সিঙ্গেল ফেজ মোটর গতিনিয়ন্ত্রণ

0
108

প্রিয় পাঠক আজকে আমরা জানবো কিভাবে বা কি কি পদ্ধতি অবলম্বন করে সিঙ্গেল ফেজ মোটর গতিনিয়ন্ত্রণ করা যায়।

যে কোন মোটরের স্পিড কন্ট্রোল বলতে নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে উক্ত মোটরের গতিবেগ পরিবর্তন করা বুঝায়। মোটর শ্যাফট বা রোটরের সাথে যুক্ত লোড পরিবর্তনের ফলে স্বভাবতই মোটর স্পিডে কিছু পরিবর্তন আসে। এরূপ প্রযুক্ত লোড কম-বেশি করে মোটর স্পিডের পরিবর্তন কোন অর্থেই যুক্তগ্রাহ্য হতে পারে না। বরং লোড যুক্ত মোটরের গতিবেগ প্রয়োজন মাফিক পরিবর্তন তথা নিয়ন্ত্রণের বিবেচ্য বিষয় হওয়া সঙ্গত।

একটি সিঙ্গেল ফেজ মোটরের স্পিড কন্ট্রোল মেকানিজম সর্বোতভাবে নির্ভর করে তার ধরণ ও বৈশিষ্ট্যের উপর। লোডের প্রকৃতি অনুযায়ী কখনও নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে মোটর স্পিড কন্ট্রোল করতে হয়। আবার কখনও দুই বা ততোধিক ফিক্সড স্পিড এর প্রয়োজন হয়। কাজেই ভিন্ন ভিন্ন মোটরের স্পিড কন্ট্রোলিং ও ভিন্ন ভিন্ন। সিঙ্গেল ফেজ বা তিনফেজ মোটরের গতিবেগ পোল এবং ফ্রিকোয়েন্সির উপর নির্ভরশীল মোটরের গতিবেগ পোলের সাথে উল্টানুপাতিক এবং ফ্রিকুয়েন্সির সাথে সমানুপাতিক।

সুতরাং ফ্রিকুয়েন্সি পরিবর্তন করে মোটরের গতিবেগ পরিবর্তন করা যায়। কিন্তু সাপ্লাই ফ্রিকুয়েন্সি স্থির বিধায় পোল পরিবর্তন করে মোটরের গতিবেগ পরিবর্তন করা যায়। পোল পরিবর্তন করতে হলে স্টেটরে একাধিক ওয়াইন্ডিং বিশিষ্ট ভিন্ন ভিন্ন পোল ব্যবহার করা হয়।



আবার স্টেটর ভোল্টেজ এবং ফ্লাক্স বা ফ্লাক্স ডেনসিটি পরিবর্তন করেও মোটরের গতিবেগ পরিবর্তন করা যায়। এখানে উল্লেখ যে স্টেটর ভোল্টেজের হ্রাস বৃদ্ধিতে যথাক্রমে মোটরের গতিবেগ হ্রাস বৃদ্ধি হয়। তবে ফ্লাক্সের সাথে মোটরের গতিবেগ উল্টানুপাতিক বিধায় ফ্লাক্সের হ্রাস বৃদ্ধিতে মোটরের গতিবেগ যথাক্রমে বাড়ে এবং কমে।

সিঙ্গেল ফেজ মোটরের গতি নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গুলো বর্ণনা 

সাপ্লাই ভোল্টেজ পরিবর্তন করে

স্টেটরের সরবরাহ ভোল্টেজ পরিবর্তন করলে মোটরের গতিবেগ পরিবর্তন হয়। ভোল্টেজ রেগুলেটর স্টেটরের সাথে সংযোগ করে সাপ্লাই ভোল্টেজ পরিবর্তন করা যায়। রেগুলেটরের সাহায্যে স্টেটরে কম ভোল্টেজ প্রয়োগ করলে মোটরের গতিবেগ কমে এবং বেশি ভোল্টেজ প্রয়োগ করলে গতিবেগ বৃদ্ধি পায়। খুব বেশি ভোল্টেজ পরিবর্তনে গতির পরিবর্তন খুব কম পাওয়া যায় এবং ফ্লাক্স ডেনসিটির পরিবর্তন খুব বেশি হয়। এ কারণে এই পদ্ধতি বাস্তবে খুব কম ব্যবহার করা হয়।

ফ্রিকুয়েন্সি পরিবর্তন করে

আমরা জানি, মোটরের সিনক্রোনাস গতিবেগ Ns=120f/P আবার রোটরের গতিবেগ, Nr=Ns(1-S) অর্থাৎ ফ্রিকুয়েন্সি বৃদ্ধির সাথে সাথে মোটরের গতিবেগ বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ সাপ্লাই ভোল্টেজের ফ্রিকুয়েন্সি পরিবর্তন করে মোটরের গতিবেগ পরিবর্তন বা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। দুটি উপায়ে মোটরের সাপ্লাই ভোল্টেজের ফ্রিকুয়েন্সি পরিবর্তন করা যায়।

পোল সংখ্যা পরিবর্তন করে

স্টেটর পোল সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে মোটরের গতিবেগ কমে যায়। আর স্টেটর পোল সংখ্যা পরিবর্তন করতে হলে স্টেটরে দুটি বা তার অধিক স্টেটর ওয়াইন্ডিং করা দরকার। সুতরাং সিঙ্গেল ফেজ মোটরের রানিং ওয়াইন্ডিং ২টি বা তার অধিক এবং স্টার্টিং ওয়াইন্ডিং ২ টি বা তার বেশি করা প্রয়োজন। এর প্রয়োগ বাস্তবে খুব কম দেখা যায়।


আর্মেচার রেজিস্ট্যান্স মেথড

এই পদ্ধতিতে গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য মোটরের সাথে সিরিজে একটি পরিবর্তনশীল রেজিস্ট্যান্স সংযোগ করা হয়। সাধারণত এসি সিরিজ মোটর বা ইউনিভারসেল মোটরের গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। নিচের চিত্রে একটি আর্মেচার রেজিস্ট্যান্স বা সিরিজ রেজিস্ট্যান্স পদ্ধতিতে সিরিজ মোটরের গতি নিয়ন্ত্রণের সার্কিট ডায়াগ্রাম দেখানো হল। সিরিজ রেজিস্ট্যান্স “R” এর মান পরিবর্তন করলে এতে ভোল্টেজ ড্রপ কম বেশি হয় ফলে আর্মেচার ভোল্টেজের পরিবর্তন হয়। সুতরাং মোটরের গতিবেগেরও পরিবর্তন হয়।

ট্যাপিং ফিল্ড পদ্ধতি

ট্যাপিং ফিল্ড পদ্ধতির সাহায্যে গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সিরিজ ফিল্ড ওয়াইন্ডিং এ কয়েকটি ট্যাপিং পয়েন্ট থাকে। ফিল্ড এর ট্যাপিং পরিবর্তন করলে চুম্বকীয় বল রেখার হ্রাস বৃদ্ধির সাথে মোটরের গতিবেগেও যথাক্রমে বেশি এবং কম হয়। বৈদ্যুতিক গাড়িতে যেখানে স্বাভাবিক এর চেয়ে বেশি গতিবেগের প্রয়োজন সেই মোটরে এই ট্যাপিং ফিল্ড পদ্ধতিতে গতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

প্রিয় পাঠক উপরে উল্লেখিত পদ্ধতি অবলম্বন করে সিঙ্গেল ফেজ মোটর এর গতিনিয়ন্ত্রণ করা যায়।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য ত্যাগ করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন।
দয়া করে, আপনার নাম এখানে লিখুন