বাংলাদেশ বিদ্যুৎ বিধি

সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে বাড়ছে বিদ্যুৎ শক্তির ব্যাপক ব্যবহার। কাজেই মানুষের জীবনযাত্রা নির্বাহে বিদ্যুৎ শক্তিকে স্বাচ্ছন্দে ও নিরাপদে ব্যবহারের জন্য বিধিবদ্ধ কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়, যাতে কোন দুর্ঘটনা না ঘটে। সর্বোপরি বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদির সর্বাপেক্ষা সন্তোষজনক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য জনস্বার্থে কিছু বিধি-বিধান অনুসৃত হয়। এ বিধি গুলোই মূলত বৈদ্যুতিক আইন নামে পরিচিত। বাংলাদেশেও কিছু বিদ্যুৎ আইন রয়েছে যা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ বিধি বা আইন নামে পরিচিত।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ওয়ারিং-এ অনুসৃত বিধিসমূহ

  • যে কোন ব্যবস্থাপনায় সরবরাহ লাইনের প্রবেশ মুখে একফেজ ও থ্রি ফেজ এ ক্ষেত্রে যথাক্রমে ডাবল পোল ও ত্রিপল পোল বিশিষ্ট প্রয়োজনীয় কারেন্ট রেটিং সম্পন্ন মেইন সুইচ ও সাবমেইন সুইচ বসাতে হবে।
  • কোন আর্থ লাইনের সাথে কোন প্রকার সুইচ, সার্কিট ব্রেকার অথবা ফিউজ ব্যবহার করা যাবে না।
  • নিরাপদে প্রতিটি লোডে কারেন্ট প্রবাহের জন্য প্রয়োজনীয় রেটিং সম্পন্ন ও উপযুক্ত মানের ক্যাবল ব্যবহার করতে হবে।
  • প্রতিটি সাব সার্কিট এর জন্য ডিস্ট্রিবিউশন ফিউজ বাল্ব ব্যবহার করতে হবে। ফিউজকে অবশ্যই ফেজ তারের সংযোগ করতে হবে।
  • সুইচবোর্ড সাধারণত মেঝে থেকে ১.২৫ মিটার উপরে থাকবে।
  • বাথরুমে ইনকেনডিসেন্ট ল্যাম্প বা অন্য কোনো আউটলেট ১.৩ মিটার এর নিচে হওয়া উচিৎ নয় এবং সাধারণ রুমে আউটলেট গুলো ২.৫ মিটার উপরে ঝুলতে হবে।
  • পাওয়ার সাব সার্কিট ১৫ অ্যাম্পিয়ার রেটিং এর সকেট ও লাইটিং সাব সার্কিটে ৫ অ্যাম্পিয়ার এর সকেট ব্যবহার করতে হবে।
  • লাইটিং সাব সার্কিটে ৮০০ ওয়াট সর্বোচ্চ লোড এবং মোট ১০ টি পয়েন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • পাওয়ার সাব সার্কিটে সর্বোচ্চ ৩০০০ ওয়াট লোডের বেশি এবং ২ টি সকেট পয়েন্টের বেশি ব্যবহার করা যাবে না।
  • প্রতিটি সার্কিট অথবা যন্ত্রপাতি আলাদা আলাদা সুইচ দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।



  • থ্রি ফেজ চার তার স্থাপনায় সকল ফেজে সমানভাবে লোড বণ্টন করতে হবে।
  • নিরাপদ উপায়ে আর্থিং করতে হবে।
  • ফিউজ বা সার্কিট ব্রেকারের সাহায্যে প্রতিটি সাব সার্কিটের নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করতে হবে।
  • সকল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, উপকেন্দ্র সুইচিং স্টেশন গুলো বিদ্যুৎ প্রবাহজনিত আগুন নেভানোর উপযোগী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকতে হবে।
  • যে কোন ওয়্যারিং শেষে সরবরাহ দেওয়ার পূর্বে সকল প্রকার টেষ্ট অর্থাৎ আর্থ টেস্ট, কন্টিনিউটি টেস্ট, ইনসুলেশন টেস্ট ইত্যাদি করে নিতে হবে।
  • বিদ্যুৎ ব্যবহারে সব সময় সকল ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হতে হবে এবং বিদ্যুৎ বিল যথাসময় পরিশোধ করতে হবে।

বৈদ্যুতিক বিধির গুরুত্ব

বিদ্যুতের ব্যবহার মানুষের জিবনযাত্রাকে সব দিক থেকে উন্নত থেকে উন্নততর করে তুলেছে। জীবনকে সহজ করা ছাড়াও বৃদ্ধি পেয়েছে মানুষের জীবনের গতি কর্মময় সময়ের ব্যাপ্ত এবং বৃদ্ধি পেয়েছে আরাম প্রতি ব্যবস্থায়। বিদ্যুৎ ছাড়া মানুষের বর্তমান জীবন সম্পূর্ণ অচল এবং সেই সাথে স্থবির হয়ে পড়বে বর্তমান সভ্যতা।

আবার সেই বিদ্যুতের ভুল প্রয়োগ জীবনকে করে তোলে বিপদাপন্ন, মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বর্ণনাতীত ক্ষতি। বিদ্যুৎ ব্যবহারের এই সমস্ত ঝুকিকে এড়িয়ে চলার জন্য বৈদ্যুতিক বিধি প্রবর্তিত হয়েছে। বিধি অনুসারে বিদ্যুতের ব্যবহার নিশ্চিত করলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের যে কোন ঝুকি এড়িয়ে চলা সম্ভব।

বিদ্যুৎ বিধি মেনে চললে যে সমস্ত বিপদ এড়িয়ে চলা যায়
  1. বৈদ্যুতিক শক থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
  2. বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার ঝুকি হতে নিরাপদ থাকা যায়।
  3. বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির সন্তোষজনক ব্যবহার করা যায়।
  4. আগুন লাগার ঝুকি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা যায়।
  5. বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।

আমাদের সবার উচিত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ বিধি মেনে বাসাবাড়ি, কারখানা, স্কুল-কলেজ, দোকান পাঠ ইত্যাদি জায়গায় ওয়্যারিং করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here