এসি কমুটেটর মোটর

0
118

প্রিয় পাঠক আজকে আমরা এসি কম্যুটেটর মোটর সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। এসি কমুটেটর মোটর বিভিন্ন রকমের হয়। এই মোটরের গঠনশৈলী, বৈশিষ্ট্যতা ও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন। কলকারখানা বা গৃহস্থালির কাজে সাধারণত যেসব মোটর ব্যবহার করা হয়, সেগুলো হচ্ছে–

  • কম্পেনসেটেড ইন্ডাকশন মোটর
  • শ্রেজ মোটর
  • স্টেটর-ফেজ কম্যুটেটর মোটর
  • থ্রি-ফেজ সিরিজ মোটর
  • সিঙ্গেল ফেজ মোটর
  • রিপালশন মোটর ইত্যাদি।

এসি কম্যুটেটর মোটর একটি শান্ট টাইপ, ব্রাশ স্থানান্তর যোগ্য থ্রি-ফেজ কম্যুটেটর ইন্ডাকশন মোটর। এসি কম্যুটেটর মোটরের রোটরে থ্রি-ফেজ এসি সরবরাহ করা হয়। এই মোটরের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং পাওয়ার ফ্যাক্টর উন্নতির কাজে ব্যবহার করা হয়। নিম্নে গঠন চিত্র দেখানো হলঃ-

এসি কম্যুটেটর মোটরে তিনটি ওয়াইন্ডিং থাকে। (ক) প্রাইমারি ওয়াইন্ডিং (খ) সেকেন্ডারি ওয়াইন্ডিং (গ) রেগুলেটিং ওয়াইন্ডিং। এদের মধ্যে প্রাইমারি ও রেগুলেটিং ওয়াইন্ডিং রোটর স্লটে বসানো হয় এবং সেকেন্ডারি ওয়াইন্ডিং স্টেটর স্লটে বসানো হয়।

(ক) প্রাইমারি ওয়াইন্ডিংঃ এই ওয়াইন্ডিং রোটর স্লটের নিচে বসানো হয় এবং এতে স্লিপ রিং ও ব্রাশের সাহায্যে থ্রি ফেজ লাইন ভোল্টেজ সরবরাহ দেওয়া হয়। প্রাইমারি ওয়াইন্ডিং মেশিনে কার্যকরী ফ্লাক্স তৈরি করে।



(খ) রেগুলেটিং ওয়াইন্ডিংঃ রোটর স্লটের উপরিভাগে রেগুলেটিং ওয়াইন্ডিং করা হয় এবং এটা ডিসি মোটরের আর্মেচার ওয়াইন্ডিং এর ন্যায় কম্যুটেটরের সাথে সংযুক্ত থাকে।

(গ) সেকেন্ডারি ওয়াইন্ডিংঃ সেকেন্ডারি ওয়াইন্ডিং স্টেটর স্লটে বসানো হয়। প্রতি ফেজের প্রান্ত এক এক জোড়া ব্রাশের সংযোগ করা হয়। এই ব্রাশ গুলো কম্যুটেটর এর উপর সেট করা থাকে। ব্রাশ গুলো দুটি ব্রাশ রকারে বসানো হয়। রকারদ্বয় পরস্পর আলাদা থাকে এবং প্রয়োজনের সময় বিপরীত দিকে ঘোরে।

এসি কম্যুটেটর মোটর কাজের অপারেশনের মূলনীতিঃ

এসি কম্যুটেটর মোটরের প্রাইমারিতে যখন থ্রি-ফেজ সরবরাহ দেওয়া হয় তখন রেগুলেটিং ওয়াইন্ডিং ট্রান্সফরমারের অ্যাকশন অনুযায়ী ভোল্টেজ উৎপন্ন হয়। ফলে রেগুলেটিং ওয়াইন্ডিং এর ফ্রিকুয়েন্সি লাইন ফ্রিকুয়েন্সির সমান হয়। আর সেকেন্ডারি ওয়াইন্ডিং এ থ্রি-ফেজ ইন্ডাকশন মোটরের ন্যায় ভোল্টেজ উৎপন্ন হয়। এই মোটরে কম্যুটেটর একটি ফ্রিকুয়েন্সি কনভার্টার হিসাবে কাজ করে যা রেগুলেটিং ওয়াইন্ডিং এর লাইন ফ্রিকুয়েন্সিকে স্লিপ ফ্রিকুয়েন্সিতে রূপান্তর করে স্টেটর ওয়াইন্ডিং এ প্রয়োগ করে।

যে কোন জোড়া ব্রাশ যেমন A1 ও A2 যত দূরে যাবে তত তাদের মধ্যে ভোল্টেজ বৃদ্ধি পাবে। তবে এরা একত্রে থাকলে তাদের মধ্যে ভোল্টেজ শুন্য হয়। সুতরাং সেকেন্ডারিতে ইনজেকটেড ভোল্টেজের মান প্রতি জোড়া ব্রাশের দূরত্বের উপর নির্ভর করে। এসি কম্যুটেটর মোটরের রোটরে থ্রি-ফেজ সরবরাহ দিয়ে একে সিনক্রোনাস গতিতে ঘুরিয়ে দিলে সেকেন্ডারি ওয়াইন্ডিং এর তুলনায় রোটর ফিল্ড স্থির মনে হবে এবং স্টেটরে কোন ভোল্টেজ উৎপন্ন হবে না।

এই অবস্থায় রেগুলেটিং ওয়াইন্ডিং ডিসি আর্মেচারের ন্যায় কাজ করবে ফলে সেকেন্ডারি ওয়াইন্ডিং এ কম্যুটেটর এর মাধ্যমে ডিসি প্রবাহিত হবে এবং এসি কম্যুটেটর মোটর সিনক্রোনাস মোটর হিসেবে কাজ করবে।

কম্যুটেটর মোটরের প্রয়োগ ক্ষেত্র

  • ডিসি শান্ট মোটরের ন্যায় কনস্ট্যান্ট স্পিড মোটর হিসেবে এই মোটরের সমধিক ব্যবহার রয়েছে।
  • যে সকল লোডের ক্ষেত্রে পরিবর্তনশীল গতিবেগের দরকার হয়, সে সকল ক্ষেত্রেও এসি কম্যুটেটর মোটর ব্যবহৃত হয়।
  • প্রয়োজনে এই মোটর সিনক্রোনাস মোটর হিসাবেও ব্যবহার করা যায়।
  • ইলেকট্রিক্যাল লোডের পাওয়ার ফ্যাক্টর উন্নয়নের কাজে ও এসি কম্যুটেটর মোটর ব্যবহার করা যায় উচ্চগতি সম্পন্ন লিফট, ফ্যান, পাম্প, প্রিন্টিং প্রেস, পালভারাইড ফুয়েল বার্নার, স্টোকার এবং টেক্সটাইল মেশিনে এসি কম্যুটেটর মোটরের ব্যবহার দেখা যায়।



কম্যুটেটর মোটরের সুবিধা-অসুবিধা

সুবিধাঃ
  • ব্রাশ পজিশন পরিবর্তন করে সহজেই মোটরের গতিবেগ পরিবর্তন করা যায়।
  • একই মোটরকে ইন্ডাকশন মোটর, সিনক্রোনাস মোটর এবং ডিসি শান্ট মোটর হিসাবে পরিচালনা করা যায়।
  • স্টার্টিং টর্ক খুব বেশি বিধায় ভারি লোড পরিচালনায় এ মোটর বিশেষভাবে উপযোগী।
  • স্লিপ রিং মোটরের তুলনায় এর কর্মদক্ষতা অনেক বেশি হয়।
  • হাই স্পিড সেটিং এ পাওয়ার ফ্যাক্টর ও দক্ষতা উচ্চ মানের হয়।
অসুবিধাঃ
  • লো-স্পিড সেটিং এ পাওয়ার ফ্যাক্টর ও দক্ষতা নিম্নমানের হয়।
  • মোটর অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
  • কম্যুটেশন সাধারণত নিম্ন মানের হয়।
  • অপারেটিং ভোল্টেজ ৭০০ ভোল্ট এর মধ্যে সীমিত রাখা হয়।
Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য ত্যাগ করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন।
দয়া করে, আপনার নাম এখানে লিখুন