুন।

ছুটি কাটান:

প্রয়োজনে অফিসে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি কাজ করুন। আবার নিজের নির্ধারিত ছুটিগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করুন। বোনাস বা ওভারটাইমের আশায় ছুটি নষ্ট করবেন না। নতুন কোন জায়গায় ঘুরতে যেতে পারেন। নিজের প্রয়োজনীয় কাজগুলো ঠিকভাবে শেষ করতে পারেন। পরিবারকে সময় দিতে পারেন। কিছু না করেও শুধু ঘুমিয়ে কাটাতে পারেন। দেখবেন ছুটি শেষে আপনি তরতাজা। কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবেন আগের চেয়েও বেশি।

সুত্রঃ জাগোজবস

Facebook Comments